‘এই শাপলা লাগবে, শাপলা’–একটানা এই হাঁক ডেকে ভোলার লালমোহনের পথে পথে ঘুরে শাপলা বিক্রি করেন আব্দুল বারেক পাটোয়ারী। বিল থেকে শাপলা তোলা আর আশপাশের বাগান থেকে শাকসবজি কুড়িয়ে বিক্রি করাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। তবে প্রাত্যহিক এই হাড়ভাঙা খাটুনির পরও শ্রমের ন্যায্য মূল্য মেলে না তার; মেলানো যায় না সংসারের ন্যূনতম হিসাব।
আব্দুল বারেক পাটোয়ারীর বাড়ি ভোলার লালমোহন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজ শেষেই হাতে কাস্তে ও দড়ি নিয়ে বিলের দিকে ছোটে পা বাড়ান তিনি। বুকসমান পানিতে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুব সাঁতার দিয়ে শাপলা সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন। এরপর দ্রুত গোসল সেরে সেই শাপলার আঁটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাজারে। শাপলার মৌসুম না থাকলে ঘুরে ঘুরে শাক বিক্রি করেন।
কঠোর এই পরিশ্রম শেষে দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রি হয়। কিন্তু বাজারে যাওয়া-আসার গাড়িভাড়াতেই চলে যায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ফলে দিনশেষে যে সামান্য টাকা অবশিষ্ট থাকে, তা নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।
পরিবারে ছেলে, ছেলের বউ, নাতনিসহ সদস্যসংখ্যা সাত থেকে আটজন। এই সামান্য টাকায় চাল-ডাল আর রান্নার আনুষঙ্গিক জোগাতেই হিমশিম অবস্থা। বারেক পাটোয়ারী আক্ষেপ করে বলেন, 'এক মুঠা শাপলা তুলতে বুকের পানি এক করতে হয়। বাজারে আইসা ১৫-২০ টাকা চাইলে মানুষ ১০ টাকা দিতে চায়। এত কষ্টের শাপলা, কিন্তু রক্তের ঘামের দাম পাই না।'
সরকারি চাল বা সামাজিক সুরক্ষার ভাতা পান কি না জানতে চাইলে তিনি স্বাবলম্বী ঢঙে বলেন, 'আওয়ামী লীগের আমলেও কিচ্ছু পাই নাই, এই আমলেও পাই না। কাজ করি, খাই। ত্রাণের আসায় বইসা থাকি না।'
ভোলায় বারেক পাটোয়ারীর মতো আরও অনেক শ্রমজীবী মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে জীবিকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দিনশেষে পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে না পেরে চরম কষ্টে কাটছে তাদের জীবন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই প্রান্তিক পরিশ্রমী মানুষদের শ্রমের মূল্য ও সরকারি সুরক্ষা সুবিধার সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
‘এই শাপলা লাগবে, শাপলা’–একটানা এই হাঁক ডেকে ভোলার লালমোহনের পথে পথে ঘুরে শাপলা বিক্রি করেন আব্দুল বারেক পাটোয়ারী। বিল থেকে শাপলা তোলা আর আশপাশের বাগান থেকে শাকসবজি কুড়িয়ে বিক্রি করাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। তবে প্রাত্যহিক এই হাড়ভাঙা খাটুনির পরও শ্রমের ন্যায্য মূল্য মেলে না তার; মেলানো যায় না সংসারের ন্যূনতম হিসাব।
আব্দুল বারেক পাটোয়ারীর বাড়ি ভোলার লালমোহন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজ শেষেই হাতে কাস্তে ও দড়ি নিয়ে বিলের দিকে ছোটে পা বাড়ান তিনি। বুকসমান পানিতে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুব সাঁতার দিয়ে শাপলা সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন। এরপর দ্রুত গোসল সেরে সেই শাপলার আঁটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাজারে। শাপলার মৌসুম না থাকলে ঘুরে ঘুরে শাক বিক্রি করেন।
কঠোর এই পরিশ্রম শেষে দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রি হয়। কিন্তু বাজারে যাওয়া-আসার গাড়িভাড়াতেই চলে যায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ফলে দিনশেষে যে সামান্য টাকা অবশিষ্ট থাকে, তা নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।
পরিবারে ছেলে, ছেলের বউ, নাতনিসহ সদস্যসংখ্যা সাত থেকে আটজন। এই সামান্য টাকায় চাল-ডাল আর রান্নার আনুষঙ্গিক জোগাতেই হিমশিম অবস্থা। বারেক পাটোয়ারী আক্ষেপ করে বলেন, 'এক মুঠা শাপলা তুলতে বুকের পানি এক করতে হয়। বাজারে আইসা ১৫-২০ টাকা চাইলে মানুষ ১০ টাকা দিতে চায়। এত কষ্টের শাপলা, কিন্তু রক্তের ঘামের দাম পাই না।'
সরকারি চাল বা সামাজিক সুরক্ষার ভাতা পান কি না জানতে চাইলে তিনি স্বাবলম্বী ঢঙে বলেন, 'আওয়ামী লীগের আমলেও কিচ্ছু পাই নাই, এই আমলেও পাই না। কাজ করি, খাই। ত্রাণের আসায় বইসা থাকি না।'
ভোলায় বারেক পাটোয়ারীর মতো আরও অনেক শ্রমজীবী মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে জীবিকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দিনশেষে পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে না পেরে চরম কষ্টে কাটছে তাদের জীবন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই প্রান্তিক পরিশ্রমী মানুষদের শ্রমের মূল্য ও সরকারি সুরক্ষা সুবিধার সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন