সংবাদ

দুই সপ্তাহেই দেশে এলো ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

দুই সপ্তাহেই দেশে এলো ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা

চলতি এপ্রিল মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহেই অর্থাৎ ১৪ দিনে প্রবাসীরা ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক। গত বছর এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ১৪ দিনেই গতবারের চেয়ে ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বেশি এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের নানা উদ্যোগ ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ .৭৫ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছিলো। এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় ছিল ২০২৫ সালের মার্চে .২৯ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড রয়েছে। এপ্রিলের এই বর্তমান ধারা বজায় থাকলে মাসের শেষে নতুন কোনো রেকর্ড তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব মুদ্রাবাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যার ফলে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও ঊর্ধ্বমুখী। প্রবাসীরা এখন ডলারের বিনিময়ে আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ।

অর্থনীতিবিদরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবায় আরও সহজতর করার তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


দুই সপ্তাহেই দেশে এলো ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চলতি এপ্রিল মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহেই অর্থাৎ ১৪ দিনে প্রবাসীরা ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক। গত বছর এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ১৪ দিনেই গতবারের চেয়ে ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বেশি এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের নানা উদ্যোগ ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ .৭৫ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছিলো। এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় ছিল ২০২৫ সালের মার্চে .২৯ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড রয়েছে। এপ্রিলের এই বর্তমান ধারা বজায় থাকলে মাসের শেষে নতুন কোনো রেকর্ড তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব মুদ্রাবাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যার ফলে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও ঊর্ধ্বমুখী। প্রবাসীরা এখন ডলারের বিনিময়ে আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ।

অর্থনীতিবিদরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবায় আরও সহজতর করার তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত