‘মওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল ধানের শীষ। ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় আসলো। সেই সময় মওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন- তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম’।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-বিতর্ক।
প্রধানমন্ত্রী সেই জনসভায় বলেন, ‘মাওলানা ভাসানীর একটি প্রতীক ছিল। বলেন তো তার প্রতীকটা কি ছিল? ধানের শীষ। এই মাওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল কিন্তু ধানের শীষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বভার পেলেন, মাওলানা ভাসানী দেখলেন যে, ভাসানী সারাটা জীবন দেশের জন্য যেই কষ্টটা করেছেন, কাজ করতে চেয়েছেন, দেশের মানুষের যে কথাগুলো বলতে চেয়েছেন- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিক সেই কথাগুলো বলছেন এবং সেই কাজগুলোই করার চেষ্টা করছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
সেই সময়ের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেজন্যই যখন ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় আসলো, সেই সময় মাওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন, তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম। প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেদিন থেকে মাওলানা ভাসানীর সেই ধানের শীষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি, শহীদ জিয়া, শহীদ জিয়ার পরে খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়ার পরে আপনারা যারা বিএনপির নেতাকর্মী- সেই ধানের শীষকে জনগণের মাঝে নিয়ে গিয়েছেন।’
তারেক রহমানের সেই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-বিতর্ক। উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, ‘মজলুম জননেতা’ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী মারা যান ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর। সে হিসেবে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে সরাসরি প্রতীক তুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না তার। এই তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়েই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়।
এ বিষয়ে ফটোকার্ড শেয়ার করেছে বেসরকারি চ্যানেল আরটিভি। তাদের সেই কার্ড নিয়ে গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্টের ফেসবুকে লেখা হয়, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে মওলানা ভাসানী কর্তৃক ধানের শীষ তুলে দেয়ার দাবিটি সত্য নয় (ভাসানী ইন্তেকাল করেন ১৯৭৬ সালে)।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। অনেকে ইতিহাস ঘেঁটে তথ্য পেশ করছেন, কেউ কেউ আবার প্রতীকী অর্থে বক্তব্যটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন।তবে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বক্তব্যটি প্রতীকী অর্থে করা হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ ভাসানীর আদর্শ ও পথ অনুসরণ করায় জিয়াউর রহমান যেন তার ‘রাজনৈতিক উত্তরাধিকার’ পেয়েছেন- সেই বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
‘মওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল ধানের শীষ। ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় আসলো। সেই সময় মওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন- তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম’।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-বিতর্ক।
প্রধানমন্ত্রী সেই জনসভায় বলেন, ‘মাওলানা ভাসানীর একটি প্রতীক ছিল। বলেন তো তার প্রতীকটা কি ছিল? ধানের শীষ। এই মাওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল কিন্তু ধানের শীষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বভার পেলেন, মাওলানা ভাসানী দেখলেন যে, ভাসানী সারাটা জীবন দেশের জন্য যেই কষ্টটা করেছেন, কাজ করতে চেয়েছেন, দেশের মানুষের যে কথাগুলো বলতে চেয়েছেন- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিক সেই কথাগুলো বলছেন এবং সেই কাজগুলোই করার চেষ্টা করছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
সেই সময়ের ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেজন্যই যখন ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় আসলো, সেই সময় মাওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন, তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম। প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেদিন থেকে মাওলানা ভাসানীর সেই ধানের শীষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি, শহীদ জিয়া, শহীদ জিয়ার পরে খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়ার পরে আপনারা যারা বিএনপির নেতাকর্মী- সেই ধানের শীষকে জনগণের মাঝে নিয়ে গিয়েছেন।’
তারেক রহমানের সেই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-বিতর্ক। উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, ‘মজলুম জননেতা’ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী মারা যান ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর। সে হিসেবে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে সরাসরি প্রতীক তুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না তার। এই তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়েই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়।
এ বিষয়ে ফটোকার্ড শেয়ার করেছে বেসরকারি চ্যানেল আরটিভি। তাদের সেই কার্ড নিয়ে গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্টের ফেসবুকে লেখা হয়, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে মওলানা ভাসানী কর্তৃক ধানের শীষ তুলে দেয়ার দাবিটি সত্য নয় (ভাসানী ইন্তেকাল করেন ১৯৭৬ সালে)।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। অনেকে ইতিহাস ঘেঁটে তথ্য পেশ করছেন, কেউ কেউ আবার প্রতীকী অর্থে বক্তব্যটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন।তবে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বক্তব্যটি প্রতীকী অর্থে করা হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ ভাসানীর আদর্শ ও পথ অনুসরণ করায় জিয়াউর রহমান যেন তার ‘রাজনৈতিক উত্তরাধিকার’ পেয়েছেন- সেই বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন