টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকটি সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনটি সংস্কার না করায় সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে এলাকার গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে নিজের বেতনের টাকা খরচ করে পাকা রাস্তার পাশের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ক্লিনিকটির দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) স্বপ্না আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ২৭ নভেম্বর লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি নির্মিত হয়। নির্মাণের ধারাবাহিকতায় সে সময়কার অন্যতম এই ক্লিনিকটি দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের সংস্কারের মুখ দেখেনি। একই সময়ে নির্মিত আশপাশের অন্য ক্লিনিকগুলো সংস্কার করা হলেও এটি রয়ে গেছে চরম অবহেলায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত থাকায় পাশের একটি ভাড়া করা কক্ষে চলছে ক্লিনিকের সব কার্যক্রম। রোগীদের চিকিৎসাসেবা যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য সিএইচসিপি স্বপ্না আক্তার নিজ পকেট থেকে প্রতি মাসে ঘরের ভাড়া পরিশোধ করছেন। এভাবেই অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
একসময় লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি এলাকার গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি নির্ভরতার জায়গা ছিল। এখানে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) ব্যবস্থাও চালু ছিল। এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিএইচসিপি স্বপ্না আক্তার জানান, উপযুক্ত ভবন ও পরিবেশ না থাকায় এখন আর সেখানে প্রসবসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গর্ভবতী মায়েদের বাধ্য হয়ে দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাতে হচ্ছে, যা প্রসূতিদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বপ্না আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যাক, তা আমি চাইনি। তাই নিজের বেতনের টাকায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে যতটুকু সম্ভব সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ আবার আগের মতো দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।’
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম জানান, বেহাল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য বিশেষ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজ চলছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুতই নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকটি সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনটি সংস্কার না করায় সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে এলাকার গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে নিজের বেতনের টাকা খরচ করে পাকা রাস্তার পাশের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ক্লিনিকটির দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) স্বপ্না আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ২৭ নভেম্বর লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি নির্মিত হয়। নির্মাণের ধারাবাহিকতায় সে সময়কার অন্যতম এই ক্লিনিকটি দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের সংস্কারের মুখ দেখেনি। একই সময়ে নির্মিত আশপাশের অন্য ক্লিনিকগুলো সংস্কার করা হলেও এটি রয়ে গেছে চরম অবহেলায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত থাকায় পাশের একটি ভাড়া করা কক্ষে চলছে ক্লিনিকের সব কার্যক্রম। রোগীদের চিকিৎসাসেবা যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য সিএইচসিপি স্বপ্না আক্তার নিজ পকেট থেকে প্রতি মাসে ঘরের ভাড়া পরিশোধ করছেন। এভাবেই অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
একসময় লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি এলাকার গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি নির্ভরতার জায়গা ছিল। এখানে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) ব্যবস্থাও চালু ছিল। এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিএইচসিপি স্বপ্না আক্তার জানান, উপযুক্ত ভবন ও পরিবেশ না থাকায় এখন আর সেখানে প্রসবসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গর্ভবতী মায়েদের বাধ্য হয়ে দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাতে হচ্ছে, যা প্রসূতিদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বপ্না আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যাক, তা আমি চাইনি। তাই নিজের বেতনের টাকায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে যতটুকু সম্ভব সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ আবার আগের মতো দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।’
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম জানান, বেহাল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য বিশেষ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজ চলছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুতই নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন