সংবাদ

যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ৫ এমপির


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ৫ এমপির
যশোরে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। ছবি : সংবাদ

যশোরে সারের ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের মিলনায়তনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত তালিকা থেকে সারের ডিলারদের নাম উল্লেখ করে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি দলের উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জেলা বিএনপির নেতাদের সহায়তায় অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সারের ডিলারের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এমপিরা অভিযোগ করেন, যশোরের পাঁচটি আসনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের পরামর্শ বা সুপারিশের কোনো মূল্যায়ন করেননি জেলা প্রশাসক। বরং তিনি জেলা বিএনপির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এতে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি, মাদকসহ আটক ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরামপুর ও চৌগাছা উপজেলার উদাহরণ টেনে বলা হয়, মনিরামপুরের মফিজুর রহমান মফিজের ছেলে মাসুদ পারভেজ রুবেল, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত মোলাম আলী এবং বিএনপি নেতাদের আত্মীয়রা ডিলারশিপ পেয়েছেন। এমনকি দোকান না থাকা সত্ত্বেও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, ‘সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে এমপিদের কোনো নাম রাখা হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আমি জেলা প্রশাসককে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন আমাদের সুপারিশকৃত কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি? জবাবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তিনি সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন এই ডিলারশিপ বিএনপি ছাড়া কেউ পাবে না, কারণ তারা ১৫ বছর নির্যাতিত হয়েছে। তবে কি এই ১৫ বছর ধরে কেবল বিএনপিই নির্যাতিত হয়েছে? যশোরে ১২০০ মামলায় জামায়াতের হাজার হাজার কর্মী নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল-সৎ, দক্ষ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়া হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে ডিলার নিয়োগে এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘তাদের অভিযোগ অসঙ্গত। এটা সত্য যে আমাদের নেতাকর্মীরা বেশি আবেদন করেছিলেন এবং অনেকে পেয়েছেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করেছে জেলা প্রশাসন। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য না হলে কেউ ডিলারশিপ পাননি। বিরোধী দল হিসেবে বিরোধিতা করার খাতিরেই জামায়াত এই সংবাদ সম্মেলন করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী এবং প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ৫ এমপির

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যশোরে সারের ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের মিলনায়তনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত তালিকা থেকে সারের ডিলারদের নাম উল্লেখ করে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি দলের উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জেলা বিএনপির নেতাদের সহায়তায় অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সারের ডিলারের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এমপিরা অভিযোগ করেন, যশোরের পাঁচটি আসনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের পরামর্শ বা সুপারিশের কোনো মূল্যায়ন করেননি জেলা প্রশাসক। বরং তিনি জেলা বিএনপির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এতে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি, মাদকসহ আটক ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরামপুর ও চৌগাছা উপজেলার উদাহরণ টেনে বলা হয়, মনিরামপুরের মফিজুর রহমান মফিজের ছেলে মাসুদ পারভেজ রুবেল, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত মোলাম আলী এবং বিএনপি নেতাদের আত্মীয়রা ডিলারশিপ পেয়েছেন। এমনকি দোকান না থাকা সত্ত্বেও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, ‘সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে এমপিদের কোনো নাম রাখা হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আমি জেলা প্রশাসককে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন আমাদের সুপারিশকৃত কাউকে কমিটিতে রাখা হয়নি? জবাবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তিনি সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন এই ডিলারশিপ বিএনপি ছাড়া কেউ পাবে না, কারণ তারা ১৫ বছর নির্যাতিত হয়েছে। তবে কি এই ১৫ বছর ধরে কেবল বিএনপিই নির্যাতিত হয়েছে? যশোরে ১২০০ মামলায় জামায়াতের হাজার হাজার কর্মী নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল-সৎ, দক্ষ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়া হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে ডিলার নিয়োগে এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘তাদের অভিযোগ অসঙ্গত। এটা সত্য যে আমাদের নেতাকর্মীরা বেশি আবেদন করেছিলেন এবং অনেকে পেয়েছেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করেছে জেলা প্রশাসন। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য না হলে কেউ ডিলারশিপ পাননি। বিরোধী দল হিসেবে বিরোধিতা করার খাতিরেই জামায়াত এই সংবাদ সম্মেলন করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী এবং প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত