ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে মালিকপক্ষের স্বেচ্ছাচারী ‘রোটেশন প্রথা’র গ্যাঁড়াকলে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত নিয়ম তোয়াক্কা না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে লঞ্চমালিকদের বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে রোটেশন পদ্ধতির আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশের পাশাপাশি অবিলম্বে তা বাতিল করে স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে প্রতিদিন তিনটি কোম্পানির (এমভি কর্ণফুলী, এমভি টিপু ও এমভি তাসরিফ) লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রুট পারমিট নেওয়া রয়েছে। শুরুতে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল করলেও কিছুদিন পর থেকে নিজেদের সুবিধামতো পারস্পরিক সমঝোতায় রোটেশন পদ্ধতি চালু করেন মালিকেরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম উপেক্ষা করে মালিকপক্ষ একেক দিন একেক কোম্পানির লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে। এতে দৈনিক লঞ্চের সংখ্যা কমে কৃত্রিম যাত্রীসংকট সৃষ্টি হয়। ফলে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকার যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি জরুরি প্রয়োজনে কেবিন ও সিট না পেয়ে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিনের সিডিউলে তিন কোম্পানির লঞ্চ যাতায়াত করার কথা থাকলেও মালিকেরা তা মানছেন না। এই রোটেশন প্রথা কি যাত্রীসেবার জন্য, নাকি যাত্রীদের জিম্মি করে কেবিন ফাঁদ পেতে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য?” তিনি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত কেবিন শেষ দেখালেই পরে কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা ছোট কেবিন অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য করা হয়।
আছলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কেবিন বুকিং করতে না পেরে টানা সরকারি ছুটিতেও পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। এমন অনিয়মের অবসান ও জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।
তবে লঞ্চমালিকদের দাবি, পদ্মা সেতু চালুর পর ভোলা–বরিশাল হয়ে সড়কপথে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হওয়ায় নৌপথে প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী কমে গেছে। ফলে প্রতিদিন সব লঞ্চ চালালে বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়। সেই লোকসান এড়াতেই মূলত রোটেশন প্রথা চালু রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, “লঞ্চমালিকদের ব্যবসায়িক লোকসানের যুক্তি যেমন আছে, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। মালিকদের সংকটের দায় যেন নিরীহ যাত্রীদের ওপর এসে না পড়ে, সে বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
এদিকে রোটেশন পদ্ধতিকে বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নম্বর আব্দুল বাছেদ ইতিমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, এ প্রথার কারণে যাত্রীসেবার সুস্থ প্রতিযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে মালিকপক্ষের স্বেচ্ছাচারী ‘রোটেশন প্রথা’র গ্যাঁড়াকলে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত নিয়ম তোয়াক্কা না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে লঞ্চমালিকদের বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে রোটেশন পদ্ধতির আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশের পাশাপাশি অবিলম্বে তা বাতিল করে স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে প্রতিদিন তিনটি কোম্পানির (এমভি কর্ণফুলী, এমভি টিপু ও এমভি তাসরিফ) লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রুট পারমিট নেওয়া রয়েছে। শুরুতে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল করলেও কিছুদিন পর থেকে নিজেদের সুবিধামতো পারস্পরিক সমঝোতায় রোটেশন পদ্ধতি চালু করেন মালিকেরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম উপেক্ষা করে মালিকপক্ষ একেক দিন একেক কোম্পানির লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে। এতে দৈনিক লঞ্চের সংখ্যা কমে কৃত্রিম যাত্রীসংকট সৃষ্টি হয়। ফলে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকার যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি জরুরি প্রয়োজনে কেবিন ও সিট না পেয়ে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিনের সিডিউলে তিন কোম্পানির লঞ্চ যাতায়াত করার কথা থাকলেও মালিকেরা তা মানছেন না। এই রোটেশন প্রথা কি যাত্রীসেবার জন্য, নাকি যাত্রীদের জিম্মি করে কেবিন ফাঁদ পেতে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য?” তিনি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত কেবিন শেষ দেখালেই পরে কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা ছোট কেবিন অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য করা হয়।
আছলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কেবিন বুকিং করতে না পেরে টানা সরকারি ছুটিতেও পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। এমন অনিয়মের অবসান ও জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।
তবে লঞ্চমালিকদের দাবি, পদ্মা সেতু চালুর পর ভোলা–বরিশাল হয়ে সড়কপথে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হওয়ায় নৌপথে প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী কমে গেছে। ফলে প্রতিদিন সব লঞ্চ চালালে বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়। সেই লোকসান এড়াতেই মূলত রোটেশন প্রথা চালু রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, “লঞ্চমালিকদের ব্যবসায়িক লোকসানের যুক্তি যেমন আছে, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। মালিকদের সংকটের দায় যেন নিরীহ যাত্রীদের ওপর এসে না পড়ে, সে বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
এদিকে রোটেশন পদ্ধতিকে বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নম্বর আব্দুল বাছেদ ইতিমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, এ প্রথার কারণে যাত্রীসেবার সুস্থ প্রতিযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন