ফুটবলের সবুজ গালিচায় একের পর এক ইতিহাস গড়ে বিশ্বকে বিমোহিত করেছেন লিওনেল মেসি। এবার বিজ্ঞানের রঙিন দুনিয়াতেও নিজের অনবদ্য ও অনন্য স্বীকৃতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি মহাতারকা।
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত মিন্ট বা পুদিনা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি নতুন ঔষধি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’ (Salvia messii)। এর মধ্য দিয়ে মেসির নামে নামকরণ করা প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে, যা তাঁর নিজেরই গড়া গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে ও শুষ্ক ঢালু এলাকায় জন্মানো এই উদ্ভিদের ফুলের রং হালকা নীল ও সাদা, যা আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে এক অপূর্ব মিল তৈরি করেছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সান মার্কোসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের পল গনজালেসের নেতৃত্বে গবেষকেরা গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন। নতুন এই রোমাঞ্চকর আবিষ্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষক দলটি অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।
নতুন এই গাছটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দিতে গিয়ে গবেষক রোলান্দো উরিয়া ও জীববিজ্ঞানী জ্যঁ কাপচা-রামোস জানান, "আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে এই উদ্ভিদের ফুলের রঙের গভীর মিল এবং দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা ফুটবলারের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়ের এই অনন্য যোগসূত্রই এই নামকরণের প্রধান প্রেরণা।"
নতুন এই দারুণ স্বীকৃতির পাশাপাশি গভীর উদ্বেগের বিষয়টি হলো, গবেষকেরা ‘সালভিয়া মেসি’ প্রজাতিটিকে বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। পরিবেশবিদদের মতে, প্রকৃতির চরম প্রতিকূলতায় টিকে থাকা এই বিরল উদ্ভিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
পূর্বে মেসির নামে একটি ইগুয়ানিয়ান টিকটিকি, মাটির নিচে থাকা মাকড়সা, দুটি প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম এবং একটি বিরল ছত্রাকের নামকরণ করা হয়েছিল। এবার নতুন উদ্ভিদ যুক্ত হওয়ায় প্রাণী, জীবাশ্ম, ছত্রাক ও উদ্ভিদের এক অসাধারণ বৈচিত্র্য তৈরি হলো। ফুটবল মাঠে ব্যালন ডি'অরজয়ী মেসি যেমন অনন্য, ঠিক তেমনি বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও তাঁর নাম জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
ফুটবলের সবুজ গালিচায় একের পর এক ইতিহাস গড়ে বিশ্বকে বিমোহিত করেছেন লিওনেল মেসি। এবার বিজ্ঞানের রঙিন দুনিয়াতেও নিজের অনবদ্য ও অনন্য স্বীকৃতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি মহাতারকা।
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত মিন্ট বা পুদিনা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি নতুন ঔষধি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’ (Salvia messii)। এর মধ্য দিয়ে মেসির নামে নামকরণ করা প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে, যা তাঁর নিজেরই গড়া গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে ও শুষ্ক ঢালু এলাকায় জন্মানো এই উদ্ভিদের ফুলের রং হালকা নীল ও সাদা, যা আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে এক অপূর্ব মিল তৈরি করেছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সান মার্কোসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের পল গনজালেসের নেতৃত্বে গবেষকেরা গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন। নতুন এই রোমাঞ্চকর আবিষ্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষক দলটি অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।
নতুন এই গাছটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দিতে গিয়ে গবেষক রোলান্দো উরিয়া ও জীববিজ্ঞানী জ্যঁ কাপচা-রামোস জানান, "আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে এই উদ্ভিদের ফুলের রঙের গভীর মিল এবং দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা ফুটবলারের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়ের এই অনন্য যোগসূত্রই এই নামকরণের প্রধান প্রেরণা।"
নতুন এই দারুণ স্বীকৃতির পাশাপাশি গভীর উদ্বেগের বিষয়টি হলো, গবেষকেরা ‘সালভিয়া মেসি’ প্রজাতিটিকে বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। পরিবেশবিদদের মতে, প্রকৃতির চরম প্রতিকূলতায় টিকে থাকা এই বিরল উদ্ভিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
পূর্বে মেসির নামে একটি ইগুয়ানিয়ান টিকটিকি, মাটির নিচে থাকা মাকড়সা, দুটি প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম এবং একটি বিরল ছত্রাকের নামকরণ করা হয়েছিল। এবার নতুন উদ্ভিদ যুক্ত হওয়ায় প্রাণী, জীবাশ্ম, ছত্রাক ও উদ্ভিদের এক অসাধারণ বৈচিত্র্য তৈরি হলো। ফুটবল মাঠে ব্যালন ডি'অরজয়ী মেসি যেমন অনন্য, ঠিক তেমনি বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও তাঁর নাম জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন