সীমান্ত যেন মিলিয়ে যায় পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণে, আর বিভাজন ডুবে যায় আলপনার নকশায়। বাংলাদেশে ১৪ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গে ১৫ এপ্রিল- তারিখের এই সামান্য ফারাকটুকুই হয়তো মনে করিয়ে দেয় দুই বাংলার ভিন্ন ভূগোলের কথা। কিন্তু আবেগ, ঐতিহ্য আর উৎসবের রংয়ে কোনো পার্থক্য নেই।
২০২৬ সালের বাংলা নববর্ষেও তাই। কলকাতা থেকে ঢাকা- সব মিলিয়ে এক সুরে বাজছে ‘এসো হে বৈশাখ’।
ভোরের কলকাতা যেন অন্য রূপ ধরে নেয়। রবীন্দ্র সদন চত্বর হয়ে ওঠে উৎসবের প্রাণকেন্দ্র। সকাল থেকেই শুরু হয় লোকসংগীত, কবিতা, নাচ আর শোভাযাত্রা। শুধু মঞ্চ নয়, গোটা শহরটাই যেন মঞ্চে পরিণত হয়। শিল্পী-সাধারণ সব মিলে রাস্তায় নামেন- উৎসবকে উন্মুক্ত করে দেন সবার জন্য।
উত্তরের পুরোনো গলি থেকে দক্ষিণের প্রশস্ত সড়ক- সবখানে সাদা আলপনার ছোঁয়ায় ফুটে ওঠে শঙ্খ, পদ্ম, সূর্য। মনে হয় শহর নিজেই এক বিশাল ক্যানভাস, যেখানে বাঙালি এঁকে দিচ্ছে তার নিজস্ব ইতিহাস।
রাস্তায় রাস্তায় লাল-সাদা শাড়ি, বাহারি পাঞ্জাবি পরা মানুষের ঢল। কলকাতা হয়ে ওঠে এক বর্ণিল তিলোত্তমা। প্রতিটি চৌরাস্তা যেন নতুন বছরের গল্প বলে, প্রতিটি মুখে যেন একটাই আহ্বান- ‘বাংলা নববর্ষ শুভ হোক’।
শুধু আমোদ-আহ্লাদ নয়, নববর্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হালখাতার প্রথা। পুরনো হিসেব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার এই রীতি আজও দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়। ব্যবসায়ীরা দোকানে গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানান, বিনিময় করেন মিষ্টিমুখ আর শুভেচ্ছা। অর্থনীতির চেয়েও বড় এ যেন সামাজিক বন্ধনের উৎসব।
খাবারের মেলবন্ধনও যেন একই সুরে বাঁধা। বাংলাদেশ যেমন পান্তা-ইলিশে ডুবে থাকে, কলকাতাও সাজায় ইলিশ, লুচি, আলুর দম আর মিষ্টির সম্ভার। উৎসবের স্বাদ যেন দুই বাংলাকেই আলিঙ্গন করে।
বাংলা নববর্ষ আজ শুধু একটি তারিখ নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন। যেখানে মিলিয়ে যায় ধর্ম, রাজনীতি, সীমান্তের প্রাচীর। ঢাকার রমনা থেকে কলকাতার রাজপথ—দুটি আলাদা ভূগোল, কিন্তু এক আত্মা।
বাঙালি আজ একসঙ্গে বলে ওঠে- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ এই উৎসব যেন প্রতি বছর মনে করিয়ে দেয়, দুই বাংলা আলাদা নয়, এটি এক ভাষার, এক সংস্কৃতির, এক হৃদয়ের দুই রূপ।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সীমান্ত যেন মিলিয়ে যায় পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণে, আর বিভাজন ডুবে যায় আলপনার নকশায়। বাংলাদেশে ১৪ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গে ১৫ এপ্রিল- তারিখের এই সামান্য ফারাকটুকুই হয়তো মনে করিয়ে দেয় দুই বাংলার ভিন্ন ভূগোলের কথা। কিন্তু আবেগ, ঐতিহ্য আর উৎসবের রংয়ে কোনো পার্থক্য নেই।
২০২৬ সালের বাংলা নববর্ষেও তাই। কলকাতা থেকে ঢাকা- সব মিলিয়ে এক সুরে বাজছে ‘এসো হে বৈশাখ’।
ভোরের কলকাতা যেন অন্য রূপ ধরে নেয়। রবীন্দ্র সদন চত্বর হয়ে ওঠে উৎসবের প্রাণকেন্দ্র। সকাল থেকেই শুরু হয় লোকসংগীত, কবিতা, নাচ আর শোভাযাত্রা। শুধু মঞ্চ নয়, গোটা শহরটাই যেন মঞ্চে পরিণত হয়। শিল্পী-সাধারণ সব মিলে রাস্তায় নামেন- উৎসবকে উন্মুক্ত করে দেন সবার জন্য।
উত্তরের পুরোনো গলি থেকে দক্ষিণের প্রশস্ত সড়ক- সবখানে সাদা আলপনার ছোঁয়ায় ফুটে ওঠে শঙ্খ, পদ্ম, সূর্য। মনে হয় শহর নিজেই এক বিশাল ক্যানভাস, যেখানে বাঙালি এঁকে দিচ্ছে তার নিজস্ব ইতিহাস।
রাস্তায় রাস্তায় লাল-সাদা শাড়ি, বাহারি পাঞ্জাবি পরা মানুষের ঢল। কলকাতা হয়ে ওঠে এক বর্ণিল তিলোত্তমা। প্রতিটি চৌরাস্তা যেন নতুন বছরের গল্প বলে, প্রতিটি মুখে যেন একটাই আহ্বান- ‘বাংলা নববর্ষ শুভ হোক’।
শুধু আমোদ-আহ্লাদ নয়, নববর্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হালখাতার প্রথা। পুরনো হিসেব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার এই রীতি আজও দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়। ব্যবসায়ীরা দোকানে গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানান, বিনিময় করেন মিষ্টিমুখ আর শুভেচ্ছা। অর্থনীতির চেয়েও বড় এ যেন সামাজিক বন্ধনের উৎসব।
খাবারের মেলবন্ধনও যেন একই সুরে বাঁধা। বাংলাদেশ যেমন পান্তা-ইলিশে ডুবে থাকে, কলকাতাও সাজায় ইলিশ, লুচি, আলুর দম আর মিষ্টির সম্ভার। উৎসবের স্বাদ যেন দুই বাংলাকেই আলিঙ্গন করে।
বাংলা নববর্ষ আজ শুধু একটি তারিখ নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন। যেখানে মিলিয়ে যায় ধর্ম, রাজনীতি, সীমান্তের প্রাচীর। ঢাকার রমনা থেকে কলকাতার রাজপথ—দুটি আলাদা ভূগোল, কিন্তু এক আত্মা।
বাঙালি আজ একসঙ্গে বলে ওঠে- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ এই উৎসব যেন প্রতি বছর মনে করিয়ে দেয়, দুই বাংলা আলাদা নয়, এটি এক ভাষার, এক সংস্কৃতির, এক হৃদয়ের দুই রূপ।

আপনার মতামত লিখুন