গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হাসানের (১৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তিনি মারা যান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে অশ্রুসিক্ত চোখে তাকে দাফন করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহত তৌফিক ওই গ্রামের মৃত তবি খাঁর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শৈশবে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ঢাকায় পাড়ি জমান তৌফিক। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কারখানায় কাজ করা উদ্যমী এই তরুণ সম্প্রতি এক পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে খাবার খেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তৌফিক। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিছিলের ভিডিও ধারণ করার মিথ্যা অভিযোগে একটি কারখানার সামনে দুর্বৃত্তরা তার ওপর চড়াও হয়। সেখানে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হলে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। খবর পেয়ে তার ভাই দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তৌফিকের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, তৌফিকের ভিডিও করার মতো কোনো স্মার্টফোন ছিল না; তবুও তাকে অন্যায়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, নবজাতক সন্তান ও বৃদ্ধা মা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায়। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে তৌফিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন শোকাহত পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হাসানের (১৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তিনি মারা যান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে অশ্রুসিক্ত চোখে তাকে দাফন করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহত তৌফিক ওই গ্রামের মৃত তবি খাঁর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শৈশবে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ঢাকায় পাড়ি জমান তৌফিক। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কারখানায় কাজ করা উদ্যমী এই তরুণ সম্প্রতি এক পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে খাবার খেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তৌফিক। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিছিলের ভিডিও ধারণ করার মিথ্যা অভিযোগে একটি কারখানার সামনে দুর্বৃত্তরা তার ওপর চড়াও হয়। সেখানে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হলে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। খবর পেয়ে তার ভাই দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তৌফিকের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, তৌফিকের ভিডিও করার মতো কোনো স্মার্টফোন ছিল না; তবুও তাকে অন্যায়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, নবজাতক সন্তান ও বৃদ্ধা মা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায়। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে তৌফিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন শোকাহত পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন