সংবাদ

নৌকা ছাড়াই মিলবে উপকূলের খবর, অ্যাপেই নজরদারি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

নৌকা ছাড়াই মিলবে উপকূলের খবর, অ্যাপেই নজরদারি

উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক অনন্য উদ্ভাবন নিয়ে এসেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল গবেষক। এখন থেকে আর উত্তাল সমুদ্রে নৌকা নিয়ে ঘোরার প্রয়োজন পড়বে না; ঘরে বসেই একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে উপকূলের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা দূষণের সব তথ্য।

সিটিজেন ফর কোস্টাল ইকোসিস্টেম মনিটরিং’ (সিফোরসিইএম) নামক এই সাশ্রয়ী টেকসই পদ্ধতিটি উপকূলীয় গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উপকূলীয় গবেষণা

সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক . সুব্রত সরকারের নেতৃত্বে এবংএনএফ-পোগো অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ফর দ্য ওশানেরসহযোগিতায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হয়ন্যানো-ডোপ সিফোরসিইএমনামক একটি অ্যাপের মাধ্যমে, যা তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কাজী মঈনুল ইসলাম।

এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সমন্বয়ে কম খরচে তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে জিও-রেফারেন্সড ছবি পাওয়ায় তথ্যের সত্যতা নিয়ে বাড়তি কোনো সংশয় থাকে না।

কিভাবে কাজ করে এই অ্যাপ

গবেষক দল জানায়, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় এটি ব্যবহার করা যাবে। এতে মাছ, প্লাঙ্কটন জীববৈচিত্র্য সংগ্রহের তিনটি আলাদা অপশন রয়েছে। ব্যবহারকারী ছবি তুললেই অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ সংগ্রহ করে নেয়। ইন্টারনেট থাকলে তথ্য সরাসরি ডাটাবেসে চলে যায়, অন্যথায় অফলাইনে জমা থেকে পরে আপলোড হয়। পানির নমুনা পরীক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে সাশ্রয়ী বহনযোগ্যফোল্ডস্কোপমাইক্রোস্কোপ।

বিগত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন উপকূল থেকে প্রায় দেড়’শ জন স্বেচ্ছাসেবী বাসিটিজেন সায়েন্টিস্টএই অ্যাপের মাধ্যমে ২০ হাজারেরও বেশি ছবি পাঠিয়েছেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার প্রায় চার শতাধিক সামুদ্রিক প্রজাতির আবাসস্থল শনাক্ত করা হয়েছে।

উদ্ভাবিত অ্যাপটির কার্যকারিতা সম্পর্কে গবেষক দলের প্রধান . সুব্রত সরকার বলেন, ‘আমরা যেসব পদ্ধতিতে ডাটা সংগ্রহ করে থাকি, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী। নিজেরা নৌকা নিয়ে ডাটা সংগ্রহে গেলে প্রতিবারে ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু পদ্ধতিতে জেলেদের নৌকায় শুধু ডিভাইস ইনস্টল করে দিলেই হয়। তারা যেখানে যান, নিজেদের কক্ষে বসেই আমরা সব দেখতে পাই।

সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে গেলে জেলেদের ইন্টারনেট থাকে না। তখন তাদের পরিবার বা মালিকরা আমাদের জানিয়ে দেন নৌকাগুলো কোথায় আছে। বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসও তারা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নিতে পারেন। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কখন নৌকা পাঠানো যাবে না। তারা পূর্বপ্রস্তুতিও নিতে পারেন। জেলেরা গভীর সমুদ্রে গেলেও আমাদের বাড়তি খরচ হয় না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


নৌকা ছাড়াই মিলবে উপকূলের খবর, অ্যাপেই নজরদারি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক অনন্য উদ্ভাবন নিয়ে এসেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল গবেষক। এখন থেকে আর উত্তাল সমুদ্রে নৌকা নিয়ে ঘোরার প্রয়োজন পড়বে না; ঘরে বসেই একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে উপকূলের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা দূষণের সব তথ্য।

সিটিজেন ফর কোস্টাল ইকোসিস্টেম মনিটরিং’ (সিফোরসিইএম) নামক এই সাশ্রয়ী টেকসই পদ্ধতিটি উপকূলীয় গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উপকূলীয় গবেষণা

সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক . সুব্রত সরকারের নেতৃত্বে এবংএনএফ-পোগো অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ফর দ্য ওশানেরসহযোগিতায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হয়ন্যানো-ডোপ সিফোরসিইএমনামক একটি অ্যাপের মাধ্যমে, যা তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কাজী মঈনুল ইসলাম।

এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সমন্বয়ে কম খরচে তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে জিও-রেফারেন্সড ছবি পাওয়ায় তথ্যের সত্যতা নিয়ে বাড়তি কোনো সংশয় থাকে না।

কিভাবে কাজ করে এই অ্যাপ

গবেষক দল জানায়, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় এটি ব্যবহার করা যাবে। এতে মাছ, প্লাঙ্কটন জীববৈচিত্র্য সংগ্রহের তিনটি আলাদা অপশন রয়েছে। ব্যবহারকারী ছবি তুললেই অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ সংগ্রহ করে নেয়। ইন্টারনেট থাকলে তথ্য সরাসরি ডাটাবেসে চলে যায়, অন্যথায় অফলাইনে জমা থেকে পরে আপলোড হয়। পানির নমুনা পরীক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে সাশ্রয়ী বহনযোগ্যফোল্ডস্কোপমাইক্রোস্কোপ।

বিগত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন উপকূল থেকে প্রায় দেড়’শ জন স্বেচ্ছাসেবী বাসিটিজেন সায়েন্টিস্টএই অ্যাপের মাধ্যমে ২০ হাজারেরও বেশি ছবি পাঠিয়েছেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার প্রায় চার শতাধিক সামুদ্রিক প্রজাতির আবাসস্থল শনাক্ত করা হয়েছে।

উদ্ভাবিত অ্যাপটির কার্যকারিতা সম্পর্কে গবেষক দলের প্রধান . সুব্রত সরকার বলেন, ‘আমরা যেসব পদ্ধতিতে ডাটা সংগ্রহ করে থাকি, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী। নিজেরা নৌকা নিয়ে ডাটা সংগ্রহে গেলে প্রতিবারে ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু পদ্ধতিতে জেলেদের নৌকায় শুধু ডিভাইস ইনস্টল করে দিলেই হয়। তারা যেখানে যান, নিজেদের কক্ষে বসেই আমরা সব দেখতে পাই।

সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে গেলে জেলেদের ইন্টারনেট থাকে না। তখন তাদের পরিবার বা মালিকরা আমাদের জানিয়ে দেন নৌকাগুলো কোথায় আছে। বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসও তারা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নিতে পারেন। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কখন নৌকা পাঠানো যাবে না। তারা পূর্বপ্রস্তুতিও নিতে পারেন। জেলেরা গভীর সমুদ্রে গেলেও আমাদের বাড়তি খরচ হয় না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত