লালচে দানা, তীব্র জ্বর আর তারপরই চিরতরে নিভে যাওয়া এক একটি নিষ্পাপ চোখ। দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বুকফাটা আর্তনাদ।
কোনো
ওষুধ, কোনো আকুতিই আটকাতে
পারছে না এই মরণব্যাধিকে। প্রতিনিয়ত
দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। গত
২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর ও বরিশালে আরও
দুটি তাজা প্রাণ কেড়ে
নিয়েছে ঘাতক হাম।
এ নিয়ে গত ১৫
মার্চ থেকে এ পর্যন্ত
মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে
৫৮৫টি শিশু।
মহাখালী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হান
মহামারির এই ভয়াবহ চিত্র
তুলে ধরে জানান, "সব
মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা
৭৯ হাজার ৯৮৫ শিশু।
তবে যারা হাসপাতালে ভর্তি
না হয়ে বাসা বাড়িতে
চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের সংখ্যা জানা গেলে আক্রান্ত
ও মৃত্যুর তথ্য আরও বাড়ার
আশংকা করা হচ্ছে।"
২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত
হয়েছে ১ হাজার ৩৭৭টি
শিশু। পরিস্থিতি
এতটাই বেগতিক যে, আক্রান্তদের মধ্যে
৫৬ হাজার ৮৮৬টি শিশুই হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায়
আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে ৫৬২
জন সন্দেহজনক ও ৪৫ জন
নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া
বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ দেশের
সব বিভাগেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই সংখ্যা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক সতর্ক
করে জানান, "ঈদে যাতায়াতের কারনে
আক্রান্ত কিছুটা বাড়ার আশংকা আছে। তবে
আস্তে আস্তে মৃত্যু ও আক্রান্ত কমবে।"
সরকারি
হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্থাৎ ১০৬%
শিশুকে টিকা দেওয়া শেষ
হয়েছে। তবুও
থামছে না মৃত্যুর মিছিল।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন
এক প্রতিবেদনে জানান, "হামের চলমান পরিস্থিতি একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য
পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে।
হামের পরিস্থিতি কেবল একটি স্বাস্থ্য
সমস্যা নয়, বরং একটি
গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট-যা আমাদের
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দূর্বলতা ও টিকাদান ব্যবস্থার
ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।"
তিনি
আরও বলেন, "হামের ব্যাপকতা এত বেড়ে গেছে
যে, হামের ভাইরাসের আগে টিকা নিয়েছে
এমন শিশুদেরকে ও ৯ মাসের
কম বয়সী শিশুদেরকেও সংক্রমিত
করছে। এই
মৃত্যুগুলো প্রতিরোধ করার সুযোগ ছিল,
যদি সময়মত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হতো।"
তিনি
আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য
প্রতিটি হাসপাতালে 'হাম কর্নার' চালু
এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন 'এ' সরবরাহ নিশ্চিত
করার জোর দাবি জানিয়েছেন। শত
চেষ্টার পরও যে শিশুরা
আজ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে, তাদের সুস্থ করে মায়ের কোলে
ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড়
চ্যালেঞ্জ।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
লালচে দানা, তীব্র জ্বর আর তারপরই চিরতরে নিভে যাওয়া এক একটি নিষ্পাপ চোখ। দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বুকফাটা আর্তনাদ।
কোনো
ওষুধ, কোনো আকুতিই আটকাতে
পারছে না এই মরণব্যাধিকে। প্রতিনিয়ত
দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। গত
২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর ও বরিশালে আরও
দুটি তাজা প্রাণ কেড়ে
নিয়েছে ঘাতক হাম।
এ নিয়ে গত ১৫
মার্চ থেকে এ পর্যন্ত
মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে
৫৮৫টি শিশু।
মহাখালী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হান
মহামারির এই ভয়াবহ চিত্র
তুলে ধরে জানান, "সব
মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা
৭৯ হাজার ৯৮৫ শিশু।
তবে যারা হাসপাতালে ভর্তি
না হয়ে বাসা বাড়িতে
চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের সংখ্যা জানা গেলে আক্রান্ত
ও মৃত্যুর তথ্য আরও বাড়ার
আশংকা করা হচ্ছে।"
২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত
হয়েছে ১ হাজার ৩৭৭টি
শিশু। পরিস্থিতি
এতটাই বেগতিক যে, আক্রান্তদের মধ্যে
৫৬ হাজার ৮৮৬টি শিশুই হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায়
আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে ৫৬২
জন সন্দেহজনক ও ৪৫ জন
নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া
বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ দেশের
সব বিভাগেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই সংখ্যা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক সতর্ক
করে জানান, "ঈদে যাতায়াতের কারনে
আক্রান্ত কিছুটা বাড়ার আশংকা আছে। তবে
আস্তে আস্তে মৃত্যু ও আক্রান্ত কমবে।"
সরকারি
হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্থাৎ ১০৬%
শিশুকে টিকা দেওয়া শেষ
হয়েছে। তবুও
থামছে না মৃত্যুর মিছিল।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন
এক প্রতিবেদনে জানান, "হামের চলমান পরিস্থিতি একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য
পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে।
হামের পরিস্থিতি কেবল একটি স্বাস্থ্য
সমস্যা নয়, বরং একটি
গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট-যা আমাদের
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দূর্বলতা ও টিকাদান ব্যবস্থার
ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।"
তিনি
আরও বলেন, "হামের ব্যাপকতা এত বেড়ে গেছে
যে, হামের ভাইরাসের আগে টিকা নিয়েছে
এমন শিশুদেরকে ও ৯ মাসের
কম বয়সী শিশুদেরকেও সংক্রমিত
করছে। এই
মৃত্যুগুলো প্রতিরোধ করার সুযোগ ছিল,
যদি সময়মত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হতো।"
তিনি
আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য
প্রতিটি হাসপাতালে 'হাম কর্নার' চালু
এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন 'এ' সরবরাহ নিশ্চিত
করার জোর দাবি জানিয়েছেন। শত
চেষ্টার পরও যে শিশুরা
আজ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে, তাদের সুস্থ করে মায়ের কোলে
ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড়
চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন