সারাদিনের কাজের ব্যস্ততায় নিজের যত্ন নেওয়ার কথা অনেকেই ভুলে যান। অফিস, সংসার কিংবা পড়াশোনার চাপ সামলে নিয়মিত রূপচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে, হারাতে পারে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।
তবে ত্বকের পরিচর্যার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। ঘুমানোর আগে মাত্র ১৫ মিনিট সময় রাখলেই গড়ে তোলা যায় সহজ একটি রাতের রূপচর্চার অভ্যাস। ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই পরিচর্যা হবে গোছানো। জেনে নিন কী করবেন।
রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি। কারণ দিনের বিভিন্ন সময়ে মুখে তেল, ঘাম, ধুলাবালি ও ময়লা জমে। বাইরে না গেলেও ত্বকে এসবের উপস্থিতি থাকতে পারে।
প্রথমে পানি দিয়ে মুখ ভিজিয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। মেকআপ করলে আগে উপযুক্ত মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং পণ্য দিয়ে তা তুলে ফেলুন। চোখের চারপাশ ও নাকের দুই পাশ পরিষ্কারের সময় সতর্ক থাকুন। মেকআপ বা সানস্ক্রিনের অবশিষ্টাংশ থেকে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডাবল ক্লিনজিং করতে পারেন। সবশেষে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুখের পানি মুছে নিন।
প্রতিদিন ফেসপ্যাক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
সময় করে
সপ্তাহে এক
বা দুই
দিন ত্বকের
ধরন অনুযায়ী
প্যাক ব্যবহার
করতে পারেন।
· শুষ্ক ত্বকে: টক দই, মধু ও পাকা কলা একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়।
· তৈলাক্ত ত্বকে: মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
প্যাক মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন। ফেসপ্যাক ধুয়ে ফেলার পর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি উপযোগী ফেশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অর্গান অয়েল কিংবা ভিটামিন ইযুক্ত ফেশিয়াল অয়েল বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তবে ফেস অয়েল ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের ধরন ও পণ্যের উপযোগিতা বিবেচনা করা জরুরি। সব ধরনের তেল সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নয়।
ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যা অনুযায়ী সিরাম
ব্যবহার করলে
পরিচর্যার রুটিন আরও লক্ষ্যভিত্তিক হতে
পারে। কোন
ধরনের সিরাম
ব্যবহার করবেন,
তা নির্ভর
করবে ত্বকের
প্রয়োজনের ওপর।
· শুষ্ক ত্বক: হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
· অসম রং ও কালচে দাগ: ভিটামিন সিযুক্ত সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
· তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বক: নিয়াসিনামাইডযুক্ত সিরাম বেছে নিতে পারেন।
· বলিরেখার যত্ন: রেটিনল ব্যবহার করা হলেও শুরুতে কম মাত্রায় এবং সপ্তাহে অল্প কয়েক দিন ব্যবহার করা ভালো। গর্ভাবস্থায় রেটিনল এড়িয়ে চলতে হবে।
রাতের রূপচর্চার শেষ ধাপ ময়েশ্চারাইজার। সিরাম ব্যবহারের পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। মুখের পাশাপাশি গলা ও ঘাড়েও ব্যবহার করুন।
হাত, পায়ের পাতা, হাঁটু ও কনুইয়ের মতো যেসব স্থানে সহজে শুষ্কতা দেখা দেয়, সেসব জায়গাতেও ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন।
নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ভালো ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য অল্প সময় রাখা ত্বকের যত্নে সহায়ক হতে পারে। তবে সব পণ্য একসঙ্গে ব্যবহার না করে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী রুটিন তৈরি করাই ভালো।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
সারাদিনের কাজের ব্যস্ততায় নিজের যত্ন নেওয়ার কথা অনেকেই ভুলে যান। অফিস, সংসার কিংবা পড়াশোনার চাপ সামলে নিয়মিত রূপচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে, হারাতে পারে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।
তবে ত্বকের পরিচর্যার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। ঘুমানোর আগে মাত্র ১৫ মিনিট সময় রাখলেই গড়ে তোলা যায় সহজ একটি রাতের রূপচর্চার অভ্যাস। ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই পরিচর্যা হবে গোছানো। জেনে নিন কী করবেন।
রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি। কারণ দিনের বিভিন্ন সময়ে মুখে তেল, ঘাম, ধুলাবালি ও ময়লা জমে। বাইরে না গেলেও ত্বকে এসবের উপস্থিতি থাকতে পারে।
প্রথমে পানি দিয়ে মুখ ভিজিয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। মেকআপ করলে আগে উপযুক্ত মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং পণ্য দিয়ে তা তুলে ফেলুন। চোখের চারপাশ ও নাকের দুই পাশ পরিষ্কারের সময় সতর্ক থাকুন। মেকআপ বা সানস্ক্রিনের অবশিষ্টাংশ থেকে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডাবল ক্লিনজিং করতে পারেন। সবশেষে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুখের পানি মুছে নিন।
প্রতিদিন ফেসপ্যাক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
সময় করে
সপ্তাহে এক
বা দুই
দিন ত্বকের
ধরন অনুযায়ী
প্যাক ব্যবহার
করতে পারেন।
· শুষ্ক ত্বকে: টক দই, মধু ও পাকা কলা একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়।
· তৈলাক্ত ত্বকে: মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
প্যাক মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন। ফেসপ্যাক ধুয়ে ফেলার পর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি উপযোগী ফেশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অর্গান অয়েল কিংবা ভিটামিন ইযুক্ত ফেশিয়াল অয়েল বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তবে ফেস অয়েল ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের ধরন ও পণ্যের উপযোগিতা বিবেচনা করা জরুরি। সব ধরনের তেল সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নয়।
ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যা অনুযায়ী সিরাম
ব্যবহার করলে
পরিচর্যার রুটিন আরও লক্ষ্যভিত্তিক হতে
পারে। কোন
ধরনের সিরাম
ব্যবহার করবেন,
তা নির্ভর
করবে ত্বকের
প্রয়োজনের ওপর।
· শুষ্ক ত্বক: হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
· অসম রং ও কালচে দাগ: ভিটামিন সিযুক্ত সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
· তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বক: নিয়াসিনামাইডযুক্ত সিরাম বেছে নিতে পারেন।
· বলিরেখার যত্ন: রেটিনল ব্যবহার করা হলেও শুরুতে কম মাত্রায় এবং সপ্তাহে অল্প কয়েক দিন ব্যবহার করা ভালো। গর্ভাবস্থায় রেটিনল এড়িয়ে চলতে হবে।
রাতের রূপচর্চার শেষ ধাপ ময়েশ্চারাইজার। সিরাম ব্যবহারের পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। মুখের পাশাপাশি গলা ও ঘাড়েও ব্যবহার করুন।
হাত, পায়ের পাতা, হাঁটু ও কনুইয়ের মতো যেসব স্থানে সহজে শুষ্কতা দেখা দেয়, সেসব জায়গাতেও ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন।
নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ভালো ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য অল্প সময় রাখা ত্বকের যত্নে সহায়ক হতে পারে। তবে সব পণ্য একসঙ্গে ব্যবহার না করে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী রুটিন তৈরি করাই ভালো।

আপনার মতামত লিখুন