সংবাদ

ফিড, ওষুধ ও বিদ্যুতের চড়া দামে খামারিদের মাথায় হাত


জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

ফিড, ওষুধ ও বিদ্যুতের চড়া দামে খামারিদের মাথায় হাত
ছবি : সংবাদ

ফিড, ওষুধ ও বিদ্যুতের দাম হু-হু করে বাড়ায় কুড়িগ্রামের পোল্ট্রি খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলেও বাজারে ডিমের সঠিক দাম না পাওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলে জেলার পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবিকা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলায় বর্তমানে ২৭৫টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ডিম উৎপাদিত হয়, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। একসময় লাভজনক ব্যবসা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা।

ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের খেজুরের তল এলাকার মুন্সি পোলট্রি ফার্মের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম জানান, খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার মুরগি রয়েছে। ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে সাড়ে আট থেকে ৯ টাকা। অথচ বাজারে অনেক সময় সেই ডিম ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ সময়ই লোকসানে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

খামারের কর্মচারী একরামুল হক ও মিলন চন্দ্র জানান, ভোর থেকে শুরু করে দিনভর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয় তাদের। কিন্তু ডিমের দাম কমলেই মালিকেরা লোকসানে পড়েন, আর তার প্রভাব গিয়ে পড়ে কর্মচারীদের চাকরির ওপর। লোকসান বাড়লে কর্মী কমিয়ে দেওয়ায় তারাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী রিটু বলেন, অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে পুঁজি হারিয়ে পোল্ট্রি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামারিদের বাঁচাতে হলে অবিলম্বে ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিলের পরিবর্তে কৃষকদের মতো বিশেষ রেটে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকির কথা চিন্তা করছে। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে খামারিরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


ফিড, ওষুধ ও বিদ্যুতের চড়া দামে খামারিদের মাথায় হাত

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফিড, ওষুধ ও বিদ্যুতের দাম হু-হু করে বাড়ায় কুড়িগ্রামের পোল্ট্রি খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলেও বাজারে ডিমের সঠিক দাম না পাওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলে জেলার পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবিকা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলায় বর্তমানে ২৭৫টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ডিম উৎপাদিত হয়, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। একসময় লাভজনক ব্যবসা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা।

ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের খেজুরের তল এলাকার মুন্সি পোলট্রি ফার্মের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম জানান, খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার মুরগি রয়েছে। ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে সাড়ে আট থেকে ৯ টাকা। অথচ বাজারে অনেক সময় সেই ডিম ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ সময়ই লোকসানে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

খামারের কর্মচারী একরামুল হক ও মিলন চন্দ্র জানান, ভোর থেকে শুরু করে দিনভর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয় তাদের। কিন্তু ডিমের দাম কমলেই মালিকেরা লোকসানে পড়েন, আর তার প্রভাব গিয়ে পড়ে কর্মচারীদের চাকরির ওপর। লোকসান বাড়লে কর্মী কমিয়ে দেওয়ায় তারাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী রিটু বলেন, অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে পুঁজি হারিয়ে পোল্ট্রি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামারিদের বাঁচাতে হলে অবিলম্বে ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিলের পরিবর্তে কৃষকদের মতো বিশেষ রেটে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকির কথা চিন্তা করছে। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে খামারিরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত