সংবাদ

মতলবে বাড়ছে হাম, এক দিনে ভর্তি ৬ শিশু


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

মতলবে বাড়ছে হাম, এক দিনে ভর্তি ৬ শিশু
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক শিশুকে সেবা দিচ্ছেন নার্স। ছবি : সংবাদ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার (৬ জুন) এক দিনেই এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু ভর্তি হয়েছে। শয্যাসংকট ও পরীক্ষার রিপোর্ট দেরিতে আসায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে গত মে মাসে ১৫ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে জুন মাসের শুরুতেই আক্রান্তের হার আবারও বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব কিশোর বণিক বলেন, ‘হাম একটি দ্রুত সংক্রমণশীল রোগ। এটি মূলত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওয়ার্ডে নিষেধ করা সত্ত্বেও এক রোগীর সঙ্গে চার-পাঁচজন স্বজন অবস্থান করেন, যার ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ছে।’

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নঈমুল ইসলাম রাজিব জানান, কেবল শিশু নয়, গতকাল একজন বয়স্ক রোগীও হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তবে রোগ শনাক্তের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জেলা সমন্বয়কারীর মাধ্যমে সংগৃহীত নমুনার রিপোর্ট পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগছে। এতে সঠিক চিকিৎসা দিতে দেরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ ছাড়া টিকা অসম্পূর্ণ রাখা, ঘনবসতি ও অপুষ্টিকেও হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে হামের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে মাত্র পাঁচটি শয্যা আছে। প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি। ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে বেড দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


মতলবে বাড়ছে হাম, এক দিনে ভর্তি ৬ শিশু

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার (৬ জুন) এক দিনেই এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু ভর্তি হয়েছে। শয্যাসংকট ও পরীক্ষার রিপোর্ট দেরিতে আসায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে গত মে মাসে ১৫ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে জুন মাসের শুরুতেই আক্রান্তের হার আবারও বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব কিশোর বণিক বলেন, ‘হাম একটি দ্রুত সংক্রমণশীল রোগ। এটি মূলত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওয়ার্ডে নিষেধ করা সত্ত্বেও এক রোগীর সঙ্গে চার-পাঁচজন স্বজন অবস্থান করেন, যার ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ছে।’

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নঈমুল ইসলাম রাজিব জানান, কেবল শিশু নয়, গতকাল একজন বয়স্ক রোগীও হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তবে রোগ শনাক্তের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জেলা সমন্বয়কারীর মাধ্যমে সংগৃহীত নমুনার রিপোর্ট পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগছে। এতে সঠিক চিকিৎসা দিতে দেরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ ছাড়া টিকা অসম্পূর্ণ রাখা, ঘনবসতি ও অপুষ্টিকেও হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে হামের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে মাত্র পাঁচটি শয্যা আছে। প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি। ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে বেড দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত