সংবাদ

বালু লুট বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন


প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ এএম

বালু লুট বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে প্রশাসনের অভিযান ও মামলা হলেও বালু তোলা বন্ধ হচ্ছে না। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ বালু তোলার প্রতিবাদকারীদেরই মামলায় আসামি করা হচ্ছে। প্রভাবশালী চক্রের হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেলা নদীর সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর পাড় কেটে বালু তুলছে। এ কাজে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের করা একটি মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের মধ্যে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ বাসিন্দারাও রয়েছেন, যাদের অনেকেই বালু তোলার বিরোধিতা করেছেন।

অবৈধ বালু তোলা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নদীর পাড় কেটে বালু তোলা হলে ভাঙন বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতভিটা, কৃষিজমি ও স্থানীয় জনপদ। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে থাকা অর্থদাতা, ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রকদেরও শনাক্ত করতে হবে।

অভিযানের খবর আগেই অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা দরকার। বালু মজুতের স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালুর উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বলাও সমর্থনযোগ্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বালু লুট বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে প্রশাসনের অভিযান ও মামলা হলেও বালু তোলা বন্ধ হচ্ছে না। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ বালু তোলার প্রতিবাদকারীদেরই মামলায় আসামি করা হচ্ছে। প্রভাবশালী চক্রের হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেলা নদীর সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর পাড় কেটে বালু তুলছে। এ কাজে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের করা একটি মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের মধ্যে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ বাসিন্দারাও রয়েছেন, যাদের অনেকেই বালু তোলার বিরোধিতা করেছেন।

অবৈধ বালু তোলা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নদীর পাড় কেটে বালু তোলা হলে ভাঙন বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতভিটা, কৃষিজমি ও স্থানীয় জনপদ। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে থাকা অর্থদাতা, ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রকদেরও শনাক্ত করতে হবে।

অভিযানের খবর আগেই অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা দরকার। বালু মজুতের স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালুর উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বলাও সমর্থনযোগ্য নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত