লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ রোববার (২৫ অক্টোবর) শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন অভিজ্ঞ নেতা লুলা, আর অন্যদিকে অপরাধ দমন ও আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন ফ্লাভিও।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো হলেন সাবেক কারাবন্দী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং অসুস্থতার কারণে গৃহবন্দী রয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকায় ফ্লাভিও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এর আগে ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে পড়া কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান ঘুচিয়ে বিজয়ী হতে পারেননি।নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে এসে দুপক্ষই নিজেদের সমর্থকদের মাঠে নামাতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। ভোটের আগের দিন মিনা জেইরাইস প্রদেশের রাজধানী বেলো হরিজন্তেতে বিশাল নির্বাচনী প্রচার চালান ফ্লাভিও। ১৯৮০-এর দশক থেকে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট পদে জয় পেতে হলে এই রাজ্যে জয় পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফ্লাভিও তার বক্তৃতায় সংগঠিত অপরাধ চক্র নির্মূল, কর ও সরকারি ব্যয় কমানো এবং গৃহবন্দী বাবাকে মুক্ত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রথম দফার ভোটের পর থেকে লুলার সমর্থকেরাও রাজধানী রিও ডি জেনেইরোসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় শোডাউন করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রিওর বিখ্যাত কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতে এক বিশাল সমাবেশে লুলা এই নির্বাচনকে ব্রাজিলের ‘সার্বভৌমত্বের লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণ পরিবর্তন চায়, কিন্তু তারা সামনে এগোতে চায়, কোনোভাবেই অতীতে ফিরে যেতে চায় না।’ লুলার দল এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে প্রচার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লুলার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। লুলা বরাবরই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে ব্রাজিল কারও অনুগত বা পেছনের উঠান নয়। এর বিপরীতে, ফ্লাভিও অপরাধ দমনে মার্কিন সহায়তায় কাজ করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।
রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা নাগাদ ভোটগ্রহণ শেষে ফল জানা শুরু হবে। ফলাফল দেখার জন্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা সাও পাওলোতে এবং ফ্লাভিও বলসোনারো রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থান করছেন।
/

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ রোববার (২৫ অক্টোবর) শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন অভিজ্ঞ নেতা লুলা, আর অন্যদিকে অপরাধ দমন ও আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন ফ্লাভিও।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো হলেন সাবেক কারাবন্দী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং অসুস্থতার কারণে গৃহবন্দী রয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকায় ফ্লাভিও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এর আগে ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে পড়া কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান ঘুচিয়ে বিজয়ী হতে পারেননি।নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে এসে দুপক্ষই নিজেদের সমর্থকদের মাঠে নামাতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। ভোটের আগের দিন মিনা জেইরাইস প্রদেশের রাজধানী বেলো হরিজন্তেতে বিশাল নির্বাচনী প্রচার চালান ফ্লাভিও। ১৯৮০-এর দশক থেকে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট পদে জয় পেতে হলে এই রাজ্যে জয় পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফ্লাভিও তার বক্তৃতায় সংগঠিত অপরাধ চক্র নির্মূল, কর ও সরকারি ব্যয় কমানো এবং গৃহবন্দী বাবাকে মুক্ত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রথম দফার ভোটের পর থেকে লুলার সমর্থকেরাও রাজধানী রিও ডি জেনেইরোসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় শোডাউন করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রিওর বিখ্যাত কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতে এক বিশাল সমাবেশে লুলা এই নির্বাচনকে ব্রাজিলের ‘সার্বভৌমত্বের লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণ পরিবর্তন চায়, কিন্তু তারা সামনে এগোতে চায়, কোনোভাবেই অতীতে ফিরে যেতে চায় না।’ লুলার দল এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে প্রচার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লুলার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। লুলা বরাবরই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে ব্রাজিল কারও অনুগত বা পেছনের উঠান নয়। এর বিপরীতে, ফ্লাভিও অপরাধ দমনে মার্কিন সহায়তায় কাজ করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।
রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা নাগাদ ভোটগ্রহণ শেষে ফল জানা শুরু হবে। ফলাফল দেখার জন্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা সাও পাওলোতে এবং ফ্লাভিও বলসোনারো রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থান করছেন।
/

আপনার মতামত লিখুন