রাজধানীর যানজট এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস এখন জ্বালানি সংকটের মুখে। পর্যাপ্ত ডিজেল না মেলায় ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। ঘাটে ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাতায়াতকারীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এফডিসি, রামপুরা ব্রিজ, গুদারাঘাট
ও পুলিশ প্লাজা এই চার রুটে চলাচলের জন্য মোট ১৫টি ট্যাক্সি থাকলেও বর্তমানে মাত্র
কয়েকটি সচল রয়েছে। আগে ১২-১৩টি ট্যাক্সি নিয়মিত চললেও এখন তেলের অভাবে অনেকগুলো ঘাটে
অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে। চালকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্যাক্সির জন্য দিনে অন্তত ৩০ লিটার
ডিজেল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ লিটার।
আগে ওয়াটার ট্যাক্সিগুলো অর্ধেক আসন পূর্ণ হলেই ছেড়ে যেত।
কিন্তু বর্তমান সংকটে ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত ইঞ্জিন চালু করছেন না চালকরা।
ফলে যেখানে ১৭-১৮ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটেই অপেক্ষা
করতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করা ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের ভোগান্তি
এখন চরমে।
ঈদুল ফিতরের পর এমনিতেই ট্রিপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে
পহেলা বৈশাখের আমেজ থাকায় হাতিরঝিলে দর্শনার্থী ও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। এই
বাড়তি চাপের মুখে তেলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভোগান্তি থাকলেও অনেক যাত্রী বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির
কথা চিন্তা করে বিষয়টি মেনে নিচ্ছেন। কয়েকজন যাত্রী জানান, রাস্তায় তীব্র যানজটে আটকে
থাকার চেয়ে একটু দেরি হলেও ওয়াটার ট্যাক্সি অনেক বেশি সুবিধাজনক। তবে এই সার্ভিসটি
সচল রাখতে সরকারকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
২০১৬ সালের বিজয় দিবস থেকে চালু হওয়া এই ওয়াটার ট্যাক্সি
সার্ভিস বাড্ডা, রামপুরা, গুলশান ও কারওয়ান বাজার এলাকার মানুষের যাতায়াতে এক যুগান্তকারী
পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু চলমান এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও
প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর যানজট এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস এখন জ্বালানি সংকটের মুখে। পর্যাপ্ত ডিজেল না মেলায় ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। ঘাটে ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাতায়াতকারীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এফডিসি, রামপুরা ব্রিজ, গুদারাঘাট
ও পুলিশ প্লাজা এই চার রুটে চলাচলের জন্য মোট ১৫টি ট্যাক্সি থাকলেও বর্তমানে মাত্র
কয়েকটি সচল রয়েছে। আগে ১২-১৩টি ট্যাক্সি নিয়মিত চললেও এখন তেলের অভাবে অনেকগুলো ঘাটে
অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে। চালকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্যাক্সির জন্য দিনে অন্তত ৩০ লিটার
ডিজেল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ লিটার।
আগে ওয়াটার ট্যাক্সিগুলো অর্ধেক আসন পূর্ণ হলেই ছেড়ে যেত।
কিন্তু বর্তমান সংকটে ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত ইঞ্জিন চালু করছেন না চালকরা।
ফলে যেখানে ১৭-১৮ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটেই অপেক্ষা
করতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করা ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের ভোগান্তি
এখন চরমে।
ঈদুল ফিতরের পর এমনিতেই ট্রিপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে
পহেলা বৈশাখের আমেজ থাকায় হাতিরঝিলে দর্শনার্থী ও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। এই
বাড়তি চাপের মুখে তেলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভোগান্তি থাকলেও অনেক যাত্রী বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির
কথা চিন্তা করে বিষয়টি মেনে নিচ্ছেন। কয়েকজন যাত্রী জানান, রাস্তায় তীব্র যানজটে আটকে
থাকার চেয়ে একটু দেরি হলেও ওয়াটার ট্যাক্সি অনেক বেশি সুবিধাজনক। তবে এই সার্ভিসটি
সচল রাখতে সরকারকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
২০১৬ সালের বিজয় দিবস থেকে চালু হওয়া এই ওয়াটার ট্যাক্সি
সার্ভিস বাড্ডা, রামপুরা, গুলশান ও কারওয়ান বাজার এলাকার মানুষের যাতায়াতে এক যুগান্তকারী
পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু চলমান এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও
প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন