সংবাদ

ধর্ষণ ও হত্যা: আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়


প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

ধর্ষণ ও হত্যা: আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়

পাবনার ঈশ্বরদী, নরসিংদীর মাধবদী, ভোলার তজুমদ্দিন, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আর সর্বশেষ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ। মানচিত্রে দূরত্ব থাকলেও ঘটনাগুলোর নির্মমতায় কোনো ফারাক নেই। এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত ধারাবাহিক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামাজিক নৈতিকতা এবং বিচারব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, নারীর প্রতি সহিংস মনোভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক নীরবতা। প্রশ্ন হলো— আইন থাকার পরও কেন এ অপরাধ থামছে না বাংলাদেশে ধর্ষণ রোধে শক্তিশালী আইন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। ধর্ষণের ফলে মৃত্যু ঘটলে বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায়ও একই কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা বা গুরুতর জখমের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

এ ছাড়া শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ‘শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান যুক্ত হয়েছে আইনে। সরকারের ক্ষমতা রয়েছে প্রতিটি জেলা ও মহানগরে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের। কাগজে-কলমে এই কাঠামো শক্তিশালী। কিন্তু প্রশ্ন হলো— কতগুলো জেলায় কার্যকর ট্রাইব্যুনাল আছে কতগুলো মামলা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় কতজন ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা পান আইন প্রয়োগে গাফিলতি, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রভাবশালীদের চাপ— এসব কারণে বিচারপ্রক্রিয়া প্রায়ই ভুক্তভোগীর জন্য আরেকটি মানসিক নির্যাতনে পরিণত হয়। আইন আছে, ট্রাইব্যুনাল আছে, শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু এগুলোর কার্যকর প্রয়োগ, সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন এবং নৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

পাবনা, নরসিংদী, ভোলা বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়— এগুলো কেবল স্থাননাম নয়; এগুলো সতর্কবার্তা। প্রতিটি অসমাপ্ত বিচার, প্রতিটি অভিযোগহীন ঘটনা আমাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখন সময় নীরবতা ভাঙার— রাষ্ট্রের, সমাজের, এবং আমাদের প্রত্যেকের। কারণ ধর্ষণ শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম রূপ। আর মানবাধিকার রক্ষা করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

আমির ফয়সাল

শিক্ষার্থী,আইন ও বিচার বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


ধর্ষণ ও হত্যা: আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পাবনার ঈশ্বরদী, নরসিংদীর মাধবদী, ভোলার তজুমদ্দিন, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আর সর্বশেষ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ। মানচিত্রে দূরত্ব থাকলেও ঘটনাগুলোর নির্মমতায় কোনো ফারাক নেই। এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত ধারাবাহিক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামাজিক নৈতিকতা এবং বিচারব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, নারীর প্রতি সহিংস মনোভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক নীরবতা। প্রশ্ন হলো— আইন থাকার পরও কেন এ অপরাধ থামছে না বাংলাদেশে ধর্ষণ রোধে শক্তিশালী আইন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। ধর্ষণের ফলে মৃত্যু ঘটলে বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায়ও একই কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা বা গুরুতর জখমের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

এ ছাড়া শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ‘শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান যুক্ত হয়েছে আইনে। সরকারের ক্ষমতা রয়েছে প্রতিটি জেলা ও মহানগরে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের। কাগজে-কলমে এই কাঠামো শক্তিশালী। কিন্তু প্রশ্ন হলো— কতগুলো জেলায় কার্যকর ট্রাইব্যুনাল আছে কতগুলো মামলা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় কতজন ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা পান আইন প্রয়োগে গাফিলতি, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রভাবশালীদের চাপ— এসব কারণে বিচারপ্রক্রিয়া প্রায়ই ভুক্তভোগীর জন্য আরেকটি মানসিক নির্যাতনে পরিণত হয়। আইন আছে, ট্রাইব্যুনাল আছে, শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু এগুলোর কার্যকর প্রয়োগ, সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন এবং নৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

পাবনা, নরসিংদী, ভোলা বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়— এগুলো কেবল স্থাননাম নয়; এগুলো সতর্কবার্তা। প্রতিটি অসমাপ্ত বিচার, প্রতিটি অভিযোগহীন ঘটনা আমাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখন সময় নীরবতা ভাঙার— রাষ্ট্রের, সমাজের, এবং আমাদের প্রত্যেকের। কারণ ধর্ষণ শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম রূপ। আর মানবাধিকার রক্ষা করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

আমির ফয়সাল

শিক্ষার্থী,আইন ও বিচার বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত