সংবাদ

গাজীপুরে দিনভর তাণ্ডব, শতাধিক কারখানায় ছুটি


জেলা বার্তা পরিবেশক, গাজীপুর
জেলা বার্তা পরিবেশক, গাজীপুর
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

গাজীপুরে দিনভর তাণ্ডব, শতাধিক কারখানায় ছুটি
শ্রমিক আন্দোলনে দিনভর উত্তপ্ত শিল্পনগরী গাজীপুর, কারখানা বন্ধ ঘোষণা

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দিনভর বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলন একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি, ব্যাংক ও কারখানার স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটগুদামেও আগুন লাগে। 

শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন তিন সাংবাদিক। দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক রেজাউল করিম রেজার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হলেও পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

দিনভর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অবরোধের কারণে চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়। জরুরি সেবাসহ সাধারণ যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিকেল ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বিভিন্ন সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার পর শ্রমিকদের একটি অংশ বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, কোনাবাড়ী, রতনপুর ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

আশপাশের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকদের জমায়েত আরও বাড়ে। দিনভর পরিস্থিতির কারণে গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে শিল্প পুলিশের হিসাবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় ১০০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

অবরোধ চলাকালে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংক ও কয়েকটি কারখানার ফটকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মৌচাক কাটার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের বক্স ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়।

আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে কারখানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চলে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটগুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও অবরোধ ও যানজটের কারণে প্রথমে পৌঁছাতে পারেনি। পরে বিজিবির পাহারায় মহাসড়কের উল্টো পথে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা জানান, গুদামে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও কেউ আগুন দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্য কোনো কারণেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন।

শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা আরো জানান, বেলা ৩টার দিকে বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ী, সফিপুর ও চন্দ্রাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের অবস্থান থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। বিভিন্ন কারখানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা থেকেও তাদের নিবৃত্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। বর্তমানে গাজীপুরের সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক এবং নাগরিক জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন সংবাদকে বলেন, বর্তমানে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এটি মূলত শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত আন্দোলন। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরে যাবেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এক সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন ভুয়া ও বেনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোরলের নামেও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবির সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগকে এক করে দেখার সুযোগ নেই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওভারটাইমের সুযোগ কমে যাওয়ায় আয়ও কমেছে। এ অবস্থায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সরকার রোববার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের পরও শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ অব্যাহত ছিল। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


গাজীপুরে দিনভর তাণ্ডব, শতাধিক কারখানায় ছুটি

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দিনভর বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলন একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি, ব্যাংক ও কারখানার স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটগুদামেও আগুন লাগে। 

শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন তিন সাংবাদিক। দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক রেজাউল করিম রেজার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হলেও পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

দিনভর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অবরোধের কারণে চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়। জরুরি সেবাসহ সাধারণ যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিকেল ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বিভিন্ন সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার পর শ্রমিকদের একটি অংশ বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, কোনাবাড়ী, রতনপুর ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

আশপাশের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকদের জমায়েত আরও বাড়ে। দিনভর পরিস্থিতির কারণে গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে শিল্প পুলিশের হিসাবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় ১০০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

অবরোধ চলাকালে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংক ও কয়েকটি কারখানার ফটকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মৌচাক কাটার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের বক্স ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়।

আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে কারখানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চলে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটগুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও অবরোধ ও যানজটের কারণে প্রথমে পৌঁছাতে পারেনি। পরে বিজিবির পাহারায় মহাসড়কের উল্টো পথে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা জানান, গুদামে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও কেউ আগুন দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্য কোনো কারণেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন।

শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা আরো জানান, বেলা ৩টার দিকে বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ী, সফিপুর ও চন্দ্রাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের অবস্থান থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। বিভিন্ন কারখানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা থেকেও তাদের নিবৃত্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। বর্তমানে গাজীপুরের সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক এবং নাগরিক জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন সংবাদকে বলেন, বর্তমানে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এটি মূলত শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত আন্দোলন। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরে যাবেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এক সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন ভুয়া ও বেনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোরলের নামেও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবির সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগকে এক করে দেখার সুযোগ নেই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওভারটাইমের সুযোগ কমে যাওয়ায় আয়ও কমেছে। এ অবস্থায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সরকার রোববার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের পরও শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ অব্যাহত ছিল। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত