ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার বিকেলে যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইনজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারি স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে গত ১৩ এপ্রিল প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।
যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি পদের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি পদে দিদারুল ইসলাম, এ কে এম কামাল হোসেন খান ও মিজানুর রহমান তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী এমদাদুল হক।
এ ছাড়া সহসম্পাদক পদে সাইফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও ছাহবিয়া হক (কানিজ); অডিটর পদে ইসতিয়াক আহমেদ (ইমন) এবং সদস্য পদে এ কে এম মুনমুন আহমেদ (সেলিম), রফিকুল ইসলাম ফকির, সাবিহা সুলতানা (জেরিন), এম কামরুল হাসান সরকার, ফুয়াদ হাসান (নিউটন), আব্দুল্লাহ আল নাঈম ও তানিয়া আক্তার (রেশমী)।
স্থানীয় আইনজীবীরা জানান, প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যেমন—বদর উদ্দিন আহমেদ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, এমদাদুল হক ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফুয়াদ হাসান ত্রিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে আইনজীবীদের একটি অংশের দাবি, তালিকায় এমন কয়েকজনের নামও আছে, যাদের কোনো রাজনৈতিক দলের পদে থাকার প্রমাণ নেই।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিলে আগে থেকেই উল্লেখ করা হয়েছিল যে ‘নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।’
প্রার্থিতা বাতিল হওয়া প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের কোন ধারা অনুযায়ী আমাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে আমরা নির্বাচন বয়কট করব।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বারির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তার এক সহযোগী জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন। সমিতির সদস্যসচিব সৈয়দ সাদউদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন