দেশের প্রমত্তা পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, তীব্র নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মা সেতুসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া। আদেশের পর শুনানির অভিজ্ঞতা ও নদীর সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে নদীভাঙন যেমন বাড়তে পারে, তেমনি দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতুর নিরাপত্তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
এর আগে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করা হয়। মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এটি দায়ের করেন। শুনানিতে তিনি নিজেই আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নদী থেকে দেশের আইন লঙ্ঘন করে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিটি ঘটনা ও অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি দেশের নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
আইনজীবী তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, “পদ্মা নদী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।” দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে আদালত এই রুল জারি করে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
দেশের প্রমত্তা পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, তীব্র নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মা সেতুসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া। আদেশের পর শুনানির অভিজ্ঞতা ও নদীর সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে নদীভাঙন যেমন বাড়তে পারে, তেমনি দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতুর নিরাপত্তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
এর আগে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করা হয়। মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এটি দায়ের করেন। শুনানিতে তিনি নিজেই আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নদী থেকে দেশের আইন লঙ্ঘন করে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিটি ঘটনা ও অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি দেশের নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
আইনজীবী তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, “পদ্মা নদী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।” দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে আদালত এই রুল জারি করে।

আপনার মতামত লিখুন