প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙে যায় রাস্তার তীব্র হর্ন-বাজনায়। দুপুরে নির্মাণ যন্ত্রের গর্জন, সন্ধ্যায় যানবাহনের অবিরাম শোরগোল সঙ্গে নিত্যদিন বিষাক্ত বাতাসে শ্বাসকষ্ট। এটি এখন ঢাকা শহরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের দৈনন্দিন বাস্তবতা। শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, আমাদের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত ধ্বংস করার একটি অদৃশ্য সংকট। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি। বায়ু মানের সূচকে ঢাকা বছরের বেশিরভাগ সময় ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বিভাগে থাকে। শব্দের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৫৫ ডেসিবেল শব্দকে নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু ঢাকার প্রধান রাস্তায় শব্দ ৮০-১০০ ডেসিবেলে পৌঁছায়।
দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণ কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং প্রাথমিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। ক্রমাগত শোরগোল উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রেস, অনিদ্রা এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস ঘটায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
দ্রুত নগরায়ন, অপরিকল্পিত নির্মাণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং দুর্বল মানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এই সংকটের প্রধান কারণ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নির্ধারিত জরিমানা এত নগণ্য যে তা ব্যবসায়ীদের কাছে মাত্র একটি খরচ। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত দুর্বল।
সমাধান সম্ভব; নির্মাণ কাজের সময় নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নয়ন, যানবাহনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারি সংস্থাগুলোর দৃঢ় সংকল্প এবং আইনের কঠোর বাস্তবায়ন।
ঢাকা আমাদের নিজস্ব শহর। লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে জন্ম নেয়, বেড়ে ওঠে। কিন্তু এর বায়ু বিষাক্ত এবং শব্দ বধির করে। আমরা কি সত্যিই চাই আমাদের সন্তানরা এমন একটি শহরে বাস করুক যেখানে শ্বাসের জন্য মাস্ক লাগে পরিবর্তন জরুরি; এর জন্য চাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর অবিলম্বে পদক্ষেপ। ঢাকাকে শ্বাসযোগ্য করা শুধু পরিবেশগত লক্ষ্য নয়, এটি আমাদের মৌলিক অধিকার।
তাই আসুন আমারা আমাদের তিলোত্তমা নগরী ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে নিজেরা সচেতন হই ও অন্যদের সচেতন করি। তাহলেই আমরা আমাদের প্রাণের শহর ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে পারবো। জনসচেতনতার পাশাপাশি ঢাকা শহরকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপও অতিব জরুরি।
আব্দুল্লাহ আল নোমান
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, ঢাকা কলেজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙে যায় রাস্তার তীব্র হর্ন-বাজনায়। দুপুরে নির্মাণ যন্ত্রের গর্জন, সন্ধ্যায় যানবাহনের অবিরাম শোরগোল সঙ্গে নিত্যদিন বিষাক্ত বাতাসে শ্বাসকষ্ট। এটি এখন ঢাকা শহরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের দৈনন্দিন বাস্তবতা। শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, আমাদের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত ধ্বংস করার একটি অদৃশ্য সংকট। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি। বায়ু মানের সূচকে ঢাকা বছরের বেশিরভাগ সময় ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বিভাগে থাকে। শব্দের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৫৫ ডেসিবেল শব্দকে নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু ঢাকার প্রধান রাস্তায় শব্দ ৮০-১০০ ডেসিবেলে পৌঁছায়।
দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণ কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং প্রাথমিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। ক্রমাগত শোরগোল উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রেস, অনিদ্রা এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস ঘটায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
দ্রুত নগরায়ন, অপরিকল্পিত নির্মাণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং দুর্বল মানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এই সংকটের প্রধান কারণ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নির্ধারিত জরিমানা এত নগণ্য যে তা ব্যবসায়ীদের কাছে মাত্র একটি খরচ। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত দুর্বল।
সমাধান সম্ভব; নির্মাণ কাজের সময় নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নয়ন, যানবাহনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারি সংস্থাগুলোর দৃঢ় সংকল্প এবং আইনের কঠোর বাস্তবায়ন।
ঢাকা আমাদের নিজস্ব শহর। লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে জন্ম নেয়, বেড়ে ওঠে। কিন্তু এর বায়ু বিষাক্ত এবং শব্দ বধির করে। আমরা কি সত্যিই চাই আমাদের সন্তানরা এমন একটি শহরে বাস করুক যেখানে শ্বাসের জন্য মাস্ক লাগে পরিবর্তন জরুরি; এর জন্য চাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর অবিলম্বে পদক্ষেপ। ঢাকাকে শ্বাসযোগ্য করা শুধু পরিবেশগত লক্ষ্য নয়, এটি আমাদের মৌলিক অধিকার।
তাই আসুন আমারা আমাদের তিলোত্তমা নগরী ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে নিজেরা সচেতন হই ও অন্যদের সচেতন করি। তাহলেই আমরা আমাদের প্রাণের শহর ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে পারবো। জনসচেতনতার পাশাপাশি ঢাকা শহরকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপও অতিব জরুরি।
আব্দুল্লাহ আল নোমান
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, ঢাকা কলেজ

আপনার মতামত লিখুন