চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ ছাড়া সবচেয়ে কম পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ২ হাজার ৯২৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্যের হার বৃদ্ধি এবং তিন পাহাড়ি জেলায় পাসের হার কম হওয়া চট্টগ্রাম বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এর বাইরে দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র, রুব্রিক্স পদ্ধতিতে মূল্যায়ন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার মাঝখানের বিরতিও বড় প্রভাব ফেলেছে।
চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। শনিবার সকাল ১১টায় বোর্ড মিলনায়তনে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন। একই দিন দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেরও ফলাফল প্রকাশিত হয়। মোট নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম। পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ নিয়ে এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বোর্ড।
গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার ২৮৩টি কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন, যাদের পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ (গতবার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ)। এবার ২২ হাজার ১১৪ জন পরীক্ষার্থী মাত্র এক বিষয়ে ফেল করেছেন। এ ছাড়া পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন এবং বহিষ্কার করা হয় একজনকে। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ১১৪টি। এর মধ্যে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, অন্যদিকে শতভাগ পাস করেছে ৬টি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ ছাত্র এবং ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছাত্রী। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে আছে; ১ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। সব মিলিয়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন, যা গত বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন।
যে কারণে ফলাফল বিপর্যয়
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা এবার সবচেয়ে বেশি। ইংরেজিতে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং আইসিটিতে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন, যা বোর্ডের গড় ফলাফল নামিয়ে আনার জন্য বিশেষভাবে দায়ী। আবশ্যিক এ দুই বিষয়ে ২৬ হাজার ৫৯৭ জন আইসিটিতে এবং ৩৪ হাজার ১৭৭ জন ইংরেজিতে ফেল করেছেন।
ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশি ফেল করার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেলের হার একটু বেশি হয়েছে। অনেক কলেজে আইসিটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই যথাসাধ্য চেষ্টা করে পরীক্ষা দিচ্ছে, যা একটি বড় সমস্যা। আবার অনেক কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে আইসিটি পড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে ইংরেজিতে ১২ বছর পড়াশোনা করার পরও শিক্ষার্থীরা এখনো দুর্বল এবং পারদর্শিতার অভাব রয়েছে।’
এদিকে বোর্ডের আওতাধীন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার গতবারের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ (গতবার ছিল ৪১ দশমিক ২৪ শতাংশ), খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ (গতবার ৩৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ) এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। পাহাড়ি জেলার বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মহানগর বাদে জেলায় তা ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এবার সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় ফলাফল মূল্যায়নে ‘রুব্রিক্স’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে আগের মতো ঢালাও বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ ছিল না। নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা—এই চার ধাপে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বহু শিক্ষার্থীর নম্বর কমে গেছে। তা ছাড়া ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাঝপথে দীর্ঘ বিরতি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও মনোযোগ কিছুটা ব্যাহত হয়, যা ফল বিপর্যয়ে প্রভাব রেখেছে।
বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘মূল্যায়ন যথাযথ ও নিখুঁত হওয়ায় এ বছর জিপিএ-৫ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ ছাড়া আইসিটি ও ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের ফলাফল সামগ্রিক গড় পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে।’
বোর্ড সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এই পরীক্ষার্থীরাই প্রথম পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে। করোনাসহ নানা বাধা অতিক্রম করে তারা এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। জিপিএ-৫ কেন এত কমল, তা গবেষণার বিষয়। বোর্ড থেকে প্রকৃত কারণ দ্রুত উন্মোচন করা হবে।’
বিজ্ঞানে এগিয়ে, মানবিকে পিছিয়ে
চট্টগ্রাম বোর্ডে বিভাগীয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন মানবিক বিভাগ থেকে। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে ১১ হাজার ২৬৭ জন ছাত্র ও ১২ হাজার ১৬২ জন ছাত্রী, মানবিক বিভাগে ১৬ হাজার ৪০১ জন ছাত্র ও ২৭ হাজার ৯৩৬ জন ছাত্রী এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্র ও ১৫ হাজার ১৯৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ ছাড়া সবচেয়ে কম পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ২ হাজার ৯২৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্যের হার বৃদ্ধি এবং তিন পাহাড়ি জেলায় পাসের হার কম হওয়া চট্টগ্রাম বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এর বাইরে দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র, রুব্রিক্স পদ্ধতিতে মূল্যায়ন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার মাঝখানের বিরতিও বড় প্রভাব ফেলেছে।
চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। শনিবার সকাল ১১টায় বোর্ড মিলনায়তনে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন। একই দিন দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেরও ফলাফল প্রকাশিত হয়। মোট নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম। পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ নিয়ে এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বোর্ড।
গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার ২৮৩টি কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন, যাদের পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ (গতবার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ)। এবার ২২ হাজার ১১৪ জন পরীক্ষার্থী মাত্র এক বিষয়ে ফেল করেছেন। এ ছাড়া পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন এবং বহিষ্কার করা হয় একজনকে। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ১১৪টি। এর মধ্যে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, অন্যদিকে শতভাগ পাস করেছে ৬টি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ ছাত্র এবং ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছাত্রী। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে আছে; ১ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। সব মিলিয়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন, যা গত বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন।
যে কারণে ফলাফল বিপর্যয়
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা এবার সবচেয়ে বেশি। ইংরেজিতে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং আইসিটিতে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন, যা বোর্ডের গড় ফলাফল নামিয়ে আনার জন্য বিশেষভাবে দায়ী। আবশ্যিক এ দুই বিষয়ে ২৬ হাজার ৫৯৭ জন আইসিটিতে এবং ৩৪ হাজার ১৭৭ জন ইংরেজিতে ফেল করেছেন।
ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশি ফেল করার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেলের হার একটু বেশি হয়েছে। অনেক কলেজে আইসিটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই যথাসাধ্য চেষ্টা করে পরীক্ষা দিচ্ছে, যা একটি বড় সমস্যা। আবার অনেক কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে আইসিটি পড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে ইংরেজিতে ১২ বছর পড়াশোনা করার পরও শিক্ষার্থীরা এখনো দুর্বল এবং পারদর্শিতার অভাব রয়েছে।’
এদিকে বোর্ডের আওতাধীন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার গতবারের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ (গতবার ছিল ৪১ দশমিক ২৪ শতাংশ), খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ (গতবার ৩৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ) এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। পাহাড়ি জেলার বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মহানগর বাদে জেলায় তা ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এবার সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় ফলাফল মূল্যায়নে ‘রুব্রিক্স’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে আগের মতো ঢালাও বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ ছিল না। নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা—এই চার ধাপে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বহু শিক্ষার্থীর নম্বর কমে গেছে। তা ছাড়া ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাঝপথে দীর্ঘ বিরতি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও মনোযোগ কিছুটা ব্যাহত হয়, যা ফল বিপর্যয়ে প্রভাব রেখেছে।
বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘মূল্যায়ন যথাযথ ও নিখুঁত হওয়ায় এ বছর জিপিএ-৫ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ ছাড়া আইসিটি ও ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের ফলাফল সামগ্রিক গড় পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে।’
বোর্ড সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এই পরীক্ষার্থীরাই প্রথম পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে। করোনাসহ নানা বাধা অতিক্রম করে তারা এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। জিপিএ-৫ কেন এত কমল, তা গবেষণার বিষয়। বোর্ড থেকে প্রকৃত কারণ দ্রুত উন্মোচন করা হবে।’
বিজ্ঞানে এগিয়ে, মানবিকে পিছিয়ে
চট্টগ্রাম বোর্ডে বিভাগীয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন মানবিক বিভাগ থেকে। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে ১১ হাজার ২৬৭ জন ছাত্র ও ১২ হাজার ১৬২ জন ছাত্রী, মানবিক বিভাগে ১৬ হাজার ৪০১ জন ছাত্র ও ২৭ হাজার ৯৩৬ জন ছাত্রী এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্র ও ১৫ হাজার ১৯৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন