সংবাদ

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হাদির ‘জবানবন্দি’ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ ট্রাইব্যুনালের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হাদির ‘জবানবন্দি’ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ ট্রাইব্যুনালের

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে করা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। আজ শেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ জবানবন্দি গ্রহণ করে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।

হাদির জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলার শেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হাদির জবানবন্দিও গ্রহণ করা হয়। এদিন সাক্ষ্য শেষ করেন তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ। ১৯ এপ্রিল তার জবানবন্দি শুরু হয়। সবমিলিয়ে এ মামলায় মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ১৯(২) ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। এর আগে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাসের উদ্দিনের কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তিনি। তবে আইনের বিধান অনুযায়ী তার সেই জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে তা গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করে প্রসিকিউশন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হাদির ‘জবানবন্দি’ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ ট্রাইব্যুনালের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে করা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। আজ শেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ জবানবন্দি গ্রহণ করে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।

হাদির জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলার শেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হাদির জবানবন্দিও গ্রহণ করা হয়। এদিন সাক্ষ্য শেষ করেন তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ। ১৯ এপ্রিল তার জবানবন্দি শুরু হয়। সবমিলিয়ে এ মামলায় মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ গণমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ১৯(২) ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। এর আগে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাসের উদ্দিনের কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তিনি। তবে আইনের বিধান অনুযায়ী তার সেই জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে তা গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করে প্রসিকিউশন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত