গত বছরের বকেয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলতি বছরের শিক্ষাবর্ষ শুরুর কয়েক মাস পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যে সংকটে পড়েছে, আগামী বছর থেকে তার অবসান হবে। ২০২৭ সাল থেকে একদম সঠিক সময়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শনিবার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি
হন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি
বিগত সময়ের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
ববি
হাজ্জাজ বলেন, "এবারের বৃত্তি পরীক্ষা তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পন্ন হওয়ার
কথা ছিল। কিন্তু কোনো
কারণে পরীক্ষাটি তারা নিতে পারেননি।
বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমে
উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ
মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এ প্রক্রিয়াটা
আমরা বাদ দিতে চাই
না। তাই আমরা দায়িত্ব
নেওয়ার পরই বৃত্তি পরীক্ষা
আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই এবং বাস্তবায়ন
করছি। আগামী বছরগুলোতে সঠিক সময়ে বৃত্তি
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।"
ভবিষ্যতে
এই পরীক্ষার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের
আভাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও
জানান, আগামীতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা, কতজন শিক্ষার্থী এতে
অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং
বৃত্তির পরিমাণ কত হবে; তা
পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা সরকারের
রয়েছে।
কোচিং
বাণিজ্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন,
"কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত অবস্থান। শুধু
বৃত্তি না, সার্বিকভাবে কোচিং
আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে।
এটি একটি বড় সমস্যা।
কোচিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ
কিছু ইনোভেশন বা পলিসি চিহ্নিত
করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিগগির
পাইলটিং শুরু হবে। তবে
প্রাথমিক বৃত্তি সংক্রান্ত কোচিং নিয়ে এখনো বড়
কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।"
বিদ্যালয়ের
অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে
ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকার 'দৃষ্টিনন্দন প্রজেক্ট' এবং 'পিডিপি ফাইভ'
এর মতো বড় বড়
উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর
মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণ, বিদ্যালয়ের নকশা ও আসবাবপত্র
পরিবর্তনের মতো কাজগুলো দ্রুত
সম্পন্ন করা হবে।
তিনি
আরও বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে
আমি, সচিব এবং মহাপরিচালকসহ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় সঠিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা
নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি
করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষজনক চিত্র
পাওয়া গেছে।"
এ সময়
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো.
কামাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
গত বছরের বকেয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলতি বছরের শিক্ষাবর্ষ শুরুর কয়েক মাস পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যে সংকটে পড়েছে, আগামী বছর থেকে তার অবসান হবে। ২০২৭ সাল থেকে একদম সঠিক সময়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শনিবার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি
হন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি
বিগত সময়ের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
ববি
হাজ্জাজ বলেন, "এবারের বৃত্তি পরীক্ষা তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পন্ন হওয়ার
কথা ছিল। কিন্তু কোনো
কারণে পরীক্ষাটি তারা নিতে পারেননি।
বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমে
উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ
মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এ প্রক্রিয়াটা
আমরা বাদ দিতে চাই
না। তাই আমরা দায়িত্ব
নেওয়ার পরই বৃত্তি পরীক্ষা
আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই এবং বাস্তবায়ন
করছি। আগামী বছরগুলোতে সঠিক সময়ে বৃত্তি
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।"
ভবিষ্যতে
এই পরীক্ষার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের
আভাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও
জানান, আগামীতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা, কতজন শিক্ষার্থী এতে
অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং
বৃত্তির পরিমাণ কত হবে; তা
পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা সরকারের
রয়েছে।
কোচিং
বাণিজ্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন,
"কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত অবস্থান। শুধু
বৃত্তি না, সার্বিকভাবে কোচিং
আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে।
এটি একটি বড় সমস্যা।
কোচিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ
কিছু ইনোভেশন বা পলিসি চিহ্নিত
করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিগগির
পাইলটিং শুরু হবে। তবে
প্রাথমিক বৃত্তি সংক্রান্ত কোচিং নিয়ে এখনো বড়
কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।"
বিদ্যালয়ের
অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে
ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকার 'দৃষ্টিনন্দন প্রজেক্ট' এবং 'পিডিপি ফাইভ'
এর মতো বড় বড়
উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর
মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণ, বিদ্যালয়ের নকশা ও আসবাবপত্র
পরিবর্তনের মতো কাজগুলো দ্রুত
সম্পন্ন করা হবে।
তিনি
আরও বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে
আমি, সচিব এবং মহাপরিচালকসহ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় সঠিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা
নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি
করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষজনক চিত্র
পাওয়া গেছে।"
এ সময়
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো.
কামাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন