‘নির্ভীক সাংবাদিকতার কোনো বন্ধু নেই’, ‘দেশ নষ্ট কপটে, প্রজা মরে চপটে, কী করিবে রিপোর্টে’, ‘(ওহে) হরি দিন তো গেল, সন্ধ্যা হলো— পার কর আমারে’, ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়িয়ে দেখ তাই, পেলেও পাইতে পার লুকানো রতন’সহ অসংখ্য নীতিকথার জনক কে বলতে পারবেন?
অনেকেই অনেকের নাম বলবেন, কিন্তু সঠিক ব্যক্তির নামটি অনেকেই জানেন না| কারণ, তিনি মৃত্যুর ১২৯ বছর পরও অখ্যাতই থেকে গেছেন| যেমনটি করা হয়েছিল ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে লিখিত ‘বিজয় বসন্ত’ উপন্যাসকে উপেক্ষা করে ‘আলালের ঘরের দুলাল’কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে| অনেকে আবার তার কর্ম ব্যবহার করে অস্কারের মতো পুরস্কার অর্জন করেছেন| কেউ কেউ তার ওপর বিভিন্ন বিষয়ে লিখে ডিগ্রি অর্জন করেছেন| অথচ কোনো এক অজানা কারণে আমরা তাকে হারিয়ে ফেলতে বসেছি|
তিনি আর কেউ নন— বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কুণ্ডুপাড়া গ্রামে বিখ্যাত মজুমদার পরিবারে অত্রষি বংশে মাতা কমলিনীর কোলজুড়ে এবং হলধর মজুমদারের পুত্র হয়ে ২০ জুলাই ১৮৩৩ সালের বৃহস্পতিবার জন্মগ্রহণকারী শ্রী হরিনাথ মজুমদার, ওরফে কাঙাল হরিনাথ মজুমদার| তার জীবনকাল ছিল মাত্র ৬৩ বছর| তিনি ১৮৯৬ সালের ১৮ এপ্রিল মারা যান| এই স্বল্প সময়ে তিনি ৭২টি গ্রন্থ রচনা করেন| এর মধ্যে ৪২টি প্রকাশিত এবং ৩০টি অপ্রকাশিত| ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি এমএন প্রেস নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন| সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি দল ও ৮টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন| ডাকঘরে মানি অর্ডার চালুর প্রস্তাব তিনি নিজ সম্পাদিত ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় প্রকাশ করেন| ক্ষুধা ও লজ্জা নিবারণের জন্য অন্যের দোকানে কাজ করতেও দ্বিধা করেননি| প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি নারীশিক্ষার দীপ জ্বালাতে ১৮৫৭ সালের ১৩ জানুয়ারি নিজ চণ্ডীমণ্ডপে কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে|
জমিদার পান্নালাল মজুমদার, শিলাইদহ ঠাকুর এস্টেট, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদধূলিধন্য ভূমি, সোনাবন্ধুর দরগা, তন্ত্রাচার্য শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণবের সর্বমঙ্গলা মন্দির, খোরশেদপুরের পীরের মাজার, রানি রাসমণি নির্মিত গোপীনাথ মন্দির, তালোয়ার মাজার শরীফ, কুমারখালীর ঐতিহাসিক পুতুলবাড়ি, কাঙাল কুটির, ছেউড়িয়ার লালন শাহের মাজার, লাহিনীপাড়ার মীর মশাররফ হোসেনের বাসভিটা— এসব মিলিয়ে কুমারখালী এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের আধার| সেই কুমারখালীতেই জন্ম নিয়েছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার| তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে আলোচনা জরুরি|
স্বশিক্ষিত কাঙাল হরিনাথের ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়া শেখার প্রবল ইচ্ছা ছিল| কিন্তু অর্থনৈতিক টানাপড়েন ও পিতামাতাহীন অবস্থার কারণে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পূর্ণতা পায়নি| তবুও তিনি নিজ প্রচেষ্টায় বই সংগ্রহ করতেন— কখনও ভিক্ষা করে, কখনও সহপাঠীদের কাছ থেকে ধার নিয়ে| ভাষাশিক্ষায় কবি ঈশ্বর গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে| ১৮৫৪ সালে তিনি কুমারখালীতে বাংলা পাঠশালা স্থাপন করেন এবং ১৮৫৭ সালে নারীশিক্ষার জন্য বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন| শুরুতে কোনো বেতন না থাকলেও বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়লে পরিদর্শকদের সুপারিশে তিনি বেতন গ্রহণ করেন|
সেই সময় জমিদার, মহাজন ও নীলকরদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল| এই প্রেক্ষাপটে ১৮৬৩ সালে তিনি ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন| মফস্বল কুমারখালী থেকে এমন উদ্যোগ ছিল সত্যিই যুগান্তকারী| তিনি শিলাইদহ ও শাহজাদপুর এস্টেটে জমিদারদের প্রজাপীড়নের কাহিনী তুলে ধরতেন| তবে নানা কারণে সেই প্রতিবেদনগুলোর অনেকেই হারিয়ে যায়| ধারণা করা হয়, প্রভাবশালী মহলের চাপে এসব লেখা প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল| তবুও কাঙাল হরিনাথ ছিলেন নির্ভীক সাংবাদিক| পায়ে হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করতেন বলেই তিনি গ্রামীণ সাংবাদিকতার জনক হিসেবে খ্যাত|
কাঙাল হরিনাথের গঠিত বাউল গানের দলের নাম ছিল ‘ফিকির চাঁদের দল’| তিনি পাবনা, নদীয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, যশোর ও কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে সুপরিচিত ছিলেন| তিনি প্রায় হাজারখানেক গান রচনা করেন| তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে— ‘ওরে মন পাগলারে, হরদমে আল্লাহজির নাম নিও’, ‘ওরে দোকানদার দোকানি ভাই’, ‘হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো’ ইত্যাদি|
সাহিত্যেও তার অবদান অসামান্য| ‘আলালের ঘরের দুলাল’ রচনার আগেই তিনি ‘বিজয় বসন্ত’ রচনা করেন, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে| শিবনাথ শাস্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন— ‘বিজয় বসন্ত’ ও ‘আলালের ঘরের দুলাল’— দুটিই বাংলার প্রথম উপন্যাস হিসেবে গণ্য হতে পারে| তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— ‘পদ্য পুণ্ডরীক’, ‘চারু চরিত্র’, ‘কবিতা কৌমুদী’, ‘বিজয়া’, ‘কবিকল্প’, ‘অক্রুর সংবাদ’, ‘সাবিত্রী নাটিকা’, ‘চিত্তচপলা’, ‘কাঙাল ফকির চাঁদের গীতাবলী’, ‘ব্রহ্মাণ্ডবেদ’ প্রভৃতি|
তার মৃত্যুর পর বহু গুণীজন তাকে স্মরণ করেছেন— জলধর সেন, অক্ষয় কুমার ˆমত্রেয়, শিবনাথ শাস্ত্রী, রামতনু লাহিড়ী প্রমুখ| কিন্তু বাস্তবে তার স্মৃতি সংরক্ষণে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি| তার বংশধররা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন| অবশেষে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর তৎকালীন সরকার তার স্মৃতিতে জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন| ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়|
অবশেষে, দীর্ঘ ১২৪ বছর পর কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের নাম নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হলো| তার ব্যবহৃত মুদ্রণযন্ত্র, বই ও স্মারকসমূহ আজ সেই জাদুঘরে সংরক্ষিত| তবুও প্রশ্ন থেকে যায়— আমরা কি যথাযথভাবে তার অবদানকে মূল্যায়ন করতে পেরেছি?
[লেখক : কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের পঞ্চম বংশধর]

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
‘নির্ভীক সাংবাদিকতার কোনো বন্ধু নেই’, ‘দেশ নষ্ট কপটে, প্রজা মরে চপটে, কী করিবে রিপোর্টে’, ‘(ওহে) হরি দিন তো গেল, সন্ধ্যা হলো— পার কর আমারে’, ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়িয়ে দেখ তাই, পেলেও পাইতে পার লুকানো রতন’সহ অসংখ্য নীতিকথার জনক কে বলতে পারবেন?
অনেকেই অনেকের নাম বলবেন, কিন্তু সঠিক ব্যক্তির নামটি অনেকেই জানেন না| কারণ, তিনি মৃত্যুর ১২৯ বছর পরও অখ্যাতই থেকে গেছেন| যেমনটি করা হয়েছিল ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে লিখিত ‘বিজয় বসন্ত’ উপন্যাসকে উপেক্ষা করে ‘আলালের ঘরের দুলাল’কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে| অনেকে আবার তার কর্ম ব্যবহার করে অস্কারের মতো পুরস্কার অর্জন করেছেন| কেউ কেউ তার ওপর বিভিন্ন বিষয়ে লিখে ডিগ্রি অর্জন করেছেন| অথচ কোনো এক অজানা কারণে আমরা তাকে হারিয়ে ফেলতে বসেছি|
তিনি আর কেউ নন— বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কুণ্ডুপাড়া গ্রামে বিখ্যাত মজুমদার পরিবারে অত্রষি বংশে মাতা কমলিনীর কোলজুড়ে এবং হলধর মজুমদারের পুত্র হয়ে ২০ জুলাই ১৮৩৩ সালের বৃহস্পতিবার জন্মগ্রহণকারী শ্রী হরিনাথ মজুমদার, ওরফে কাঙাল হরিনাথ মজুমদার| তার জীবনকাল ছিল মাত্র ৬৩ বছর| তিনি ১৮৯৬ সালের ১৮ এপ্রিল মারা যান| এই স্বল্প সময়ে তিনি ৭২টি গ্রন্থ রচনা করেন| এর মধ্যে ৪২টি প্রকাশিত এবং ৩০টি অপ্রকাশিত| ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি এমএন প্রেস নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন| সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি দল ও ৮টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন| ডাকঘরে মানি অর্ডার চালুর প্রস্তাব তিনি নিজ সম্পাদিত ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় প্রকাশ করেন| ক্ষুধা ও লজ্জা নিবারণের জন্য অন্যের দোকানে কাজ করতেও দ্বিধা করেননি| প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি নারীশিক্ষার দীপ জ্বালাতে ১৮৫৭ সালের ১৩ জানুয়ারি নিজ চণ্ডীমণ্ডপে কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে|
জমিদার পান্নালাল মজুমদার, শিলাইদহ ঠাকুর এস্টেট, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদধূলিধন্য ভূমি, সোনাবন্ধুর দরগা, তন্ত্রাচার্য শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণবের সর্বমঙ্গলা মন্দির, খোরশেদপুরের পীরের মাজার, রানি রাসমণি নির্মিত গোপীনাথ মন্দির, তালোয়ার মাজার শরীফ, কুমারখালীর ঐতিহাসিক পুতুলবাড়ি, কাঙাল কুটির, ছেউড়িয়ার লালন শাহের মাজার, লাহিনীপাড়ার মীর মশাররফ হোসেনের বাসভিটা— এসব মিলিয়ে কুমারখালী এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের আধার| সেই কুমারখালীতেই জন্ম নিয়েছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার| তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে কী অবস্থায় আছে, তা নিয়ে আলোচনা জরুরি|
স্বশিক্ষিত কাঙাল হরিনাথের ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়া শেখার প্রবল ইচ্ছা ছিল| কিন্তু অর্থনৈতিক টানাপড়েন ও পিতামাতাহীন অবস্থার কারণে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পূর্ণতা পায়নি| তবুও তিনি নিজ প্রচেষ্টায় বই সংগ্রহ করতেন— কখনও ভিক্ষা করে, কখনও সহপাঠীদের কাছ থেকে ধার নিয়ে| ভাষাশিক্ষায় কবি ঈশ্বর গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে| ১৮৫৪ সালে তিনি কুমারখালীতে বাংলা পাঠশালা স্থাপন করেন এবং ১৮৫৭ সালে নারীশিক্ষার জন্য বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন| শুরুতে কোনো বেতন না থাকলেও বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়লে পরিদর্শকদের সুপারিশে তিনি বেতন গ্রহণ করেন|
সেই সময় জমিদার, মহাজন ও নীলকরদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল| এই প্রেক্ষাপটে ১৮৬৩ সালে তিনি ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন| মফস্বল কুমারখালী থেকে এমন উদ্যোগ ছিল সত্যিই যুগান্তকারী| তিনি শিলাইদহ ও শাহজাদপুর এস্টেটে জমিদারদের প্রজাপীড়নের কাহিনী তুলে ধরতেন| তবে নানা কারণে সেই প্রতিবেদনগুলোর অনেকেই হারিয়ে যায়| ধারণা করা হয়, প্রভাবশালী মহলের চাপে এসব লেখা প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল| তবুও কাঙাল হরিনাথ ছিলেন নির্ভীক সাংবাদিক| পায়ে হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করতেন বলেই তিনি গ্রামীণ সাংবাদিকতার জনক হিসেবে খ্যাত|
কাঙাল হরিনাথের গঠিত বাউল গানের দলের নাম ছিল ‘ফিকির চাঁদের দল’| তিনি পাবনা, নদীয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, যশোর ও কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে সুপরিচিত ছিলেন| তিনি প্রায় হাজারখানেক গান রচনা করেন| তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে— ‘ওরে মন পাগলারে, হরদমে আল্লাহজির নাম নিও’, ‘ওরে দোকানদার দোকানি ভাই’, ‘হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো’ ইত্যাদি|
সাহিত্যেও তার অবদান অসামান্য| ‘আলালের ঘরের দুলাল’ রচনার আগেই তিনি ‘বিজয় বসন্ত’ রচনা করেন, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে| শিবনাথ শাস্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন— ‘বিজয় বসন্ত’ ও ‘আলালের ঘরের দুলাল’— দুটিই বাংলার প্রথম উপন্যাস হিসেবে গণ্য হতে পারে| তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— ‘পদ্য পুণ্ডরীক’, ‘চারু চরিত্র’, ‘কবিতা কৌমুদী’, ‘বিজয়া’, ‘কবিকল্প’, ‘অক্রুর সংবাদ’, ‘সাবিত্রী নাটিকা’, ‘চিত্তচপলা’, ‘কাঙাল ফকির চাঁদের গীতাবলী’, ‘ব্রহ্মাণ্ডবেদ’ প্রভৃতি|
তার মৃত্যুর পর বহু গুণীজন তাকে স্মরণ করেছেন— জলধর সেন, অক্ষয় কুমার ˆমত্রেয়, শিবনাথ শাস্ত্রী, রামতনু লাহিড়ী প্রমুখ| কিন্তু বাস্তবে তার স্মৃতি সংরক্ষণে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি| তার বংশধররা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন| অবশেষে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর তৎকালীন সরকার তার স্মৃতিতে জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন| ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়|
অবশেষে, দীর্ঘ ১২৪ বছর পর কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের নাম নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হলো| তার ব্যবহৃত মুদ্রণযন্ত্র, বই ও স্মারকসমূহ আজ সেই জাদুঘরে সংরক্ষিত| তবুও প্রশ্ন থেকে যায়— আমরা কি যথাযথভাবে তার অবদানকে মূল্যায়ন করতে পেরেছি?
[লেখক : কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের পঞ্চম বংশধর]

আপনার মতামত লিখুন