সংবাদ

পদ্মা-যমুনায় তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

পদ্মা-যমুনায় তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু এবং যমুনা দ্বিতীয় সেতু; জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি মেগা প্রকল্প নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেছি। আপনারা জানেন, পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা দ্বিতীয় সেতু ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু; এগুলো খুবই প্রয়োজনীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।"

মন্ত্রী বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন, "পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতুর প্রয়োজনীয়তা ও দাবি রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।"

প্রকল্পগুলোর ভৌত কাজ শুরু করার আগে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মূলত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সভা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ব্যারেজটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

উভয় প্রকল্পের পারস্পরিক সংযোগ নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, "পদ্মা ব্যারেজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির সম্পূরক বা পরিপূরক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি ঘটবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতুও বাস্তবায়ন করা হবে।"

বর্তমানে দুটি প্রকল্পেরই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে।

পদ্মা ব্যারেজের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রকল্পটি একনেকে পাস হওয়ার পর বিস্তারিত নকশার কাজ চলার সময়ই কাছাকাছি স্থানে ওয়াই-টাইপ সেতুর বিষয়টি আসে, ফলে প্রকল্প দুটির সমন্বয় জরুরি ছিল।

এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক প্রসারে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেতুমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, "বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরুর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।"

মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন, "নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিনটি প্রকল্পই বাস্তবায়ন হবে। পদ্মা ব্যারেজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু এবং যমুনা দ্বিতীয় সেতু। ফিজিবিলিটি স্টাডি আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সরকার প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।"

এই সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


পদ্মা-যমুনায় তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু এবং যমুনা দ্বিতীয় সেতু; জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি মেগা প্রকল্প নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেছি। আপনারা জানেন, পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা দ্বিতীয় সেতু ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু; এগুলো খুবই প্রয়োজনীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।"

মন্ত্রী বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন, "পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতুর প্রয়োজনীয়তা ও দাবি রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।"

প্রকল্পগুলোর ভৌত কাজ শুরু করার আগে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মূলত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সভা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ব্যারেজটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

উভয় প্রকল্পের পারস্পরিক সংযোগ নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, "পদ্মা ব্যারেজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির সম্পূরক বা পরিপূরক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি ঘটবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতুও বাস্তবায়ন করা হবে।"

বর্তমানে দুটি প্রকল্পেরই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে।

পদ্মা ব্যারেজের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রকল্পটি একনেকে পাস হওয়ার পর বিস্তারিত নকশার কাজ চলার সময়ই কাছাকাছি স্থানে ওয়াই-টাইপ সেতুর বিষয়টি আসে, ফলে প্রকল্প দুটির সমন্বয় জরুরি ছিল।

এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক প্রসারে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেতুমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, "বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরুর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।"

মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন, "নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিনটি প্রকল্পই বাস্তবায়ন হবে। পদ্মা ব্যারেজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু এবং যমুনা দ্বিতীয় সেতু। ফিজিবিলিটি স্টাডি আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সরকার প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।"

এই সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত