সংবাদ

পরিবারের ওপর অভিমানে কবিরাজের ফাঁদে কিশোরী, ২৫ ভরি সোনা উদ্ধার


প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

পরিবারের ওপর অভিমানে কবিরাজের ফাঁদে কিশোরী, ২৫ ভরি সোনা উদ্ধার
ছবি : সংবাদ

মা-বাবা ছোট ভাইবোনকে বেশি ভালোবাসেন-এমন ধারণা থেকে তৈরি হওয়া অভিমান ও মানসিক হতাশাকে পুঁজি করে অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরীকে সর্বস্বান্ত করেছে একটি প্রতারক চক্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তারসহ উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

ভুক্তভোগী লুবাবা (১২) শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা শেরপুর জেলা শহরের মাধবপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী।

পিবিআই জানায়, পরিবারে অবহেলার শিকার হচ্ছে-এমন ধারণা থেকে লুবাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো শুরু করে। একপর্যায়ে টিকটকে ‘খোরশেদ কবিরাজ’ নামে এক তান্ত্রিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ওই প্রতারক ও তার সহযোগীরা ‘আল্লাহর দান’সহ বিভিন্ন নামে ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং তার সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়।

প্রতারক চক্রটি গত ৬ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে তান্ত্রিকের ফি, জায়নামাজ, আগরবাতি ও বিভিন্ন ফল কেনার অজুহাতে কিশোরীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে আরও বড় সমস্যা সমাধানের কথা বলে কৌশলে তার মা-বাবার প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে কিশোরী আবারও টাকা পাঠাতে গেলে দোকানের এজেন্টের সন্দেহ হয়। তিনি কিশোরীর বাবাকে বিষয়টি জানালে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর তার বাবা শেরপুর থানায় মামলা করেন।

মামলাটি পিবিআইয়ের নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলাম নামের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের মাসকান্দা থেকে মূল হোতা মনির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। মনিরের বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পিবিআই। এ সময় একটি দামি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা।

পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ‘অভিমানী কিশোরীর সরলতার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের এই প্রতারণা করা হয়েছে। আমাদের একাধিক দল কাজ করে মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ আদালতে পাঠানো হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


পরিবারের ওপর অভিমানে কবিরাজের ফাঁদে কিশোরী, ২৫ ভরি সোনা উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মা-বাবা ছোট ভাইবোনকে বেশি ভালোবাসেন-এমন ধারণা থেকে তৈরি হওয়া অভিমান ও মানসিক হতাশাকে পুঁজি করে অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরীকে সর্বস্বান্ত করেছে একটি প্রতারক চক্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তারসহ উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

ভুক্তভোগী লুবাবা (১২) শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা শেরপুর জেলা শহরের মাধবপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী।

পিবিআই জানায়, পরিবারে অবহেলার শিকার হচ্ছে-এমন ধারণা থেকে লুবাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো শুরু করে। একপর্যায়ে টিকটকে ‘খোরশেদ কবিরাজ’ নামে এক তান্ত্রিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ওই প্রতারক ও তার সহযোগীরা ‘আল্লাহর দান’সহ বিভিন্ন নামে ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং তার সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়।

প্রতারক চক্রটি গত ৬ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে তান্ত্রিকের ফি, জায়নামাজ, আগরবাতি ও বিভিন্ন ফল কেনার অজুহাতে কিশোরীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে আরও বড় সমস্যা সমাধানের কথা বলে কৌশলে তার মা-বাবার প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে কিশোরী আবারও টাকা পাঠাতে গেলে দোকানের এজেন্টের সন্দেহ হয়। তিনি কিশোরীর বাবাকে বিষয়টি জানালে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর তার বাবা শেরপুর থানায় মামলা করেন।

মামলাটি পিবিআইয়ের নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলাম নামের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের মাসকান্দা থেকে মূল হোতা মনির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। মনিরের বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পিবিআই। এ সময় একটি দামি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা।

পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ‘অভিমানী কিশোরীর সরলতার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের এই প্রতারণা করা হয়েছে। আমাদের একাধিক দল কাজ করে মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ আদালতে পাঠানো হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত