সংবাদ

রাঙ্গাবালীর ৭১ প্রাথমিকের ৫৬টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক


প্রতিনিধি, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রতিনিধি, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

রাঙ্গাবালীর ৭১ প্রাথমিকের ৫৬টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক
প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক সংকটে ভেঙে পড়েছে রাঙ্গাবালির শিক্ষা ব্যবস্থা।

‎পটুয়াখালীর উপকূলাঞ্চলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে রয়েছেন নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। বাকি ৫৬টি স্কুলেই দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য। এর মধ্যে ২৩টিতে সহকারী শিক্ষকেরা ‘চলতি দায়িত্ব’ এবং ৩৩টিতে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে প্রশাসনিক চাকা সচল রাখার চেষ্টা করছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের একাগ্র পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে। এতে একদিকে যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে শিক্ষার মান, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অচলাবস্থা। এ অবস্থায় দ্রুত শূন্য পদ পূরণের জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা।

উপজেলার চর বেষ্টিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রায় সাড়ে তিনশো শিক্ষার্থী থাকলেও কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র তিনজন। রাজিব মিয়া নামের এক সহকারী শিক্ষক প্রায় দেড় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজিব মিয়া বলেন, “কোনো কারণে একজন শিক্ষক বাইরে বা ছুটিতে থাকলে মাত্র দুজন দিয়ে পাঠদান চালাতে হয়। ফলে কোনো না কোনো একটি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। দাপ্তরিক ঝক্কি সামলে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

অনুরূপ সংকটের কথা জানান নয়া ভাংগুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. লিমন আনসারী। তিনি জানান, উপজেলার বিশাল সংখ্যক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রশাসনিক চাপ ও সরাসরি পাঠদানের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষকেরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের এই বেহাল দশায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শিশু শিক্ষার্থীদেরও। চর হালিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলে, “আমাদের স্কুলে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। নিয়মিত ক্লাসও হয় না। আমরা চাই দ্রুত আমাদের স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক দেওয়া হোক, যাতে আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারি।”

একই বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন দুলু ও চতলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ওবাইদুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কায়ক্লেশে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলেও শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত গুণগত মান বজায় রাখা দুঃসাধ্য। কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

‎‎​বিষয়টি স্বীকার করে পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ করিম জানান, আইনি জটিলতা ও মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতি এবং নতুন নিয়োগ স্থগিত ছিল। তবে বর্তমানে সেই আইনি বাধাসমূহ নিরসন হয়েছে।​

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা দ্রুততম সময়ে পদোন্নতির মাধ্যমে এই শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে গ্রেডেশন তালিকাসহ আনুষঙ্গিক সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকা দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে পদোন্নতির মাধ্যমে সংকট কাটে যাবে বলে আশা করছি।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


রাঙ্গাবালীর ৭১ প্রাথমিকের ৫৬টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎পটুয়াখালীর উপকূলাঞ্চলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে রয়েছেন নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। বাকি ৫৬টি স্কুলেই দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য। এর মধ্যে ২৩টিতে সহকারী শিক্ষকেরা ‘চলতি দায়িত্ব’ এবং ৩৩টিতে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে প্রশাসনিক চাকা সচল রাখার চেষ্টা করছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের একাগ্র পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে। এতে একদিকে যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে শিক্ষার মান, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অচলাবস্থা। এ অবস্থায় দ্রুত শূন্য পদ পূরণের জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা।

উপজেলার চর বেষ্টিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রায় সাড়ে তিনশো শিক্ষার্থী থাকলেও কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র তিনজন। রাজিব মিয়া নামের এক সহকারী শিক্ষক প্রায় দেড় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজিব মিয়া বলেন, “কোনো কারণে একজন শিক্ষক বাইরে বা ছুটিতে থাকলে মাত্র দুজন দিয়ে পাঠদান চালাতে হয়। ফলে কোনো না কোনো একটি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। দাপ্তরিক ঝক্কি সামলে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

অনুরূপ সংকটের কথা জানান নয়া ভাংগুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. লিমন আনসারী। তিনি জানান, উপজেলার বিশাল সংখ্যক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রশাসনিক চাপ ও সরাসরি পাঠদানের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষকেরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের এই বেহাল দশায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শিশু শিক্ষার্থীদেরও। চর হালিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলে, “আমাদের স্কুলে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। নিয়মিত ক্লাসও হয় না। আমরা চাই দ্রুত আমাদের স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক দেওয়া হোক, যাতে আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারি।”

একই বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন দুলু ও চতলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ওবাইদুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কায়ক্লেশে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলেও শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত গুণগত মান বজায় রাখা দুঃসাধ্য। কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

‎‎​বিষয়টি স্বীকার করে পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ করিম জানান, আইনি জটিলতা ও মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতি এবং নতুন নিয়োগ স্থগিত ছিল। তবে বর্তমানে সেই আইনি বাধাসমূহ নিরসন হয়েছে।​

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা দ্রুততম সময়ে পদোন্নতির মাধ্যমে এই শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে গ্রেডেশন তালিকাসহ আনুষঙ্গিক সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকা দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে পদোন্নতির মাধ্যমে সংকট কাটে যাবে বলে আশা করছি।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত