সংবাদ

ছোট পরিবারে গিজার কেনার সময় যা দেখবেন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ছোট পরিবারে গিজার কেনার সময় যা দেখবেন
ছবিঃ সংগৃহীত

শীতের প্রস্তুতিতে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায় গিজার থাকে অনেকেরই। তবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হলে গিজারের ধারণক্ষমতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়েন কেউ কেউ। বেশি লিটারের গিজার কিনলে অপ্রয়োজনীয় খরচ হতে পারে, আবার ছোট গিজারে প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত গরম পানি না-ও মিলতে পারে।

তাই গিজার কেনার আগে পরিবারের সদস্যসংখ্যার পাশাপাশি গোসলের ধরন, গরম পানির ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ খরচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি। দু’জনের পরিবারের জন্য কোন ধরনের গিজার উপযোগী হতে পারে, জেনে নিন।

১০ নাকি ১৫ লিটার - কোনটি বেছে নেবেন?

দু’জনের পরিবারের জন্য সাধারণত ১০ থেকে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ধারণক্ষমতা নির্বাচন করতে হবে।

·         ১০ লিটার: যারা বালতিতে পানি নিয়ে গোসল করেন এবং গরম পানির ব্যবহার তুলনামূলক কম, তাঁদের জন্য এ ধারণক্ষমতার গিজার যথেষ্ট হতে পারে।

·         ১৫ লিটার: পরিবারের দুজন সদস্য পরপর গোসল করলে ১৫ লিটারের গিজার বেশি সুবিধা দিতে পারে।

·         ১৫ লিটার বা তার বেশি: শাওয়ারে গোসলের অভ্যাস থাকলে পানির প্রবাহ ও ব্যবহারের সময় বিবেচনা করে বেশি ধারণক্ষমতার মডেল প্রয়োজন হতে পারে।

অল্প পরিমাণ গরম পানির প্রয়োজন হলে ৩ বা ৬ লিটারের ইন্সট্যান্ট গিজারও বিবেচনা করা যায়। তবে গোসলের জন্য সেটি উপযুক্ত হবে কি না, তা মডেলের ক্ষমতা ও পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে।

স্টোরেজ ও ইন্সট্যান্ট গিজারের পার্থক্য

গিজার কেনার আগে দুই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো।

স্টোরেজ গিজার: এ ধরনের গিজারে ট্যাঙ্কের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি জমা রেখে গরম করা হয়। ফলে পানি গরম হওয়ার পর কিছু সময় পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যায়। দুজনের গোসলের সময়ের মধ্যে ব্যবধান থাকলে এটি সুবিধাজনক হতে পারে।

ইন্সট্যান্ট গিজার: পানি প্রবাহিত হওয়ার সময়ই এ ধরনের গিজার গরম করে। আগে থেকে বড় পরিমাণ পানি জমিয়ে রাখার প্রয়োজন হয় না। তবে একটানা বেশি গরম পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মডেলের ক্ষমতা ও পানির প্রবাহ যাচাই করা জরুরি।

বিদ্যুৎ খরচ কমাতে যেসব ফিচার দেখবেন

গিজারের দাম ও ধারণক্ষমতার পাশাপাশি শক্তি সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন:

·         এনার্জি রেটিং: বাজারে পাওয়া গেলে স্বীকৃত শক্তি-দক্ষতার লেবেল বা রেটিং দেখুন। ৫ স্টার রেটিংয়ের মডেল শক্তি সাশ্রয়ের বিবেচনায় ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে রেটিংয়ের মানদণ্ড দেশ ও পণ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।

·         ট্যাঙ্কের ইনসুলেশন: পিইউএফ বা পলিইউরেথেন ফোম ইনসুলেশন ট্যাঙ্কের তাপ বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার গতি কমাতে সাহায্য করে। এতে পানি তুলনামূলক বেশি সময় গরম থাকে।

·         অটো থার্মোস্ট্যাট: নির্ধারিত তাপমাত্রায় পানি পৌঁছালে হিটিং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

·         অটো-কাট: পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছালে হিটিং বন্ধ করতে সাহায্য করে। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো সম্ভব।

ট্যাঙ্ক ও হিটিং এলিমেন্টের মান যাচাই করুন

পানিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে গিজারের হিটিং এলিমেন্টে ধীরে ধীরে আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানি গরম হতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং যন্ত্রের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

এ কারণে কেনার সময় ট্যাঙ্কে গ্লাস-লাইন্ড বা টাইটানিয়াম এনামেল কোটিং রয়েছে কি না, দেখে নিতে পারেন। এ ধরনের আবরণ ট্যাঙ্ককে ক্ষয় ও মরিচের হাত থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। পাশাপাশি হিটিং এলিমেন্টের উপাদান, ট্যাঙ্কের ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে জেনে নিন।

স্মার্ট ফিচার কতটা প্রয়োজন?

কিছু আধুনিক গিজারে ডিজিটাল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, টাইমার ও ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকে। এসব ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে গিজার চালু বা বন্ধ করা যায়। ফলে প্রয়োজনের বাইরে দীর্ঘক্ষণ যন্ত্র চালু রাখার প্রবণতা কমানো সম্ভব।

তবে স্মার্ট ফিচার থাকলেই বিদ্যুৎ বিল কমবে, এমন নয়। সঠিক সময়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলেই এসব সুবিধা কার্যকর হবে।

গিজার ব্যবহারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায়

গরম পানি ব্যবহারের আগে প্রয়োজন অনুযায়ী গিজার চালু করুন। গোসল বা অন্যান্য কাজ শেষ হলে সুইচ বন্ধ করে দিন। অপ্রয়োজনে সারাক্ষণ চালু রাখা থেকে বিরত থাকুন। পানির তাপমাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি না বাড়িয়ে নির্ধারণ করুন। এ ছাড়া নিয়মিত ট্যাঙ্ক ও হিটিং এলিমেন্ট পরীক্ষা করানোও জরুরি।

সব মিলিয়ে, দু’জনের পরিবারের জন্য ১০ থেকে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার অনেক ক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবারের গোসলের অভ্যাস, গরম পানির চাহিদা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের রেটিং, ইনসুলেশন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বিবেচনা করুন। প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই গিজার বেছে নিলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সহজ হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ছোট পরিবারে গিজার কেনার সময় যা দেখবেন

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শীতের প্রস্তুতিতে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায় গিজার থাকে অনেকেরই। তবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হলে গিজারের ধারণক্ষমতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়েন কেউ কেউ। বেশি লিটারের গিজার কিনলে অপ্রয়োজনীয় খরচ হতে পারে, আবার ছোট গিজারে প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত গরম পানি না-ও মিলতে পারে।

তাই গিজার কেনার আগে পরিবারের সদস্যসংখ্যার পাশাপাশি গোসলের ধরন, গরম পানির ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ খরচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি। দু’জনের পরিবারের জন্য কোন ধরনের গিজার উপযোগী হতে পারে, জেনে নিন।

১০ নাকি ১৫ লিটার - কোনটি বেছে নেবেন?

দু’জনের পরিবারের জন্য সাধারণত ১০ থেকে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ধারণক্ষমতা নির্বাচন করতে হবে।

·         ১০ লিটার: যারা বালতিতে পানি নিয়ে গোসল করেন এবং গরম পানির ব্যবহার তুলনামূলক কম, তাঁদের জন্য এ ধারণক্ষমতার গিজার যথেষ্ট হতে পারে।

·         ১৫ লিটার: পরিবারের দুজন সদস্য পরপর গোসল করলে ১৫ লিটারের গিজার বেশি সুবিধা দিতে পারে।

·         ১৫ লিটার বা তার বেশি: শাওয়ারে গোসলের অভ্যাস থাকলে পানির প্রবাহ ও ব্যবহারের সময় বিবেচনা করে বেশি ধারণক্ষমতার মডেল প্রয়োজন হতে পারে।

অল্প পরিমাণ গরম পানির প্রয়োজন হলে ৩ বা ৬ লিটারের ইন্সট্যান্ট গিজারও বিবেচনা করা যায়। তবে গোসলের জন্য সেটি উপযুক্ত হবে কি না, তা মডেলের ক্ষমতা ও পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে।

