চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চীন থেকে আমদানি করা ‘রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড’-এর একটি যন্ত্রপাতির চালান খালাসে শুল্কায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
চালানটির পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, এইচএস কোড (HS Code) এবং রেয়াতি শুল্কসুবিধা গ্রহণের বৈধতা নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সূত্র থেকে এ প্রশ্ন তোলা হয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কড়ইতলী এলাকার 'রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড' চালানটির আমদানিকারক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ডাইনামিক ফ্রেইট সিস্টেম নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি (নম্বর: সি-১২২৫৮১৬) দাখিল করে।
নথির তথ্য অনুযায়ী, এমভি 'এমসিসি ইয়াংগন' জাহাজে চীন থেকে পৌঁছানো চালানটির ঘোষিত মূল্য ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৮২ মার্কিন ডলার। ইনভয়েসে পণ্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছে 'BNCM for Poultry Farm (Layer House) (Plant)'।
অভিযোগ রয়েছে, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এসআরও নম্বর ১৯১-আইন/২০২৫/১৩/কাস্টমস (তারিখ: ২৯ মে ২০২৫)-এর আওতায় রেয়াতি সুবিধা নিয়ে চালানটি খালাস করা হয়। তবে নিবন্ধিত হাঁস-মুরগির খামারের উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত এসআরও ২৪৪-আইন/২০২৬/৭৪/কাস্টমস (তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬)-এর শর্তাবলি মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারিগরি বিবরণী ও এইচএস কোড পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা না করে শুল্কায়ন করায় সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. তারেক মাহমুদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ডাইনামিক ফ্রেইট সিস্টেমের প্রতিনিধি তাপস মজুমদার বলেন, ‘আমরা আমদানিকারকের দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিস্তারিত কাস্টমস ও আমদানিকারক বলতে পারবেন।’
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, চালানের নথি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপর্যায় থেকে দ্রুত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে সরেজমিনে পণ্যের কারিগরি বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য ও রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ পাবে।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চীন থেকে আমদানি করা ‘রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড’-এর একটি যন্ত্রপাতির চালান খালাসে শুল্কায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
চালানটির পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, এইচএস কোড (HS Code) এবং রেয়াতি শুল্কসুবিধা গ্রহণের বৈধতা নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সূত্র থেকে এ প্রশ্ন তোলা হয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কড়ইতলী এলাকার 'রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড' চালানটির আমদানিকারক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ডাইনামিক ফ্রেইট সিস্টেম নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি (নম্বর: সি-১২২৫৮১৬) দাখিল করে।
নথির তথ্য অনুযায়ী, এমভি 'এমসিসি ইয়াংগন' জাহাজে চীন থেকে পৌঁছানো চালানটির ঘোষিত মূল্য ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৮২ মার্কিন ডলার। ইনভয়েসে পণ্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছে 'BNCM for Poultry Farm (Layer House) (Plant)'।
অভিযোগ রয়েছে, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এসআরও নম্বর ১৯১-আইন/২০২৫/১৩/কাস্টমস (তারিখ: ২৯ মে ২০২৫)-এর আওতায় রেয়াতি সুবিধা নিয়ে চালানটি খালাস করা হয়। তবে নিবন্ধিত হাঁস-মুরগির খামারের উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত এসআরও ২৪৪-আইন/২০২৬/৭৪/কাস্টমস (তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬)-এর শর্তাবলি মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারিগরি বিবরণী ও এইচএস কোড পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা না করে শুল্কায়ন করায় সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. তারেক মাহমুদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ডাইনামিক ফ্রেইট সিস্টেমের প্রতিনিধি তাপস মজুমদার বলেন, ‘আমরা আমদানিকারকের দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিস্তারিত কাস্টমস ও আমদানিকারক বলতে পারবেন।’
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, চালানের নথি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপর্যায় থেকে দ্রুত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে সরেজমিনে পণ্যের কারিগরি বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য ও রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ পাবে।

আপনার মতামত লিখুন