জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে দলটির প্রতিক্রিয়াকে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ’ বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেবল নারীদের জন্য পৃথক কমিটি করে কাজ করার সুযোগ দেওয়াকে মূল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অন্তর্ভুক্তি বলা যায় না।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়ার গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় টিআইবি।
এর আগে রবিবার টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। এর প্রতিবাদে সোমবার বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, "দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়া দলের রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী।"
তিনি টিআইবির দেওয়া তথ্যকে অসত্য দাবি করে ভবিষ্যতে এমন প্রতিবেদন তৈরিতে জামায়াতকে নিয়ে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
তবে জামায়াতের এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে টিআইবি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গবেষণা প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করার জন্য জামায়াতকে ধন্যবাদ জানানো হলেও গবেষণার মূল তথ্য অস্বীকার করায় তারা অত্যন্ত বিস্মিত।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৯১০খ(১)(খ)(আ) ধারা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিআইবি বলে, গঠনতন্ত্রে সব স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০২৩-২৫ মেয়াদের ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে জামায়াতের কোনো নারী সদস্য নেই, যা সুস্পষ্টভাবে আরপিওর লঙ্ঘন।
টিআইবির মতে, মজলিসে শুরা বা সম্মেলনে কতজন নারী আছেন তা গবেষণার মূল বিষয় ছিল না; মূল বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য পৃথক কমিটি থাকার যে চর্চা, তাতে নারীদের কেবল একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এমনকি জামায়াতের মতো দলে আমির, নায়েবে আমির কিংবা সেক্রেটারি জেনারেলের মতো শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্বের অনুপস্থিতি বিদ্যমান।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি বলেও স্মরণ করিয়ে দেয় সংস্থাটি। একই সাথে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা; যেমন ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সমাজ গঠন ও অন্য সব আইন প্রত্যাখ্যান, সংবিধানের মূলনীতির (জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসংপ্রদায়িকতা) সাথে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
আন্তর্জাতিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা এই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নিজ নিজ দলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে দলটির প্রতিক্রিয়াকে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ’ বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেবল নারীদের জন্য পৃথক কমিটি করে কাজ করার সুযোগ দেওয়াকে মূল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অন্তর্ভুক্তি বলা যায় না।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়ার গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় টিআইবি।
এর আগে রবিবার টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। এর প্রতিবাদে সোমবার বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, "দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়া দলের রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী।"
তিনি টিআইবির দেওয়া তথ্যকে অসত্য দাবি করে ভবিষ্যতে এমন প্রতিবেদন তৈরিতে জামায়াতকে নিয়ে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
তবে জামায়াতের এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে টিআইবি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গবেষণা প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করার জন্য জামায়াতকে ধন্যবাদ জানানো হলেও গবেষণার মূল তথ্য অস্বীকার করায় তারা অত্যন্ত বিস্মিত।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৯১০খ(১)(খ)(আ) ধারা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিআইবি বলে, গঠনতন্ত্রে সব স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০২৩-২৫ মেয়াদের ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে জামায়াতের কোনো নারী সদস্য নেই, যা সুস্পষ্টভাবে আরপিওর লঙ্ঘন।
টিআইবির মতে, মজলিসে শুরা বা সম্মেলনে কতজন নারী আছেন তা গবেষণার মূল বিষয় ছিল না; মূল বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য পৃথক কমিটি থাকার যে চর্চা, তাতে নারীদের কেবল একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এমনকি জামায়াতের মতো দলে আমির, নায়েবে আমির কিংবা সেক্রেটারি জেনারেলের মতো শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্বের অনুপস্থিতি বিদ্যমান।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি বলেও স্মরণ করিয়ে দেয় সংস্থাটি। একই সাথে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা; যেমন ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সমাজ গঠন ও অন্য সব আইন প্রত্যাখ্যান, সংবিধানের মূলনীতির (জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসংপ্রদায়িকতা) সাথে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
আন্তর্জাতিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা এই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নিজ নিজ দলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আপনার মতামত লিখুন