সংবাদ

‘দেশে আরও ১৩০ ফায়ার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

‘দেশে আরও ১৩০ ফায়ার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা’

দেশের ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে নতুন করে আরও ১৩০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

শনিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর এই সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কোনো স্টেশন স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জমি অধিগ্রহণ, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কক্সবাজারের ইনানী ও সাজেকের মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দূরবর্তী অবস্থানের কারণে উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে মহাপরিচালক জানান, সাজেকে ইতিমধ্যে একটি স্যাটেলাইট স্টেশন চালু করা হয়েছে।

বিদ্যমান বিভিন্ন স্টেশন থেকে কিছু জনবল ও সরঞ্জামের অংশবিশেষ পাঠিয়ে এটি চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে বলেন, ‘স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, এটা অপর্যাপ্ত। আরও বেশি কিছু করা দরকার। আরও শক্তিশালী করা দরকার। তবে, এটা হুটহাট হবে না, একটু সময় লাগবে।’

সাজেকে গত বছর কিছু রিসোর্ট পুড়ে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকরা ইনানী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে তিনি জানান, স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান জনবল ও সরঞ্জামের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শপিং কমপ্লেক্স, হোটেল-রিসোর্ট এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, এক্ষেত্রে জনসচেতনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে আবাসিক ভবনের নিচে দোকানপাট ও হোটেল পাশাপাশি গড়ে ওঠায় বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগুনের সূত্রপাতের সময় তা সাধারণত ছোট পরিসরে থাকে। শুরুতেই সতর্ক হলে আগুনের বড় আকার ধারণ করা ঠেকানো সম্ভব।’

পর্যটন এলাকায় সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকে প্রায়ই আগুন লাগার মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটে থাকে, যা এড়াতে পর্যটকসহ দেশের আপামর জনসাধারণকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছে। পরিশেষে তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, শুধু ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, বরং বিদ্যমান জনবল ও সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের আরও বেশি গতিশীল হয়ে কাজ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


‘দেশে আরও ১৩০ ফায়ার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা’

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে নতুন করে আরও ১৩০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

শনিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর এই সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কোনো স্টেশন স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জমি অধিগ্রহণ, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কক্সবাজারের ইনানী ও সাজেকের মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দূরবর্তী অবস্থানের কারণে উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে মহাপরিচালক জানান, সাজেকে ইতিমধ্যে একটি স্যাটেলাইট স্টেশন চালু করা হয়েছে।

বিদ্যমান বিভিন্ন স্টেশন থেকে কিছু জনবল ও সরঞ্জামের অংশবিশেষ পাঠিয়ে এটি চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে বলেন, ‘স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, এটা অপর্যাপ্ত। আরও বেশি কিছু করা দরকার। আরও শক্তিশালী করা দরকার। তবে, এটা হুটহাট হবে না, একটু সময় লাগবে।’

সাজেকে গত বছর কিছু রিসোর্ট পুড়ে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকরা ইনানী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে তিনি জানান, স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান জনবল ও সরঞ্জামের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শপিং কমপ্লেক্স, হোটেল-রিসোর্ট এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, এক্ষেত্রে জনসচেতনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে আবাসিক ভবনের নিচে দোকানপাট ও হোটেল পাশাপাশি গড়ে ওঠায় বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগুনের সূত্রপাতের সময় তা সাধারণত ছোট পরিসরে থাকে। শুরুতেই সতর্ক হলে আগুনের বড় আকার ধারণ করা ঠেকানো সম্ভব।’

পর্যটন এলাকায় সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকে প্রায়ই আগুন লাগার মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটে থাকে, যা এড়াতে পর্যটকসহ দেশের আপামর জনসাধারণকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছে। পরিশেষে তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, শুধু ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, বরং বিদ্যমান জনবল ও সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের আরও বেশি গতিশীল হয়ে কাজ করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত