সংবাদ

পাঁচ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ

শেকড়ের টানে সোহরাওয়ার্দীতে উৎসবমুখর পহেলা বৈশাখ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

শেকড়ের টানে সোহরাওয়ার্দীতে উৎসবমুখর পহেলা বৈশাখ

জনমানুষের বৈশাখ, শেকড়ের সংস্কৃতিএই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। বাঙালির প্রাণের উৎসবকে ঘিরে বাঙালমেলা, কাব্যস্বর, বুকওয়ার্ম, চারবাক জনসংস্কৃতি; এই পাঁচটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে দিনভর চলে বর্ণাঢ্য আয়োজন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী কোরাস গানআল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দে রে তুইএর মাধ্যমে, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। উৎসবের এই প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠেছিল গ্রাম-বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক ক্ষুদ্র প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট কবি চিন্তক ফয়েজ আলম পহেলা বৈশাখের প্রকৃত রূপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখ মূলত বাংলাদেশের জনমানুষের অনুষ্ঠান। এই দেশের চাষী, জেলে, পেশাজীবী খেটে খাওয়া মানুষ শত শত বছর ধরে পহেলা বৈশাখে আল্লাহ মেঘ দে পানি দে কোরাস গান, হালখাতা, বাউল-মুরশিদী গানের অনুষ্ঠান এবং কিসসার আসরের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে শহরকেন্দ্রিক এলিট পহেলা বৈশাখের উদ্ভব হয়েছে, যার সাথে এই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনাচার বা বৈশাখী আচারের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, “এখন পহেলা বৈশাখের নামে কর্পোরেট পুঁজির ব্যবসায়িক ছলাকলা আর ভিনদেশি সাম্প্রদায়িক আচার-প্রতীক চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা এইসব অপসংস্কৃতি আর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ঠেকাতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ঐতিহ্যবাহী প্রকৃত বৈশাখী অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারো উদযাপন করছি পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব কবি কথাশিল্পী জোহরা পারুল, কবি খলিল মজিদ, রিসি দলাই, আরণ্যক টিটু, মনির ইউসুফ, লেখক আবু বকর মো: মুইন, এখলাস মিয়া, মুরাদ হাসান নাহিদ বাদশাহ।

জমজমাট কোরাস গানের পর সারা দেশ থেকে আসা শিল্পীদের পরিবেশনায় বাউল মুরশিদী গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। গানের সুর আর ঢোলের শব্দে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। শুধু গান নয়, রসনাবিলাসেও ছিল ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

উপস্থিত বিপুল সংখ্যক দর্শকশ্রোতাদের আপ্যায়ন করা হয় পান্তা-আলুভর্তা, বাতাসা বিভিন্ন মিষ্টান্ন দিয়ে। শিশুদের জন্য ছিল মাটির খেলনাসহ বৈশাখী মেলার নানা উপকরণ। সব মিলিয়ে কর্পোরেট চাকচিক্য দূরে ঠেলে মাটির গন্ধে ভরা এক পহেলা বৈশাখ উপহার দেয় এই আয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


শেকড়ের টানে সোহরাওয়ার্দীতে উৎসবমুখর পহেলা বৈশাখ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জনমানুষের বৈশাখ, শেকড়ের সংস্কৃতিএই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। বাঙালির প্রাণের উৎসবকে ঘিরে বাঙালমেলা, কাব্যস্বর, বুকওয়ার্ম, চারবাক জনসংস্কৃতি; এই পাঁচটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে দিনভর চলে বর্ণাঢ্য আয়োজন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী কোরাস গানআল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দে রে তুইএর মাধ্যমে, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। উৎসবের এই প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠেছিল গ্রাম-বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক ক্ষুদ্র প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট কবি চিন্তক ফয়েজ আলম পহেলা বৈশাখের প্রকৃত রূপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখ মূলত বাংলাদেশের জনমানুষের অনুষ্ঠান। এই দেশের চাষী, জেলে, পেশাজীবী খেটে খাওয়া মানুষ শত শত বছর ধরে পহেলা বৈশাখে আল্লাহ মেঘ দে পানি দে কোরাস গান, হালখাতা, বাউল-মুরশিদী গানের অনুষ্ঠান এবং কিসসার আসরের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে শহরকেন্দ্রিক এলিট পহেলা বৈশাখের উদ্ভব হয়েছে, যার সাথে এই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনাচার বা বৈশাখী আচারের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, “এখন পহেলা বৈশাখের নামে কর্পোরেট পুঁজির ব্যবসায়িক ছলাকলা আর ভিনদেশি সাম্প্রদায়িক আচার-প্রতীক চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা এইসব অপসংস্কৃতি আর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ঠেকাতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ঐতিহ্যবাহী প্রকৃত বৈশাখী অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারো উদযাপন করছি পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব কবি কথাশিল্পী জোহরা পারুল, কবি খলিল মজিদ, রিসি দলাই, আরণ্যক টিটু, মনির ইউসুফ, লেখক আবু বকর মো: মুইন, এখলাস মিয়া, মুরাদ হাসান নাহিদ বাদশাহ।

জমজমাট কোরাস গানের পর সারা দেশ থেকে আসা শিল্পীদের পরিবেশনায় বাউল মুরশিদী গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। গানের সুর আর ঢোলের শব্দে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। শুধু গান নয়, রসনাবিলাসেও ছিল ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

উপস্থিত বিপুল সংখ্যক দর্শকশ্রোতাদের আপ্যায়ন করা হয় পান্তা-আলুভর্তা, বাতাসা বিভিন্ন মিষ্টান্ন দিয়ে। শিশুদের জন্য ছিল মাটির খেলনাসহ বৈশাখী মেলার নানা উপকরণ। সব মিলিয়ে কর্পোরেট চাকচিক্য দূরে ঠেলে মাটির গন্ধে ভরা এক পহেলা বৈশাখ উপহার দেয় এই আয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত