প্রতিদিনের মতোই কাকডাকা ভোরে জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে বেড়িয়েছিলেন তারা। তপ্ত লোহার উত্তাপ যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এক নিমেষের এক দুর্ঘটনা ওলটপালট করে দিল সবকিছু। রাজধানীর ডেমরায় একটি স্টিল মিলে লোহা গলানোর সময় আকস্মিক বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন তিন শ্রমিক। রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডেমরার বাঁশের পুল এলাকার জহির স্টিল মিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
লোহা
গলানোর চুল্লির প্রচণ্ড উত্তাপের মাঝে কাজ করছিলেন
শ্রমিকরা। আচমকাই
বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় ভাট্টি।
মুহূর্তের মধ্যে তরল উত্তপ্ত লোহা
আর আগুনের শিখা ছিটকে এসে
পড়ে সাব্বির, তোফাজ্জল ও মাজেদের শরীরে। দগ্ধ
শ্রমিকদের উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে
আসা হয় জাতীয় বার্ন
অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
দুর্ঘটনার
বর্ণনা দিয়ে তাদের উদ্ধার
করে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী
আল আমিন হোসেন জানান,
"রবিবার সকালে ওই স্টিল মিলে
লোহা গলানোর সময় ভাট্টি বিস্ফোরণে
৩ জন শ্রমিক দগ্ধ
হন। পরে
তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন
অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়।"
চিৎকার আর কান্নায় তখন
ভারী হয়ে উঠেছিল চারপাশ।
বর্তমানে
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন দগ্ধ
তিন শ্রমিক; ৩৫ বছর বয়সী
সাব্বির হুসাইন, ৪৮ বছর বয়সী
তোফাজ্জল হোসাইন এবং ৫২ বছর
বয়সী মাজেদ হোসেন। জীবন-মৃত্যুর এই লড়াইয়ে তাদের
পরিবারের চোখে এখন শুধুই
অন্ধকার।
তাদের
শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কার কথা
জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জাতীয়
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন
রহমান জানান, "আহত শ্রমিকদের মধ্যে
সাব্বিরের শরীরের ৩৫ শতাংশ, তোফাজ্জলের
২৪ শতাংশ এবং মাজেদের শরীরের
১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।"
শরীরের
চামড়া পুড়ে যাওয়া এই
খেটে খাওয়া মানুষগুলোর পরিবারের এখন একটাই প্রার্থনা,
যেন সুস্থ হয়ে আবার চেনা
জীবনে ফিরে আসতে পারেন
তাদের আপনজনরা। স্টিল
মিলের সেই আগুনের লেলিহান
শিখা কেবল তাদের শরীরই
পোড়ায়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে পুরো পরিবারের সুখ
ও স্বপ্নকে।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
প্রতিদিনের মতোই কাকডাকা ভোরে জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে বেড়িয়েছিলেন তারা। তপ্ত লোহার উত্তাপ যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এক নিমেষের এক দুর্ঘটনা ওলটপালট করে দিল সবকিছু। রাজধানীর ডেমরায় একটি স্টিল মিলে লোহা গলানোর সময় আকস্মিক বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন তিন শ্রমিক। রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডেমরার বাঁশের পুল এলাকার জহির স্টিল মিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
লোহা
গলানোর চুল্লির প্রচণ্ড উত্তাপের মাঝে কাজ করছিলেন
শ্রমিকরা। আচমকাই
বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় ভাট্টি।
মুহূর্তের মধ্যে তরল উত্তপ্ত লোহা
আর আগুনের শিখা ছিটকে এসে
পড়ে সাব্বির, তোফাজ্জল ও মাজেদের শরীরে। দগ্ধ
শ্রমিকদের উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে
আসা হয় জাতীয় বার্ন
অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
দুর্ঘটনার
বর্ণনা দিয়ে তাদের উদ্ধার
করে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী
আল আমিন হোসেন জানান,
"রবিবার সকালে ওই স্টিল মিলে
লোহা গলানোর সময় ভাট্টি বিস্ফোরণে
৩ জন শ্রমিক দগ্ধ
হন। পরে
তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন
অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়।"
চিৎকার আর কান্নায় তখন
ভারী হয়ে উঠেছিল চারপাশ।
বর্তমানে
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন দগ্ধ
তিন শ্রমিক; ৩৫ বছর বয়সী
সাব্বির হুসাইন, ৪৮ বছর বয়সী
তোফাজ্জল হোসাইন এবং ৫২ বছর
বয়সী মাজেদ হোসেন। জীবন-মৃত্যুর এই লড়াইয়ে তাদের
পরিবারের চোখে এখন শুধুই
অন্ধকার।
তাদের
শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কার কথা
জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জাতীয়
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন
রহমান জানান, "আহত শ্রমিকদের মধ্যে
সাব্বিরের শরীরের ৩৫ শতাংশ, তোফাজ্জলের
২৪ শতাংশ এবং মাজেদের শরীরের
১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।"
শরীরের
চামড়া পুড়ে যাওয়া এই
খেটে খাওয়া মানুষগুলোর পরিবারের এখন একটাই প্রার্থনা,
যেন সুস্থ হয়ে আবার চেনা
জীবনে ফিরে আসতে পারেন
তাদের আপনজনরা। স্টিল
মিলের সেই আগুনের লেলিহান
শিখা কেবল তাদের শরীরই
পোড়ায়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে পুরো পরিবারের সুখ
ও স্বপ্নকে।

আপনার মতামত লিখুন