ব্যাংক হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি| ব্যাংক একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চাবিকাঠি| ব্যাংকের প্রধান কাজ হচ্ছে আমানত গ্রহণ করা এবং তারুল্য বজায় রেখে ঋণ বিতরণ করা| ব্যাংক ঋণ বিতরণের মাধ্যমে মুুনাফা অর্জন করে| ব্যাংক যদিও ঋণ বিতরণ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার করে, কিন্তু বাজারে যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয় তার সম্পূর্ণ টাকা ফেরত আসে না| যার ফলে উত্তোলন অযোগ্য অধিকাংশ ঋণ মন্দ ও খেলাপি ঋণে পরিণত হয়ে যায়| সেই হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যাংকে কম-বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে| বাংলাদেশে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে দেশের অর্ধেকের বেশি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক খেলাপি ঋণে জর্জরিত| উক্ত খেলাপি ঋণ আদায়ে বিগত সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি| বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর সর্বপ্রথম ৫টি ইসলামি শরিয়া ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা শূন্য করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করে| তিনি সংস্কারের নামে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য ইসলামি শরিয়া ব্যাংকসমূহের সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন| শুধু ইসলামী ধারার ব্যাংকসমূহে খেলাপি ঋণ বেশি দেখিয়ে তাদের সুনাম নষ্ট করা কোনো সংস্কার নয়, বরং এটি হচ্ছে জুলুম ও ব্যাংক ধ্বংস করার নীলনকশা| এই নকশা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি ঋণ গ্রহণ করা ব্যবসায়ীদের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাব পোষণ করেন| একজন গ্রাহক নিজে স্ব-ইচ্ছায় খেলাপি হওয়া আর তাকে সরকারিভাবে ইচ্ছাগতভাবে ঋণখেলাপি বানানো, দুটো এক বিষয় নয়| এ দুটো বিষয়ের মধ্য বিস্তর তফাৎ রয়েছে| জুলাই-আগস্ট পরবর্তী ইউনূস সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাই হয়েছে| হাজার হাজার মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে| অসংখ্য লোক কর্মহীন হয়ে বেকার ও মানবেতার জীবনযাপন করছে| বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক সংস্কারের নামে যা হয়েছে তাকে সংস্কার বলা যায় না| সংস্কার মানে শুধু ৫টি ইসলামি ধারার ব্যাংকের সুনাম নষ্ট করে মার্জ করা নয়| সংস্কারের অর্থ হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি যতগুলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রত্যেকটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে একই নিয়মে সংস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহন করা| সর্বপ্রথম যথাযত কার্যকর ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে গ্রাহকের মধ্য আস্তা ও বিশ্বাস তৈরি করা| তা করার জন্য দৈনন্দিন লেনদেনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে| সমস্ত গ্রাহকের হিসাব নিস্ক্রিয় করে দিয়ে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া কোনো সংস্কারের পর্যায় পড়ে না|
সদ্য বিদায়ী গভর্নর কর্তৃক ব্যাংক সংস্কারের নামে হাজার হাজার ব্যাংকারকে চাকরিচ্যুত করে পথে বসিয়েছেন| একসঙ্গে ১০ হাজারের অধিক ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন| কোন সুনির্দিষ্ট কারন ছাড়াই বিনা নোটিসে দক্ষ-পেশাদার কর্মীদের ছাটাই করা হয়েছে| ছাঁটাইকৃত ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্য যারা ছিল পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যাক্তি| তাদের আয় দিয়ে চলত ৫-১০ জনের একটির পরিবার| কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ১০ হাজারের অধিক ব্যাংক কর্মকর্তাকে টার্মিনেট করেছেন| এই অসহায় কর্মকর্তারা বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও মানবতার জীবনযাপন করছেন| তাদের পরিবারে নেমে এসেছে অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার| টার্মিনেশন করার কারণে এই কর্মকর্তারা অন্য কোনো ব্যাংকে চাকরিতে যোগদান করতে পারছে না| আমাদের হাজার হাজার ছেলে মেয়েদের অত্যন্ত নির্মম নির্দয়ভাবে রিজিক কেড়ে নেয়া কোনো সংস্কারের আওতায় পড়ে না|
ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বৈষম্যমূলকভাবে ছাটাইয়ের প্রতিবাদে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য গত ১২-০৩-২৬ ইং তারিখে ঢাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মুখে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাজের আয়োজন করেন|
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নতুন গভর্নর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়| স্মারকলিপিতে একটি বৈষমহীন গণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মানে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়|
নতুন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই বছরে ২ কৌটি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন| তারই ধারাবাহিকতায় ৬টি ইসলামি ব্যাংক হতে ছাটাই হওয়া ভাই-বোনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন| বর্তমানে ইসলামি শরিয়া ব্যাংক হতে চাকরি হারানো ভাই-বোনেরা চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে| তাদের পরিবারের মধ্য চলছে নীরব কান্না, যা সহ্য করার মতো নয়| ব্যাংকে চাকরিচ্যুতরা সবাই এই দেশের মানুষ, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ| প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নরের কাছে বিনীত অনুরোধ আমাদের ভাই-বোনদের হারানো চাকরিগুলো ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি সদয় বিবেচনা করবেন| একটি চাকরি হারানো মানে শুধু একজন মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও নিরাপত্তা| আমার বিশ্বাস সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে এই সমস্যার একটি সুন্দর সমাধান সম্ভব|
মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ব্যাংক হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি| ব্যাংক একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চাবিকাঠি| ব্যাংকের প্রধান কাজ হচ্ছে আমানত গ্রহণ করা এবং তারুল্য বজায় রেখে ঋণ বিতরণ করা| ব্যাংক ঋণ বিতরণের মাধ্যমে মুুনাফা অর্জন করে| ব্যাংক যদিও ঋণ বিতরণ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার করে, কিন্তু বাজারে যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয় তার সম্পূর্ণ টাকা ফেরত আসে না| যার ফলে উত্তোলন অযোগ্য অধিকাংশ ঋণ মন্দ ও খেলাপি ঋণে পরিণত হয়ে যায়| সেই হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যাংকে কম-বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে| বাংলাদেশে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে দেশের অর্ধেকের বেশি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক খেলাপি ঋণে জর্জরিত| উক্ত খেলাপি ঋণ আদায়ে বিগত সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি| বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর সর্বপ্রথম ৫টি ইসলামি শরিয়া ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা শূন্য করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করে| তিনি সংস্কারের নামে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য ইসলামি শরিয়া ব্যাংকসমূহের সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন| শুধু ইসলামী ধারার ব্যাংকসমূহে খেলাপি ঋণ বেশি দেখিয়ে তাদের সুনাম নষ্ট করা কোনো সংস্কার নয়, বরং এটি হচ্ছে জুলুম ও ব্যাংক ধ্বংস করার নীলনকশা| এই নকশা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি ঋণ গ্রহণ করা ব্যবসায়ীদের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাব পোষণ করেন| একজন গ্রাহক নিজে স্ব-ইচ্ছায় খেলাপি হওয়া আর তাকে সরকারিভাবে ইচ্ছাগতভাবে ঋণখেলাপি বানানো, দুটো এক বিষয় নয়| এ দুটো বিষয়ের মধ্য বিস্তর তফাৎ রয়েছে| জুলাই-আগস্ট পরবর্তী ইউনূস সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাই হয়েছে| হাজার হাজার মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে| অসংখ্য লোক কর্মহীন হয়ে বেকার ও মানবেতার জীবনযাপন করছে| বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক সংস্কারের নামে যা হয়েছে তাকে সংস্কার বলা যায় না| সংস্কার মানে শুধু ৫টি ইসলামি ধারার ব্যাংকের সুনাম নষ্ট করে মার্জ করা নয়| সংস্কারের অর্থ হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি যতগুলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রত্যেকটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে একই নিয়মে সংস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহন করা| সর্বপ্রথম যথাযত কার্যকর ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে গ্রাহকের মধ্য আস্তা ও বিশ্বাস তৈরি করা| তা করার জন্য দৈনন্দিন লেনদেনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে| সমস্ত গ্রাহকের হিসাব নিস্ক্রিয় করে দিয়ে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া কোনো সংস্কারের পর্যায় পড়ে না|
সদ্য বিদায়ী গভর্নর কর্তৃক ব্যাংক সংস্কারের নামে হাজার হাজার ব্যাংকারকে চাকরিচ্যুত করে পথে বসিয়েছেন| একসঙ্গে ১০ হাজারের অধিক ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন| কোন সুনির্দিষ্ট কারন ছাড়াই বিনা নোটিসে দক্ষ-পেশাদার কর্মীদের ছাটাই করা হয়েছে| ছাঁটাইকৃত ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্য যারা ছিল পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যাক্তি| তাদের আয় দিয়ে চলত ৫-১০ জনের একটির পরিবার| কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ১০ হাজারের অধিক ব্যাংক কর্মকর্তাকে টার্মিনেট করেছেন| এই অসহায় কর্মকর্তারা বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও মানবতার জীবনযাপন করছেন| তাদের পরিবারে নেমে এসেছে অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার| টার্মিনেশন করার কারণে এই কর্মকর্তারা অন্য কোনো ব্যাংকে চাকরিতে যোগদান করতে পারছে না| আমাদের হাজার হাজার ছেলে মেয়েদের অত্যন্ত নির্মম নির্দয়ভাবে রিজিক কেড়ে নেয়া কোনো সংস্কারের আওতায় পড়ে না|
ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বৈষম্যমূলকভাবে ছাটাইয়ের প্রতিবাদে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য গত ১২-০৩-২৬ ইং তারিখে ঢাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মুখে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাজের আয়োজন করেন|
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নতুন গভর্নর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়| স্মারকলিপিতে একটি বৈষমহীন গণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মানে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়|
নতুন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই বছরে ২ কৌটি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন| তারই ধারাবাহিকতায় ৬টি ইসলামি ব্যাংক হতে ছাটাই হওয়া ভাই-বোনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন| বর্তমানে ইসলামি শরিয়া ব্যাংক হতে চাকরি হারানো ভাই-বোনেরা চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে| তাদের পরিবারের মধ্য চলছে নীরব কান্না, যা সহ্য করার মতো নয়| ব্যাংকে চাকরিচ্যুতরা সবাই এই দেশের মানুষ, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ| প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নরের কাছে বিনীত অনুরোধ আমাদের ভাই-বোনদের হারানো চাকরিগুলো ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি সদয় বিবেচনা করবেন| একটি চাকরি হারানো মানে শুধু একজন মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও নিরাপত্তা| আমার বিশ্বাস সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে এই সমস্যার একটি সুন্দর সমাধান সম্ভব|
মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন

আপনার মতামত লিখুন