কক্সবাজার জেলায় স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখের বেশি, এ ছাড়া সারা বছর পর্যটকে ভরপুর থাকে আমাদের এই জেলা| এর সঙ্গে রয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে থাকা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক যুক্ত হলে কার্যত প্রায় ৪০ লাখ মানুষের চিকিৎসা দায়িত্ব এই জেলার ওপর বর্তায়| প্রশ্ন হলো, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন কিছু নয়| গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, রান্নাঘরের আগুন— এসব থেকে প্রায়ই দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে| বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বাঁশ, ত্রিপলের মতো দাহ্য উপকরণে নির্মিত ঘরবাড়ি আগুনকে মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ দেয়| এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা না পেলে একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে| অন্যদিকে এই শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা হোটেলগুলোর অধিকাংশে নেই বিকল্প এক্সিট ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা| তাই যেকোনো অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তেই রূপ নিতে পারে বিরাট এক ট্র্যাজেডি| কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট নেই| গুরুতর দগ্ধ রোগীদের পাঠাতে হয় চট্টগ্রাম বা ঢাকায়| এতে সময় নষ্ট হয়, আর দগ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে সময় মানেই জীবন| চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নামে পরিচিত প্রথম
কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ| এই সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে সংক্রমণ, অঙ্গহানি কিংবা মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়| একটু ভাবুন তো, একজন দরিদ্র দগ্ধ রোগীকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলো, তারপর রেফার করা হলো এরপর চট্টগ্রাম বা ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি| এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কতটা সময় হারিয়ে যায় কত পরিবার পথে নিঃস্ব হয় কত জীবন হয়তো বাঁচানো যেত, যদি জেলাতেই একটি মানসম্মত বার্ন ইউনিট থাকত একটি আধুনিক বার্ন ইউনিট চালু হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিতভাবে বদলে যাবে| প্রথমতো, দগ্ধ রোগীরা তাৎক্ষণিক বিশেষায়িত চিকিৎসা পাবেন| দ্বিতীয়ত, স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে| তৃতীয়ত, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে| আর সবচেয়ে বড় কথা, অগ্নিদগ্ধজনিত প্রাণহানি ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে|
কক্সবাজার শুধু একটি জেলা নয়; এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি অঞ্চল, সারা বছর এখানে বিদেশি ভ্রমণপিপাসু ও কর্মজীবী নাগরিকের বসবাস থাকে| এখানে লাখো মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িত| তাই মানবিক, প্রশাসনিক এবং জনস্বার্থের দিক থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট স্থাপন আর বিলাসিতা নয়— এটি এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি| এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে বহু সম্ভাব্য প্রাণহানি রোধ করতে| সিদ্ধান্তটি আজ নিলে আগামীকাল তার সুফল পাবে পুরো জেলা| এখন প্রয়োজন সদিচ্ছা, সমন্বয় এবং দ্রুত উদ্যোগের|
আরিফ উল্লাহ
কক্সবাজার

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজার জেলায় স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখের বেশি, এ ছাড়া সারা বছর পর্যটকে ভরপুর থাকে আমাদের এই জেলা| এর সঙ্গে রয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে থাকা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক যুক্ত হলে কার্যত প্রায় ৪০ লাখ মানুষের চিকিৎসা দায়িত্ব এই জেলার ওপর বর্তায়| প্রশ্ন হলো, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন কিছু নয়| গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, রান্নাঘরের আগুন— এসব থেকে প্রায়ই দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে| বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বাঁশ, ত্রিপলের মতো দাহ্য উপকরণে নির্মিত ঘরবাড়ি আগুনকে মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ দেয়| এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা না পেলে একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে| অন্যদিকে এই শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা হোটেলগুলোর অধিকাংশে নেই বিকল্প এক্সিট ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা| তাই যেকোনো অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তেই রূপ নিতে পারে বিরাট এক ট্র্যাজেডি| কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট নেই| গুরুতর দগ্ধ রোগীদের পাঠাতে হয় চট্টগ্রাম বা ঢাকায়| এতে সময় নষ্ট হয়, আর দগ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে সময় মানেই জীবন| চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নামে পরিচিত প্রথম
কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ| এই সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে সংক্রমণ, অঙ্গহানি কিংবা মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়| একটু ভাবুন তো, একজন দরিদ্র দগ্ধ রোগীকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলো, তারপর রেফার করা হলো এরপর চট্টগ্রাম বা ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি| এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কতটা সময় হারিয়ে যায় কত পরিবার পথে নিঃস্ব হয় কত জীবন হয়তো বাঁচানো যেত, যদি জেলাতেই একটি মানসম্মত বার্ন ইউনিট থাকত একটি আধুনিক বার্ন ইউনিট চালু হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিতভাবে বদলে যাবে| প্রথমতো, দগ্ধ রোগীরা তাৎক্ষণিক বিশেষায়িত চিকিৎসা পাবেন| দ্বিতীয়ত, স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে| তৃতীয়ত, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে| আর সবচেয়ে বড় কথা, অগ্নিদগ্ধজনিত প্রাণহানি ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে|
কক্সবাজার শুধু একটি জেলা নয়; এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি অঞ্চল, সারা বছর এখানে বিদেশি ভ্রমণপিপাসু ও কর্মজীবী নাগরিকের বসবাস থাকে| এখানে লাখো মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িত| তাই মানবিক, প্রশাসনিক এবং জনস্বার্থের দিক থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট স্থাপন আর বিলাসিতা নয়— এটি এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি| এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে বহু সম্ভাব্য প্রাণহানি রোধ করতে| সিদ্ধান্তটি আজ নিলে আগামীকাল তার সুফল পাবে পুরো জেলা| এখন প্রয়োজন সদিচ্ছা, সমন্বয় এবং দ্রুত উদ্যোগের|
আরিফ উল্লাহ
কক্সবাজার

আপনার মতামত লিখুন