সংবাদ

বিএমইউ হাসপাতালে মালামাল লুটের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

বিএমইউ হাসপাতালে মালামাল লুটের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।

রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নির্মাণসামগ্রী ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ওই হাসপাতালের একজন ইঞ্জিনিয়ার ও একজন কম্পিউটার অপারেটর। ঘটনার পেছনে আরও কয়েকজন রাঘব বোয়াল জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার এনএম নাসির উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আল মামুন সরকার, মামুনুর রশিদ ও মাসুম বিল্লাহ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বেজমেন্ট-২ এর নির্মাধীন প্রকল্পের ভবনের প্রকৌশলী শাখা থেকে মিনি ট্রাকযোগে মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় চুরির মামলা দায়ের করা হয়।

পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে মামুনুর রশিদ ও আল মামুন সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের কাছ থেকে চারটি মিনি ট্রাক ও বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মামুনুর রশিদ ওই হাসপাতালের ইঞ্জিনিয়ার এবং আল মামুন সরকার কম্পিউটার অপারেটর। আরেক গ্রেপ্তারকৃত মাসুম বিল্লাহর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের আনসার কমান্ডার হাফিজুল ইসলাম কারণ দর্শানো প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, চুরির দিন সন্ধ্যায় দুটি মিনি ট্রাক হাসপাতালের বেজমেন্টে প্রবেশ করে। পরে আরও দুটি ট্রাক আসে। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ ও কম্পিউটার অপারেটর মামুন সরকার উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্রমতে, চুরি হওয়া মালামালের বেশির ভাগই বিদেশি। এর মধ্যে আইসিইউর মূল্যবান যন্ত্রপাতিও রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে যার মূল্য ধরা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, প্রকৃত মূল্য ৪ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনায় জড়িত একজন ইঞ্জিনিয়ারসহ দুইজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই-তিন বছর আগেও একাধিকবার এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় এই চক্রের কারা জড়িত ছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে।”

চুরি হওয়া মালামাল

আনসার কমান্ডার হাফিজুল ইসলামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতে কিছু বহিরাগত হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে উত্তেজিত ভাষায় কথা বলেন। আনসারের টহল টিম তাদের অফিস সময়ের আগে মালামাল বের করতে না বললে তারা আনসার সদস্যদের হুমকিও দেন। পরে ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদের লিখিত আদেশে ভোর ৬টার দিকে ট্রাকগুলো বের হয়ে যায়।

রাঘব বোয়ালদের নাম উদঘাটনে আনসার বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ আরও জোরদার করেছে পুলিশ। লুটের ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


বিএমইউ হাসপাতালে মালামাল লুটের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নির্মাণসামগ্রী ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ওই হাসপাতালের একজন ইঞ্জিনিয়ার ও একজন কম্পিউটার অপারেটর। ঘটনার পেছনে আরও কয়েকজন রাঘব বোয়াল জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার এনএম নাসির উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আল মামুন সরকার, মামুনুর রশিদ ও মাসুম বিল্লাহ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বেজমেন্ট-২ এর নির্মাধীন প্রকল্পের ভবনের প্রকৌশলী শাখা থেকে মিনি ট্রাকযোগে মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় চুরির মামলা দায়ের করা হয়।

পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে মামুনুর রশিদ ও আল মামুন সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের কাছ থেকে চারটি মিনি ট্রাক ও বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মামুনুর রশিদ ওই হাসপাতালের ইঞ্জিনিয়ার এবং আল মামুন সরকার কম্পিউটার অপারেটর। আরেক গ্রেপ্তারকৃত মাসুম বিল্লাহর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের আনসার কমান্ডার হাফিজুল ইসলাম কারণ দর্শানো প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, চুরির দিন সন্ধ্যায় দুটি মিনি ট্রাক হাসপাতালের বেজমেন্টে প্রবেশ করে। পরে আরও দুটি ট্রাক আসে। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ ও কম্পিউটার অপারেটর মামুন সরকার উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্রমতে, চুরি হওয়া মালামালের বেশির ভাগই বিদেশি। এর মধ্যে আইসিইউর মূল্যবান যন্ত্রপাতিও রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে যার মূল্য ধরা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, প্রকৃত মূল্য ৪ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনায় জড়িত একজন ইঞ্জিনিয়ারসহ দুইজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই-তিন বছর আগেও একাধিকবার এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় এই চক্রের কারা জড়িত ছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে।”

চুরি হওয়া মালামাল

আনসার কমান্ডার হাফিজুল ইসলামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতে কিছু বহিরাগত হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে উত্তেজিত ভাষায় কথা বলেন। আনসারের টহল টিম তাদের অফিস সময়ের আগে মালামাল বের করতে না বললে তারা আনসার সদস্যদের হুমকিও দেন। পরে ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদের লিখিত আদেশে ভোর ৬টার দিকে ট্রাকগুলো বের হয়ে যায়।

রাঘব বোয়ালদের নাম উদঘাটনে আনসার বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ আরও জোরদার করেছে পুলিশ। লুটের ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত