সংবাদ

বাবা-মার ভরণপোষণে বাধা হলে শাস্তি পাবেন পুত্রবধূও


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

বাবা-মার ভরণপোষণে বাধা হলে শাস্তি পাবেন পুত্রবধূও
ছবি : সংগৃহীত

বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার দেখাশোনা করা সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব হলেও আইনগতভাবেও তা বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি এক যুগ্ম সচিবের মায়ের পচন ধরা লাশ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩’ আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে অনেকেই জানেন না, এই আইন কেবল ছেলেকেই নয়; বরং পুত্রবধূ বা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও শাস্তির আওতায় আনতে পারে।

আইনটির সবচেয়ে আলোচিত দিকটি হলো- কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে তারাও একই অপরাধে অপরাধী হবেন। এর মানে দাড়াচ্ছে, শাশুড়ি-শ্বশুরের দেখাশোনায় বাধা দিলে পুত্রবধূকেও আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া যাবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই পুত্রবধূ বা পরিবারের অন্য সদস্যরা সন্তানকে মা-বাবার থেকে দূরে সরিয়ে দেন। আইনের এই ধারা সেই প্রবণতা রুখতেই রাখা হয়েছে।

২০১৩ সালে প্রণীত এই আইনে মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে সন্তানদের জন্য বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন।

আইন আরও বলছে, কোনো সন্তান তার মা-বাবাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে পারবেন না। মা-বাবার স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করাও সন্তানের দায়িত্ব। এমনকি তাদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানোর কথাও আইনে উল্লেখ আছে।

আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো পিতা বা মাতা সন্তানদের সঙ্গে না থেকে আলাদাভাবে বসবাস করতে চান, সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান তার দৈনিক, মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ বাবা-মাকে নিয়মিত প্রদান করবেন।

কিন্তু কোনো সন্তান যদি আর্থিকভাবে অসমর্থ হন এবং মা-বাবাকে নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ দিতে অক্ষম হন, তাহলে তাদের সরকারি বা বেসরকারি পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

কোনো সন্তান বা তার পরিবারের অন্য সদস্য আইন অমান্য করলে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার হবে। তবে আদালত কেবল বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা গ্রহণ করবে। আইনে আপস-নিষ্পত্তির সুযোগও রাখা হয়েছে।

শাস্তির বিধানটি আইনের ৫(১) ধারায় উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করতে হবে। আর এই জরিমানা অনাদায়ে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সম্প্রতি ২০১৩ সালের আইনের নির্দেশনায় ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা ২০২৩’ তৈরি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই বিধিমালায় সন্তানদের মা-বাবার সঙ্গে বসবাস, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠানোর বিষয়টি কঠোরভাবে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অসহায় মা-বাবার সহায়তার জন্য একটি ‘ভরণপোষণ তহবিল’ গঠনের কথাও বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে। সরকারি অনুদান ও দেশি-বিদেশি সহায়তায় এই তহবিল গঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


বাবা-মার ভরণপোষণে বাধা হলে শাস্তি পাবেন পুত্রবধূও

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার দেখাশোনা করা সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব হলেও আইনগতভাবেও তা বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি এক যুগ্ম সচিবের মায়ের পচন ধরা লাশ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩’ আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে অনেকেই জানেন না, এই আইন কেবল ছেলেকেই নয়; বরং পুত্রবধূ বা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও শাস্তির আওতায় আনতে পারে।

আইনটির সবচেয়ে আলোচিত দিকটি হলো- কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে তারাও একই অপরাধে অপরাধী হবেন। এর মানে দাড়াচ্ছে, শাশুড়ি-শ্বশুরের দেখাশোনায় বাধা দিলে পুত্রবধূকেও আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া যাবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই পুত্রবধূ বা পরিবারের অন্য সদস্যরা সন্তানকে মা-বাবার থেকে দূরে সরিয়ে দেন। আইনের এই ধারা সেই প্রবণতা রুখতেই রাখা হয়েছে।

২০১৩ সালে প্রণীত এই আইনে মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে সন্তানদের জন্য বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন।

আইন আরও বলছে, কোনো সন্তান তার মা-বাবাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে পারবেন না। মা-বাবার স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করাও সন্তানের দায়িত্ব। এমনকি তাদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানোর কথাও আইনে উল্লেখ আছে।

আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো পিতা বা মাতা সন্তানদের সঙ্গে না থেকে আলাদাভাবে বসবাস করতে চান, সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান তার দৈনিক, মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ বাবা-মাকে নিয়মিত প্রদান করবেন।

কিন্তু কোনো সন্তান যদি আর্থিকভাবে অসমর্থ হন এবং মা-বাবাকে নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ দিতে অক্ষম হন, তাহলে তাদের সরকারি বা বেসরকারি পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

কোনো সন্তান বা তার পরিবারের অন্য সদস্য আইন অমান্য করলে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার হবে। তবে আদালত কেবল বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা গ্রহণ করবে। আইনে আপস-নিষ্পত্তির সুযোগও রাখা হয়েছে।

শাস্তির বিধানটি আইনের ৫(১) ধারায় উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করতে হবে। আর এই জরিমানা অনাদায়ে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সম্প্রতি ২০১৩ সালের আইনের নির্দেশনায় ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা ২০২৩’ তৈরি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই বিধিমালায় সন্তানদের মা-বাবার সঙ্গে বসবাস, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠানোর বিষয়টি কঠোরভাবে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অসহায় মা-বাবার সহায়তার জন্য একটি ‘ভরণপোষণ তহবিল’ গঠনের কথাও বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে। সরকারি অনুদান ও দেশি-বিদেশি সহায়তায় এই তহবিল গঠিত হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত