সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের লক ভেঙে কনটেইনার সরানোর চেষ্টা


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের লক ভেঙে কনটেইনার সরানোর চেষ্টা
ছবি : সংবাদ

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কায়িক পরীক্ষার জন্য বিশেষ লক করা একটি সন্দেহজনক কনটেইনারের মূল সিল ভেঙে তা বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অপচেষ্টা ভণ্ডুল হয়ে গেছে। ভুয়া সিল ব্যবহার এবং কাস্টমসের একাধিক বদলি হওয়া কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে এই জালিয়াতির চেষ্টা চালানো হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে পুরান ঢাকার চকবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'কাফ করপোরেশন' এবং তাদের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ (C&F) এজেন্ট জড়িত বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কাস্টমস কর্মকর্তাদের সতর্কতায় এই নজিরবিহীন জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপরই চালানযুক্ত কনটেইনারটি কাস্টমসের নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয় এবং বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী কায়িক পরীক্ষার আগে কনটেইনারটির বিল অব লেডিংয়ে (বি/এল) থাকা কাস্টমসের মূল ও ইউনিক সিল ভেঙে সেখানে একটি ভুয়া সিল লাগানো হয়েছিল। আমদানি করা প্রতিটি কনটেইনারের জন্য কাস্টমসের নির্দিষ্ট ইউনিক লক নম্বর থাকে, যা বিল অব লেডিংয়ের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নির্ধারিত কায়িক পরীক্ষার সময় তথ্যে অসংগতি ধরা পড়ায় পুরো অপকৌশলটি ভেস্তে যায়।

ঘটনাটিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আমদানি কার্যক্রমে এক বিরল ও মারাত্মক জালিয়াতি হিসেবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। কাস্টমসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্যটি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের জালিয়াতির পেছনে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কিংবা কাস্টমস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কোনো অসাধু চক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে তদন্তের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই নিশ্চিত হওয়া যাবে কীভাবে কাস্টমসের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।’  

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই বড় ধরনের জালিয়াত চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের লক ভেঙে কনটেইনার সরানোর চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কায়িক পরীক্ষার জন্য বিশেষ লক করা একটি সন্দেহজনক কনটেইনারের মূল সিল ভেঙে তা বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অপচেষ্টা ভণ্ডুল হয়ে গেছে। ভুয়া সিল ব্যবহার এবং কাস্টমসের একাধিক বদলি হওয়া কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে এই জালিয়াতির চেষ্টা চালানো হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে পুরান ঢাকার চকবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'কাফ করপোরেশন' এবং তাদের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ (C&F) এজেন্ট জড়িত বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কাস্টমস কর্মকর্তাদের সতর্কতায় এই নজিরবিহীন জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপরই চালানযুক্ত কনটেইনারটি কাস্টমসের নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয় এবং বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী কায়িক পরীক্ষার আগে কনটেইনারটির বিল অব লেডিংয়ে (বি/এল) থাকা কাস্টমসের মূল ও ইউনিক সিল ভেঙে সেখানে একটি ভুয়া সিল লাগানো হয়েছিল। আমদানি করা প্রতিটি কনটেইনারের জন্য কাস্টমসের নির্দিষ্ট ইউনিক লক নম্বর থাকে, যা বিল অব লেডিংয়ের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নির্ধারিত কায়িক পরীক্ষার সময় তথ্যে অসংগতি ধরা পড়ায় পুরো অপকৌশলটি ভেস্তে যায়।

ঘটনাটিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আমদানি কার্যক্রমে এক বিরল ও মারাত্মক জালিয়াতি হিসেবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। কাস্টমসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্যটি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের জালিয়াতির পেছনে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কিংবা কাস্টমস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কোনো অসাধু চক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে তদন্তের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই নিশ্চিত হওয়া যাবে কীভাবে কাস্টমসের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।’  

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই বড় ধরনের জালিয়াত চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত