হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাটে কাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে বড় পরিসরে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। এই তিন জেলায় মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার ১২০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার (১৯ এপ্রিল) পৃথক সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জনরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাতক্ষীরা : জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলায় আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে। সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম জানান, জেলায় ২ হাজার ৪১৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই টিকার আওতায় আসবে। কর্মসূচির সফলতায় মাঠপর্যায়ে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় ১ লাখ ৩০৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য নিয়ে তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯৮৮টি কেন্দ্রে (স্থায়ী ও অস্থায়ী) এই টিকা দেওয়া হবে। এ কাজে ৩৪১ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১ হাজার ৯৫৮ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন।
বাগেরহাট : বাগেরহাটে ১১ কর্মদিবসের এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ৪৮ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মাহমুদুল আলম জানান, উপকূলীয় এই জেলার ১ হাজার ৮৫৮টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রিয়াসাত আজীম রাতুল জানান, যাদের জ্বর বা হামের লক্ষণ রয়েছে, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হবে না। তিনি টিকা নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। সব অভিভাবককে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন