সংবাদ

মেঘনা ব্রিজ সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে উল্টোপথে যানবাহন


নজরুল ইসলাম শেখ
নজরুল ইসলাম শেখ গজারিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

মেঘনা ব্রিজ সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে উল্টোপথে যানবাহন

  • মেঘনা ব্রিজে নেই আন্ডারপাস, মহাসড়কে উল্টোপথে ট্রাক-লরি 
  • অন্যথায় দুইবার এই ব্রিজ পার হতে হয়, দিতে হয় টোল

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা ব্রিজের (মেঘনা সেতু) নিচ দিয়ে ইউটার্ন নেওয়ার জন্য কোন আন্ডারপাস না থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল বাড়ছে। বিশেষ করে জামালদী থেকে হোসেন্দী পর্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা কল-কারখানার মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রাক, লরিগুলো পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সময় মহাসড়কে উল্টো পথ ধরছে। 

তা না হলে এই ট্রাক, লরিগুলোকে প্রথমে মহাসড়কের ঢাকা মুখে মেঘনা ব্রিজ পার হতে হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পর্যন্ত গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে আবার মেঘনা ব্রিজ পার হয়ে ‘অযাচিত টোল প্রদান করে’ গজারিয়া হয়ে চট্টগ্রাম যেতে হয়। অথচ, গজারিয়ার মেঘনা সেতুর জামালদী অংশে আন্ডারপাস থাকলে পণ্যবাহী এই যানগুলোকে আরেক জেলা নারায়ণগঞ্জ ঘুরে পুনরায় গজারিয়া হয়ে চট্টগ্রামের দিকে নিজ গন্তব্যে ফিরতে হতো না। 

শুধু পণ্যবাহী ট্রাক, লরিই নয়; ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, প্রাইভেট কার, নসিমন, করিমনসহ স্থানীয় অন্যান্য যানবাহনও এখানে উল্টোপথে চলছে।  মহাসড়কে উল্টো পথে চলায় যানজট সৃষ্টির পাশপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে।

গজরিয়ার জামালদী, লস্করদী, ভবানীপুর, বড় ভাটের চর এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনে অম্ব্যুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে ভবেরচর হাসপাতাল, বাউশিয়া, দাউদ কান্দি, কুমিল্লা বা চট্টগ্রামের দিকে যেতে চাইলে তাদের প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ যেতে হয়। এরপর মেঘনা ব্রিজের টোল পরিশোধ করে আবার গজারিয়া ঢুকতে হয়। তাই ‘অনেকটা বাধ্য হয়ে’ উল্টোপথে বালুয়াকান্দির কাছাকাছি গিয়ে মহাসড়কের চট্টগ্রাম মুখি লেনে ওঠেন তারা। 

জামালদি থেকে গাড়ি নিয়ে কুমিল্লা যেতে বিকল্প আরেকটি পথ আছে। সেটি হলো গ্রামের ছোট সড়কে দশ কিলোমিটারের বেশী পথ পাড়ি দিয়ে একটি ফেরি পার হয়ে রসুলপর উঠতে হবে। সেখান থেকে ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড দিয়ে মহসড়কে উঠে বামে গিয়ে আবার ইউটার্ন নিয়ে চট্টগ্রাম লেনে উঠতে হবে। তবে এই রাস্তা খুবই সরু হওয়ায় ট্রাক, লরি নিয়ে এই বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগ নেই।  

উল্টো পথে ট্রাক নিয়ে ফিরছিলেন এমন এক চালকের সঙ্গে কথা হয় সংবাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চালক বলেন, “আইছি চিটাংতে গজাইরা। আবার চিটাং যামু। হুদাহুদি সামনের দিকে নারায়ণগঞ্জ ঘুরতে যামু কেন?”

মহাসড়কে উল্টো পথে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এ বিষয়ে এই চালক  বলেন, “ভাই সবাধানে আস্তে আস্তে যাই। অহন যদি মেঘনা ব্রিজ পার হাই তাইলে পাঁচশো-হাজার ট্যাকা টোল এইডা দিবো কেডা? আমার গাইডেরতে যাইবো।”

অথচ একই ব্রিজের (মেঘনা ব্রিজ) সোনারগাঁ অংশে আন্ডারপাস রয়েছে। গজারিয়ার মতো সোনারগাঁ অংশে যদি আন্ডারপাস না থাকতো তাহলে ঢাকা থেকে ওই এলাকায় আসা যানবাহনগুলোকে মেঘনা সেতু পার হয়ে গজারিয়ার বালুয়াকান্দি এসে ইউটার্ন নিয়ে ঢাকা ফিরতে হতো। 

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন জানান, জামালদী এলাকায় মেঘনা ব্রিজের নিচ দিয়ে একটি আন্ডারপাস নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ এই দাবিটি বাস্তবায়িত হলে মহাসড়ক পারাপারে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমবে এবং যান চলাচলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩১ মে ২০২৬


মেঘনা ব্রিজ সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে উল্টোপথে যানবাহন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

  • মেঘনা ব্রিজে নেই আন্ডারপাস, মহাসড়কে উল্টোপথে ট্রাক-লরি 
  • অন্যথায় দুইবার এই ব্রিজ পার হতে হয়, দিতে হয় টোল

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা ব্রিজের (মেঘনা সেতু) নিচ দিয়ে ইউটার্ন নেওয়ার জন্য কোন আন্ডারপাস না থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল বাড়ছে। বিশেষ করে জামালদী থেকে হোসেন্দী পর্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা কল-কারখানার মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রাক, লরিগুলো পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সময় মহাসড়কে উল্টো পথ ধরছে। 

তা না হলে এই ট্রাক, লরিগুলোকে প্রথমে মহাসড়কের ঢাকা মুখে মেঘনা ব্রিজ পার হতে হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পর্যন্ত গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে আবার মেঘনা ব্রিজ পার হয়ে ‘অযাচিত টোল প্রদান করে’ গজারিয়া হয়ে চট্টগ্রাম যেতে হয়। অথচ, গজারিয়ার মেঘনা সেতুর জামালদী অংশে আন্ডারপাস থাকলে পণ্যবাহী এই যানগুলোকে আরেক জেলা নারায়ণগঞ্জ ঘুরে পুনরায় গজারিয়া হয়ে চট্টগ্রামের দিকে নিজ গন্তব্যে ফিরতে হতো না। 

শুধু পণ্যবাহী ট্রাক, লরিই নয়; ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, প্রাইভেট কার, নসিমন, করিমনসহ স্থানীয় অন্যান্য যানবাহনও এখানে উল্টোপথে চলছে।  মহাসড়কে উল্টো পথে চলায় যানজট সৃষ্টির পাশপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে।

গজরিয়ার জামালদী, লস্করদী, ভবানীপুর, বড় ভাটের চর এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনে অম্ব্যুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে ভবেরচর হাসপাতাল, বাউশিয়া, দাউদ কান্দি, কুমিল্লা বা চট্টগ্রামের দিকে যেতে চাইলে তাদের প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ যেতে হয়। এরপর মেঘনা ব্রিজের টোল পরিশোধ করে আবার গজারিয়া ঢুকতে হয়। তাই ‘অনেকটা বাধ্য হয়ে’ উল্টোপথে বালুয়াকান্দির কাছাকাছি গিয়ে মহাসড়কের চট্টগ্রাম মুখি লেনে ওঠেন তারা। 

জামালদি থেকে গাড়ি নিয়ে কুমিল্লা যেতে বিকল্প আরেকটি পথ আছে। সেটি হলো গ্রামের ছোট সড়কে দশ কিলোমিটারের বেশী পথ পাড়ি দিয়ে একটি ফেরি পার হয়ে রসুলপর উঠতে হবে। সেখান থেকে ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড দিয়ে মহসড়কে উঠে বামে গিয়ে আবার ইউটার্ন নিয়ে চট্টগ্রাম লেনে উঠতে হবে। তবে এই রাস্তা খুবই সরু হওয়ায় ট্রাক, লরি নিয়ে এই বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগ নেই।  

উল্টো পথে ট্রাক নিয়ে ফিরছিলেন এমন এক চালকের সঙ্গে কথা হয় সংবাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চালক বলেন, “আইছি চিটাংতে গজাইরা। আবার চিটাং যামু। হুদাহুদি সামনের দিকে নারায়ণগঞ্জ ঘুরতে যামু কেন?”

মহাসড়কে উল্টো পথে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এ বিষয়ে এই চালক  বলেন, “ভাই সবাধানে আস্তে আস্তে যাই। অহন যদি মেঘনা ব্রিজ পার হাই তাইলে পাঁচশো-হাজার ট্যাকা টোল এইডা দিবো কেডা? আমার গাইডেরতে যাইবো।”

অথচ একই ব্রিজের (মেঘনা ব্রিজ) সোনারগাঁ অংশে আন্ডারপাস রয়েছে। গজারিয়ার মতো সোনারগাঁ অংশে যদি আন্ডারপাস না থাকতো তাহলে ঢাকা থেকে ওই এলাকায় আসা যানবাহনগুলোকে মেঘনা সেতু পার হয়ে গজারিয়ার বালুয়াকান্দি এসে ইউটার্ন নিয়ে ঢাকা ফিরতে হতো। 

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন জানান, জামালদী এলাকায় মেঘনা ব্রিজের নিচ দিয়ে একটি আন্ডারপাস নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ এই দাবিটি বাস্তবায়িত হলে মহাসড়ক পারাপারে জনসাধারণের দুর্ভোগ কমবে এবং যান চলাচলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত