পিরোজপুরের নেছারাবাদে পরিবারসহ দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে খেয়াট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর রিনা বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে নাজিরপুর উপজেলার মধুরাবাদ খালে ভেসে ওঠে তাঁর মরদেহ।
এর আগে দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছিল তার ৯ বছর বয়সী মেয়ে অর্পিতা বেপারীর মরদেহ। স্ত্রী ও মেয়েকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন শংকর বেপারী। আনন্দের আনন্দঘন সন্ধ্যা মুহূর্তেই তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
এদিকে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর ও নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন। তাদের উদ্যোগে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে নেছারাবাদের ভরতকাঠি এলাকার বেপারীবাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ। এর আগে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও শোকাহত পরিবার পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে স্ত্রী রিনা বেপারী ও মেয়ে অর্পিতাকে নিয়ে শ্রীরামকাঠিতে দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন শংকর বেপারী। রাতে বাড়ি ফেরার জন্য তারা ভরতকাঠি খেয়াঘাটগামী একটি ট্রলারে ওঠেন। স্থানীয়দের দাবি, ছোট ওই ট্রলারটিতে ৮০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল তোলা হয়েছিল।
যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত যাত্রীর ভারে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়। এ সময় যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করেন। শংকর বেপারী কোনোমতে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন তার স্ত্রী ও মেয়ে। দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় শিশু অর্পিতার মরদেহ। তবে নিখোঁজ ছিলেন রিনা বেপারী। অবশেষে বুধবার সকালে নাজিরপুরের মধুরাবাদ খালে তার ভাসমান মরদেহ মেলে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ভরতকাঠি-শ্রীরামকাঠি খেয়াঘাটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামমাত্র ইজারা নেওয়ার পর সাইদুল ইসলাম নামের এক যুবক ঘাটটি পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দিনে ঘাটে সাইদুলের দুটি খেয়াসহ আরও সাত থেকে আটটি খেয়া চলাচল করে। তবে রাত ৮টার পর মিরাজ নামের এক যুবকের মাধ্যমে মাত্র একটি খেয়া চালানো হয়। দুর্গাপূজার মতো ব্যস্ত সময়েও রাতে অতিরিক্ত খেয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেল বহন এবং পর্যাপ্ত খেয়া না রাখাই এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তাঁরা ঘাটের ইজারা ও পরিচালনব্যবস্থা তদন্ত করে ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে খেয়া পরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে সাধারণত যাত্রী থাকে না, তাই একটি খেয়া চলে।’
তবে দুর্গাপূজার মতো উৎসবে বাড়তি যাত্রীর চাপ থাকা সত্ত্বেও কেন অতিরিক্ত খেয়া রাখা হয়নি—সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর। প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা পরিবারটির পাশে থাকব।’

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুরের নেছারাবাদে পরিবারসহ দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে খেয়াট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর রিনা বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে নাজিরপুর উপজেলার মধুরাবাদ খালে ভেসে ওঠে তাঁর মরদেহ।
এর আগে দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছিল তার ৯ বছর বয়সী মেয়ে অর্পিতা বেপারীর মরদেহ। স্ত্রী ও মেয়েকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন শংকর বেপারী। আনন্দের আনন্দঘন সন্ধ্যা মুহূর্তেই তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
এদিকে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর ও নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন। তাদের উদ্যোগে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে নেছারাবাদের ভরতকাঠি এলাকার বেপারীবাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ। এর আগে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও শোকাহত পরিবার পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে স্ত্রী রিনা বেপারী ও মেয়ে অর্পিতাকে নিয়ে শ্রীরামকাঠিতে দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন শংকর বেপারী। রাতে বাড়ি ফেরার জন্য তারা ভরতকাঠি খেয়াঘাটগামী একটি ট্রলারে ওঠেন। স্থানীয়দের দাবি, ছোট ওই ট্রলারটিতে ৮০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল তোলা হয়েছিল।
যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত যাত্রীর ভারে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়। এ সময় যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করেন। শংকর বেপারী কোনোমতে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন তার স্ত্রী ও মেয়ে। দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় শিশু অর্পিতার মরদেহ। তবে নিখোঁজ ছিলেন রিনা বেপারী। অবশেষে বুধবার সকালে নাজিরপুরের মধুরাবাদ খালে তার ভাসমান মরদেহ মেলে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ভরতকাঠি-শ্রীরামকাঠি খেয়াঘাটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামমাত্র ইজারা নেওয়ার পর সাইদুল ইসলাম নামের এক যুবক ঘাটটি পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দিনে ঘাটে সাইদুলের দুটি খেয়াসহ আরও সাত থেকে আটটি খেয়া চলাচল করে। তবে রাত ৮টার পর মিরাজ নামের এক যুবকের মাধ্যমে মাত্র একটি খেয়া চালানো হয়। দুর্গাপূজার মতো ব্যস্ত সময়েও রাতে অতিরিক্ত খেয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেল বহন এবং পর্যাপ্ত খেয়া না রাখাই এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তাঁরা ঘাটের ইজারা ও পরিচালনব্যবস্থা তদন্ত করে ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে খেয়া পরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে সাধারণত যাত্রী থাকে না, তাই একটি খেয়া চলে।’
তবে দুর্গাপূজার মতো উৎসবে বাড়তি যাত্রীর চাপ থাকা সত্ত্বেও কেন অতিরিক্ত খেয়া রাখা হয়নি—সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর। প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা পরিবারটির পাশে থাকব।’

আপনার মতামত লিখুন