সংবাদ

চট্টগ্রামে খাদ্যশস্যের মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

চট্টগ্রামে খাদ্যশস্যের মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ
ছবি : সংবাদ

চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধান, চাল ও গম সংরক্ষণের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পর্যাপ্ত সংগ্রহ এবং আমদানি বৃদ্ধির ফলে এই নতুন রেকর্ড গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ইতিহাসে এটি একটি বড় মাইলফলক।

খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩টি কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ গুদাম (সিএসডি), ১০৬টি স্থানীয় সংরক্ষণ গুদাম (এলএসডি) এবং ৪টি আধুনিক সাইলোর মোট ধারণক্ষমতা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮ মেট্রিক টন। তবে গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এসব গুদামে মোট ৫ লাখ ১২ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত মোট ধারণক্ষমতার চেয়েও ৩৩ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন বেশি খাদ্যশস্য গুদামগুলোতে স্থান পেয়েছে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম নগরীসহ খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সমতল ভূমির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে এ অঞ্চলে বিশেষ খাদ্য সরবরাহ পরিকল্পনা নেওয়া হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খাদ্যশস্য এনে চট্টগ্রামে মজুদ করার পাশাপাশি আমদানিকৃত চালের প্রায় ৬০ শতাংশই খালাস হয় এই অঞ্চলের বন্দর দিয়ে। ফলে খাদ্যশস্য গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণে চট্টগ্রাম বিভাগ সর্বদাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে পতেঙ্গায় ১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি চালু হলে এই অঞ্চলে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডির সম্মিলিত কার্যকর ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫২ মেট্রিক টন হলেও সেখানে মজুদ ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৪১ মেট্রিক টন - যা ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায়৭১ হাজার ৮৯ মেট্রিক টন বেশি। পাশাপাশি জেলার ১৫টি এলএসডিতে আরও ১৬ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংরক্ষিত ছিল।

সম্প্রতি সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম চট্টগ্রামের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও মজুদ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য চট্টগ্রাম সফর করেন। তিনি পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন আধুনিক সাইলো এবং দেওয়ানহাট ও হালিশহরের সিএসডি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জি এম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘দেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস থেকে পর্যাপ্ত আপৎকালীন খাদ্য মজুদ গড়ে তুলছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং রবি, আউশ ও আমন - তিন মৌসুমেই বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশের কৃষি উৎপাদনের সব সূচক ইতিবাচক রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হওয়া দেশের জন্য একটি বড় অর্জন।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম নাজের হোসাইন এই অর্জনকে স্বস্তিদায়ক উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় কাজ। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যসহায়তা এবং দুর্যোগকালে জরুরি খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এই মজুদ সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু গুদামে খাদ্য জমা রাখাই যথেষ্ট নয়; সঠিকভাবে সংরক্ষণ, নিয়মিত গুণগত মান পরীক্ষা এবং সময়মতো দ্রুত বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।’ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামে খাদ্যশস্যের মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধান, চাল ও গম সংরক্ষণের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পর্যাপ্ত সংগ্রহ এবং আমদানি বৃদ্ধির ফলে এই নতুন রেকর্ড গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ইতিহাসে এটি একটি বড় মাইলফলক।

খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩টি কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ গুদাম (সিএসডি), ১০৬টি স্থানীয় সংরক্ষণ গুদাম (এলএসডি) এবং ৪টি আধুনিক সাইলোর মোট ধারণক্ষমতা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮ মেট্রিক টন। তবে গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এসব গুদামে মোট ৫ লাখ ১২ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত মোট ধারণক্ষমতার চেয়েও ৩৩ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন বেশি খাদ্যশস্য গুদামগুলোতে স্থান পেয়েছে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম নগরীসহ খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সমতল ভূমির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে এ অঞ্চলে বিশেষ খাদ্য সরবরাহ পরিকল্পনা নেওয়া হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খাদ্যশস্য এনে চট্টগ্রামে মজুদ করার পাশাপাশি আমদানিকৃত চালের প্রায় ৬০ শতাংশই খালাস হয় এই অঞ্চলের বন্দর দিয়ে। ফলে খাদ্যশস্য গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণে চট্টগ্রাম বিভাগ সর্বদাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে পতেঙ্গায় ১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি চালু হলে এই অঞ্চলে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডির সম্মিলিত কার্যকর ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫২ মেট্রিক টন হলেও সেখানে মজুদ ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৪১ মেট্রিক টন - যা ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায়৭১ হাজার ৮৯ মেট্রিক টন বেশি। পাশাপাশি জেলার ১৫টি এলএসডিতে আরও ১৬ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংরক্ষিত ছিল।

সম্প্রতি সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম চট্টগ্রামের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও মজুদ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য চট্টগ্রাম সফর করেন। তিনি পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন আধুনিক সাইলো এবং দেওয়ানহাট ও হালিশহরের সিএসডি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জি এম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘দেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস থেকে পর্যাপ্ত আপৎকালীন খাদ্য মজুদ গড়ে তুলছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং রবি, আউশ ও আমন - তিন মৌসুমেই বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশের কৃষি উৎপাদনের সব সূচক ইতিবাচক রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হওয়া দেশের জন্য একটি বড় অর্জন।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম নাজের হোসাইন এই অর্জনকে স্বস্তিদায়ক উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় কাজ। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যসহায়তা এবং দুর্যোগকালে জরুরি খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এই মজুদ সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু গুদামে খাদ্য জমা রাখাই যথেষ্ট নয়; সঠিকভাবে সংরক্ষণ, নিয়মিত গুণগত মান পরীক্ষা এবং সময়মতো দ্রুত বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।’ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত