সংবাদ

অর্থবহ সংযোগেই কমবে’ বাংলাদেশের ডিজিটাল বৈষম্য


প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

অর্থবহ সংযোগেই কমবে’ বাংলাদেশের ডিজিটাল বৈষম্য

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছেন ওয়াকাস হাসান। বর্তমানে তিনি গ্লোবাল ডিজিটাল ইনক্লুশান পার্টনারশিপ (জিডিআইপি) এর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি পাকিস্তান টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষেও কাজ করেছেন। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতি, অর্থবহ সংযোগের চ্যালেঞ্জ, নারীদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, কমিউনিটি কানেক্টিভিটি এবং অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল নীতিনির্ধারণ নিয়ে কথা তিনি কথা বলেছেন সংবাদ এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন

সংবাদ: দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশকে কোথায় দেখছেন? সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কী?

ওয়াকাস হাসান: বাংলাদেশ ডিজিটাল উন্নয়নের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। দেশে ১২ কোটির বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজও (বিস্তৃতি) প্রায় সর্বজনীন। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘অ্যাকসেস (প্রবেশের সুযোগ) বনাম ব্যবহার’ বৈষম্য।

কাগজে-কলমে সংযোগ থাকলেও অনেক মানুষ, বিশেষ করে নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী অর্থবহ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে না। উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন, দুর্বল সেবার মান, সীমিত ডিজিটাল দক্ষতা এবং সামাজিক বাধা এখনো বড় সমস্যা। ফলে এক ধরনের অদৃশ্য বঞ্চনা তৈরি হচ্ছে, যেখানে সংযোগ আছে কিন্তু বাস্তব ব্যবহার সীমিত।

সংবাদ: ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য বাংলাদেশের এখন কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত — ডিজিটাল দক্ষতা, সাশ্রয়ী সংযোগ নাকি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ?

ওয়াকাস হাসান: এই তিনটি বিষয় একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সাশ্রয়ী ডিভাইস ও ডেটা না থাকলে মানুষ সংযুক্ত হতে পারবে না। আবার সংযুক্ত হলেও ডিজিটাল দক্ষতার অভাবে তারা শুধু সীমিত ব্যবহারেই আটকে থাকবে। একই সঙ্গে অনিরাপদ অনলাইন পরিবেশ বিশেষ করে নারী ও নতুন ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করে। তাই একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাশ্রয়ী সংযোগ, ডিজিটাল দক্ষতা ও নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ — তিনটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

সংবাদ: পাকিস্তানের ডিজিটাল জেন্ডার ইনক্লুশন স্ট্র্যাটেজিতে আপনার কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কী শিখতে পারে?

ওয়াকাস হাসান: পাকিস্তানে ডিজিটাল জেন্ডার ইনক্লুশন স্ট্র্যাটেজির মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ নারী প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটে যুক্ত হয়েছিল। এখানে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রথমত, সরকারের শক্তিশালী নেতৃত্ব ও জবাবদিহিতা। দ্বিতীয়ত, নীতিনির্ধারণে শিল্পখাত, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও সংক্রিয় অংশগ্রহণ। তৃতীয়ত, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব।

বাংলাদেশেও নারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার ও ইন্টারনেট অ্যাকসেসে একই ধরনের বৈষম্য রয়েছে। তাই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, অংশীদারত্ব এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ: বাংলাদেশে অনেক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন (অংশীজনদের সাথে মতামত) হলেও অনেক সময় সেগুলোর প্রতিফলন চূড়ান্ত নীতিতে দেখা যায় না। অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণ কেমন হওয়া উচিত?

ওয়াকাস হাসান: প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণ মানে শুধু খসড়া তৈরির সময় মতামত নেওয়া নয়, পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে অংশীজনদের যুক্ত রাখা।

সরকারকে উন্মুক্ত পরামর্শ সভা, ওয়ার্কিং গ্রুপ, জরিপ ও পুনরাবৃত্ত খসড়ার মাধ্যমে নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিল্পখাত ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হলো বা হলো না, সেটিও স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে।

সংবাদ: দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিআইপি কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং বাংলাদেশ কীভাবে এর সুফল পেতে পারে?

ওয়াকাস হাসান: জিডিআইপি মূলত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নীতি, গ্রামীণ সংযোগ, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট এবং নারীর ডিজিটাল ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে। আমরা এপিটি ও এপিআরআইজিএফের মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ করছি।

বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদনও আসছে, যেখানে জেন্ডার ডিজিটাল ডিভাইড বিশ্লেষণ করা হবে। বাংলাদেশ যদি আগেভাগে অংশীদারত্ব গড়ে তোলে এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আরও বেশি উপকৃত হতে পারবে।

সংবাদ: ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সঙ্গে জিডিআইপির সহযোগিতার সুযোগ কোথায় দেখছেন?

ওয়াকাস হাসান: জিডিআইপি ও ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এর মধ্যে লক্ষ্যগত মিল অনেক। বিশেষ করে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারীদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে।

আমরা ইন্টারনেট সোসাইটির সঙ্গে কমিউনিটি-ভিত্তিক ডিজিটাল সেন্টার ও নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ: বাংলাদেশের অনেক গ্রামীণ ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী এখনো ডিজিটাল সেবার বাইরে। কমিউনিটি নেটওয়ার্ক কি এক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান হতে পারে?

ওয়াকাস হাসান: অবশ্যই। যদি এটিকে বৃহত্তর কানেক্টিভিটি ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে দেখা হয়, তবে কমিউনিটি নেটওয়ার্ক বা কমিউনিটি-কেন্দ্রিক সংযোগ মডেল কার্যকর হতে পারে।

এখানে মূল বিষয় প্র্রযুক্তি নয়, বরং নীতিগত সহায়তা। সহজ লাইসেন্সিং, সাশ্রয়ী স্পেকট্রাম অ্যাকসেস এবং অর্থায়নের সুযোগ থাকলে এসব উদ্যোগ টেকসইভাবে বাড়তে পারে।

কেনিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো দেখিয়েছে, সঠিক নীতিমালা থাকলে কমিউনিটি নেটওয়ার্ক পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকরভাবে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


অর্থবহ সংযোগেই কমবে’ বাংলাদেশের ডিজিটাল বৈষম্য

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছেন ওয়াকাস হাসান। বর্তমানে তিনি গ্লোবাল ডিজিটাল ইনক্লুশান পার্টনারশিপ (জিডিআইপি) এর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি পাকিস্তান টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষেও কাজ করেছেন। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতি, অর্থবহ সংযোগের চ্যালেঞ্জ, নারীদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, কমিউনিটি কানেক্টিভিটি এবং অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল নীতিনির্ধারণ নিয়ে কথা তিনি কথা বলেছেন সংবাদ এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন

সংবাদ: দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশকে কোথায় দেখছেন? সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কী?

ওয়াকাস হাসান: বাংলাদেশ ডিজিটাল উন্নয়নের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। দেশে ১২ কোটির বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজও (বিস্তৃতি) প্রায় সর্বজনীন। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘অ্যাকসেস (প্রবেশের সুযোগ) বনাম ব্যবহার’ বৈষম্য।

কাগজে-কলমে সংযোগ থাকলেও অনেক মানুষ, বিশেষ করে নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী অর্থবহ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে না। উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন, দুর্বল সেবার মান, সীমিত ডিজিটাল দক্ষতা এবং সামাজিক বাধা এখনো বড় সমস্যা। ফলে এক ধরনের অদৃশ্য বঞ্চনা তৈরি হচ্ছে, যেখানে সংযোগ আছে কিন্তু বাস্তব ব্যবহার সীমিত।

সংবাদ: ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য বাংলাদেশের এখন কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত — ডিজিটাল দক্ষতা, সাশ্রয়ী সংযোগ নাকি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ?

ওয়াকাস হাসান: এই তিনটি বিষয় একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সাশ্রয়ী ডিভাইস ও ডেটা না থাকলে মানুষ সংযুক্ত হতে পারবে না। আবার সংযুক্ত হলেও ডিজিটাল দক্ষতার অভাবে তারা শুধু সীমিত ব্যবহারেই আটকে থাকবে। একই সঙ্গে অনিরাপদ অনলাইন পরিবেশ বিশেষ করে নারী ও নতুন ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করে। তাই একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাশ্রয়ী সংযোগ, ডিজিটাল দক্ষতা ও নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ — তিনটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

সংবাদ: পাকিস্তানের ডিজিটাল জেন্ডার ইনক্লুশন স্ট্র্যাটেজিতে আপনার কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কী শিখতে পারে?

ওয়াকাস হাসান: পাকিস্তানে ডিজিটাল জেন্ডার ইনক্লুশন স্ট্র্যাটেজির মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ নারী প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটে যুক্ত হয়েছিল। এখানে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রথমত, সরকারের শক্তিশালী নেতৃত্ব ও জবাবদিহিতা। দ্বিতীয়ত, নীতিনির্ধারণে শিল্পখাত, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও সংক্রিয় অংশগ্রহণ। তৃতীয়ত, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব।

বাংলাদেশেও নারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার ও ইন্টারনেট অ্যাকসেসে একই ধরনের বৈষম্য রয়েছে। তাই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, অংশীদারত্ব এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ: বাংলাদেশে অনেক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন (অংশীজনদের সাথে মতামত) হলেও অনেক সময় সেগুলোর প্রতিফলন চূড়ান্ত নীতিতে দেখা যায় না। অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণ কেমন হওয়া উচিত?

ওয়াকাস হাসান: প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণ মানে শুধু খসড়া তৈরির সময় মতামত নেওয়া নয়, পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে অংশীজনদের যুক্ত রাখা।

সরকারকে উন্মুক্ত পরামর্শ সভা, ওয়ার্কিং গ্রুপ, জরিপ ও পুনরাবৃত্ত খসড়ার মাধ্যমে নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিল্পখাত ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হলো বা হলো না, সেটিও স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে।

সংবাদ: দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিআইপি কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং বাংলাদেশ কীভাবে এর সুফল পেতে পারে?

ওয়াকাস হাসান: জিডিআইপি মূলত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নীতি, গ্রামীণ সংযোগ, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট এবং নারীর ডিজিটাল ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে। আমরা এপিটি ও এপিআরআইজিএফের মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ করছি।

বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদনও আসছে, যেখানে জেন্ডার ডিজিটাল ডিভাইড বিশ্লেষণ করা হবে। বাংলাদেশ যদি আগেভাগে অংশীদারত্ব গড়ে তোলে এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আরও বেশি উপকৃত হতে পারবে।

সংবাদ: ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সঙ্গে জিডিআইপির সহযোগিতার সুযোগ কোথায় দেখছেন?

ওয়াকাস হাসান: জিডিআইপি ও ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এর মধ্যে লক্ষ্যগত মিল অনেক। বিশেষ করে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারীদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে।

আমরা ইন্টারনেট সোসাইটির সঙ্গে কমিউনিটি-ভিত্তিক ডিজিটাল সেন্টার ও নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ: বাংলাদেশের অনেক গ্রামীণ ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী এখনো ডিজিটাল সেবার বাইরে। কমিউনিটি নেটওয়ার্ক কি এক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান হতে পারে?

ওয়াকাস হাসান: অবশ্যই। যদি এটিকে বৃহত্তর কানেক্টিভিটি ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে দেখা হয়, তবে কমিউনিটি নেটওয়ার্ক বা কমিউনিটি-কেন্দ্রিক সংযোগ মডেল কার্যকর হতে পারে।

এখানে মূল বিষয় প্র্রযুক্তি নয়, বরং নীতিগত সহায়তা। সহজ লাইসেন্সিং, সাশ্রয়ী স্পেকট্রাম অ্যাকসেস এবং অর্থায়নের সুযোগ থাকলে এসব উদ্যোগ টেকসইভাবে বাড়তে পারে।

কেনিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো দেখিয়েছে, সঠিক নীতিমালা থাকলে কমিউনিটি নেটওয়ার্ক পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকরভাবে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে পারে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত