মানিকগঞ্জে খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় স্বল্পমূল্যে আটা কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় শেষ পর্যন্ত বহু মানুষকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন স্বল্পমূল্যের চাল-আটার এই সংকট নিম্ন আয়ের মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ওএমএস কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, স্বল্পমূল্যের আটা সংগ্রহের জন্য ভোর থেকেই নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় জমছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত ১২০ টাকায় ৫ কেজির আটার প্যাকেট হাতে পেয়ে কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করলেও দীর্ঘ লাইনের সিংহভাগজুড়েই ছিল অনিশ্চয়তা আর হতাশা।
উপজেলার চর সাটুরিয়ার বাসিন্দা হাজেরা বেগম আটার প্যাকেট হাতে পেয়ে বলেন, “১২০ টাকায় ৫ কেজি আটা পেয়েছি। বাজারে আটার যে দাম, তাতে আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক উপকার হচ্ছে।”
তবে এমন স্বস্তির বিপরীত চিত্রই ফুটে উঠেছে রাধানগর এলাকা থেকে আসা ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা কাজলী বেগমের মুখে। টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আটা না পেয়ে তাকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। তার মতো অন্তত অর্ধশত মানুষ শেষ পর্যন্ত কোনো আটা পাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজলী বেগম বলেন, “এত কষ্ট করে লাইনে দাঁড়াইলাম, অথচ আটা শেষ হয়ে গেল। বাজারে তো চড়া দাম, এখন কী খাব?”
মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা ডিলারদের মতে, বর্তমান যে সরকারি বরাদ্দ রয়েছে, তা দিয়ে স্থানীয় বিপুল চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
চর সাটুরিয়ার ‘রেজা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মহিউদ্দিন রেজা জানান, “আমার এই কেন্দ্রে প্রতিদিন ১ মেট্রিক টন (১ হাজার কেজি) আটা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সে হিসাবে প্রতিদিন ২০০ জন মানুষকে ৫ কেজি করে দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু প্রতিদিন লাইনে এর দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ উপস্থিত হন। ফলে লাইনের পেছনে থাকা মানুষকে না দিয়েই ফিরিয়ে দিতে হয়।” সংকট কাটাতে অবিলম্বে বরাদ্দ বাড়ানোর জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার নাজমুস সাকিব বলেন, “ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা পাচ্ছেন। পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। জেলা খাদ্যগুদামগুলোতে চাল ও আটার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।”
তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মতে, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও ওএমএস কেন্দ্রে দৈনিক বরাদ্দ না বাড়ালে প্রান্তিক মানুষের এই ভোগান্তি সহজে কমবে না।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জে খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় স্বল্পমূল্যে আটা কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় শেষ পর্যন্ত বহু মানুষকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন স্বল্পমূল্যের চাল-আটার এই সংকট নিম্ন আয়ের মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ওএমএস কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, স্বল্পমূল্যের আটা সংগ্রহের জন্য ভোর থেকেই নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় জমছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত ১২০ টাকায় ৫ কেজির আটার প্যাকেট হাতে পেয়ে কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করলেও দীর্ঘ লাইনের সিংহভাগজুড়েই ছিল অনিশ্চয়তা আর হতাশা।
উপজেলার চর সাটুরিয়ার বাসিন্দা হাজেরা বেগম আটার প্যাকেট হাতে পেয়ে বলেন, “১২০ টাকায় ৫ কেজি আটা পেয়েছি। বাজারে আটার যে দাম, তাতে আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক উপকার হচ্ছে।”
তবে এমন স্বস্তির বিপরীত চিত্রই ফুটে উঠেছে রাধানগর এলাকা থেকে আসা ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা কাজলী বেগমের মুখে। টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আটা না পেয়ে তাকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। তার মতো অন্তত অর্ধশত মানুষ শেষ পর্যন্ত কোনো আটা পাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজলী বেগম বলেন, “এত কষ্ট করে লাইনে দাঁড়াইলাম, অথচ আটা শেষ হয়ে গেল। বাজারে তো চড়া দাম, এখন কী খাব?”
মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা ডিলারদের মতে, বর্তমান যে সরকারি বরাদ্দ রয়েছে, তা দিয়ে স্থানীয় বিপুল চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
চর সাটুরিয়ার ‘রেজা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মহিউদ্দিন রেজা জানান, “আমার এই কেন্দ্রে প্রতিদিন ১ মেট্রিক টন (১ হাজার কেজি) আটা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সে হিসাবে প্রতিদিন ২০০ জন মানুষকে ৫ কেজি করে দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু প্রতিদিন লাইনে এর দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ উপস্থিত হন। ফলে লাইনের পেছনে থাকা মানুষকে না দিয়েই ফিরিয়ে দিতে হয়।” সংকট কাটাতে অবিলম্বে বরাদ্দ বাড়ানোর জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার নাজমুস সাকিব বলেন, “ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা পাচ্ছেন। পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। জেলা খাদ্যগুদামগুলোতে চাল ও আটার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।”
তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মতে, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও ওএমএস কেন্দ্রে দৈনিক বরাদ্দ না বাড়ালে প্রান্তিক মানুষের এই ভোগান্তি সহজে কমবে না।

আপনার মতামত লিখুন