স্টোরেজ ও ইন্সট্যান্ট গিজারের পার্থক্য

গিজার কেনার আগে দুই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো।

স্টোরেজ গিজার: এ ধরনের গিজারে ট্যাঙ্কের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি জমা রেখে গরম করা হয়। ফলে পানি গরম হওয়ার পর কিছু সময় পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যায়। দুজনের গোসলের সময়ের মধ্যে ব্যবধান থাকলে এটি সুবিধাজনক হতে পারে।

ইন্সট্যান্ট গিজার: পানি প্রবাহিত হওয়ার সময়ই এ ধরনের গিজার গরম করে। আগে থেকে বড় পরিমাণ পানি জমিয়ে রাখার প্রয়োজন হয় না। তবে একটানা বেশি গরম পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মডেলের ক্ষমতা ও পানির প্রবাহ যাচাই করা জরুরি।

বিদ্যুৎ খরচ কমাতে যেসব ফিচার দেখবেন

গিজারের দাম ও ধারণক্ষমতার পাশাপাশি শক্তি সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন:

·         এনার্জি রেটিং: বাজারে পাওয়া গেলে স্বীকৃত শক্তি-দক্ষতার লেবেল বা রেটিং দেখুন। ৫ স্টার রেটিংয়ের মডেল শক্তি সাশ্রয়ের বিবেচনায় ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে রেটিংয়ের মানদণ্ড দেশ ও পণ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।

·         ট্যাঙ্কের ইনসুলেশন: পিইউএফ বা পলিইউরেথেন ফোম ইনসুলেশন ট্যাঙ্কের তাপ বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার গতি কমাতে সাহায্য করে। এতে পানি তুলনামূলক বেশি সময় গরম থাকে।

·         অটো থার্মোস্ট্যাট: নির্ধারিত তাপমাত্রায় পানি পৌঁছালে হিটিং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

·         অটো-কাট: পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছালে হিটিং বন্ধ করতে সাহায্য করে। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো সম্ভব।

ট্যাঙ্ক ও হিটিং এলিমেন্টের মান যাচাই করুন

পানিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে গিজারের হিটিং এলিমেন্টে ধীরে ধীরে আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানি গরম হতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং যন্ত্রের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

এ কারণে কেনার সময় ট্যাঙ্কে গ্লাস-লাইন্ড বা টাইটানিয়াম এনামেল কোটিং রয়েছে কি না, দেখে নিতে পারেন। এ ধরনের আবরণ ট্যাঙ্ককে ক্ষয় ও মরিচের হাত থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। পাশাপাশি হিটিং এলিমেন্টের উপাদান, ট্যাঙ্কের ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে জেনে নিন।

স্মার্ট ফিচার কতটা প্রয়োজন?

কিছু আধুনিক গিজারে ডিজিটাল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, টাইমার ও ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকে। এসব ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে গিজার চালু বা বন্ধ করা যায়। ফলে প্রয়োজনের বাইরে দীর্ঘক্ষণ যন্ত্র চালু রাখার প্রবণতা কমানো সম্ভব।

তবে স্মার্ট ফিচার থাকলেই বিদ্যুৎ বিল কমবে, এমন নয়। সঠিক সময়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলেই এসব সুবিধা কার্যকর হবে।

গিজার ব্যবহারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায়

গরম পানি ব্যবহারের আগে প্রয়োজন অনুযায়ী গিজার চালু করুন। গোসল বা অন্যান্য কাজ শেষ হলে সুইচ বন্ধ করে দিন। অপ্রয়োজনে সারাক্ষণ চালু রাখা থেকে বিরত থাকুন। পানির তাপমাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি না বাড়িয়ে নির্ধারণ করুন। এ ছাড়া নিয়মিত ট্যাঙ্ক ও হিটিং এলিমেন্ট পরীক্ষা করানোও জরুরি।

সব মিলিয়ে, দু’জনের পরিবারের জন্য ১০ থেকে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার অনেক ক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবারের গোসলের অভ্যাস, গরম পানির চাহিদা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের রেটিং, ইনসুলেশন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বিবেচনা করুন। প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই গিজার বেছে নিলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সহজ হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত