চট্টগ্রাম মহানগরীকে ‘হেলদি সিটি’ বা স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার দেশের অন্যতম বৃহৎ সুয়ারেজ প্রকল্পের জোন-১ আগামী জুনে চালু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষা মৌসুম পার হওয়ায় কাজে পূর্ণ গতি এসেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পাদনের লক্ষ্য নিয়ে জোরেসোরে এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মেগাসিটির রূপ নিলেও এতদিন এখানে কোনো পরিকল্পিত সুয়ারেজ বা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বসতবাড়ির সেপটিক ট্যাংক ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি খাল, নালা ও ড্রেনে পড়ে নদী ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছিল। প্রতিদিন নগরে নিঃসৃত প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন লিটার বর্জ্য পানি নালায় মিশে ওয়াসার সুপেয় পানির পাইপলাইনেও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি করছিল, যা পুরো চট্টগ্রামকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। প্রকৌশলীদের মতে, ঢাকার সুয়ারেজ ব্যবস্থার ইতিহাস শতবর্ষ পুরোনো হলেও ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসা এতদিন এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল।
নগরের এই শূন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে চট্টগ্রাম ওয়াসা পুরো চট্টগ্রামকে ৬টি জোনে ভাগ করে ৬টি সুয়ারেজ ও ২টি ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০২২ সালে ক্যাচমেন্ট-১-এর কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও কারিগরি দিক সম্পর্কে ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রথম পর্যায়ের এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোতোয়ালি, বাটালি হিল, লালখান বাজার, আগ্রাবাদ, পাঠানটুলী, চৌমুহনী, ঈদগাঁও ও হালিশহরসহ ২১টি ওয়ার্ডের প্রায় ২৮ হাজার বসতবাড়িতে সুয়ারেজ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। মাটির ৫ থেকে ১৫ মিটার গভীরে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাইপলাইনের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৩৫ কিলোমিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া হালিশহরের আনন্দবাজার ও চৌচালা এলাকায় ১৬৩ একর জমিতে দুটি সর্বাধুনিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মিত হচ্ছে। এর একটিতে পাইপলাইনের বর্জ্য থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার এবং অন্যটিতে ফিক্যাল স্লাজ পরিবেষ্টিত দৈনিক ৩০০ টন বর্জ্য পরিশোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিশোধিত এই বর্জ্য সম্পূর্ণ পরিবেশসম্মত উপায়ে সাগরে নিষ্কাশন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বর্ষাকালে মাটির গভীরে পাইপ বসাতে কিছু বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলায় আগামী জুনের মধ্যে জোন-১ পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নগরীর অন্তত ২০ লাখ মানুষ সরাসরি সুফল পাবে এবং চট্টগ্রামের সার্বিক স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম মহানগরীকে ‘হেলদি সিটি’ বা স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার দেশের অন্যতম বৃহৎ সুয়ারেজ প্রকল্পের জোন-১ আগামী জুনে চালু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষা মৌসুম পার হওয়ায় কাজে পূর্ণ গতি এসেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পাদনের লক্ষ্য নিয়ে জোরেসোরে এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মেগাসিটির রূপ নিলেও এতদিন এখানে কোনো পরিকল্পিত সুয়ারেজ বা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বসতবাড়ির সেপটিক ট্যাংক ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি খাল, নালা ও ড্রেনে পড়ে নদী ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছিল। প্রতিদিন নগরে নিঃসৃত প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন লিটার বর্জ্য পানি নালায় মিশে ওয়াসার সুপেয় পানির পাইপলাইনেও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি করছিল, যা পুরো চট্টগ্রামকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। প্রকৌশলীদের মতে, ঢাকার সুয়ারেজ ব্যবস্থার ইতিহাস শতবর্ষ পুরোনো হলেও ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসা এতদিন এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল।
নগরের এই শূন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে চট্টগ্রাম ওয়াসা পুরো চট্টগ্রামকে ৬টি জোনে ভাগ করে ৬টি সুয়ারেজ ও ২টি ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০২২ সালে ক্যাচমেন্ট-১-এর কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও কারিগরি দিক সম্পর্কে ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রথম পর্যায়ের এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোতোয়ালি, বাটালি হিল, লালখান বাজার, আগ্রাবাদ, পাঠানটুলী, চৌমুহনী, ঈদগাঁও ও হালিশহরসহ ২১টি ওয়ার্ডের প্রায় ২৮ হাজার বসতবাড়িতে সুয়ারেজ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। মাটির ৫ থেকে ১৫ মিটার গভীরে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাইপলাইনের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৩৫ কিলোমিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া হালিশহরের আনন্দবাজার ও চৌচালা এলাকায় ১৬৩ একর জমিতে দুটি সর্বাধুনিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মিত হচ্ছে। এর একটিতে পাইপলাইনের বর্জ্য থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার এবং অন্যটিতে ফিক্যাল স্লাজ পরিবেষ্টিত দৈনিক ৩০০ টন বর্জ্য পরিশোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিশোধিত এই বর্জ্য সম্পূর্ণ পরিবেশসম্মত উপায়ে সাগরে নিষ্কাশন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বর্ষাকালে মাটির গভীরে পাইপ বসাতে কিছু বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলায় আগামী জুনের মধ্যে জোন-১ পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নগরীর অন্তত ২০ লাখ মানুষ সরাসরি সুফল পাবে এবং চট্টগ্রামের সার্বিক স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

আপনার মতামত লিখুন