সংবাদ

যুগান্তকারী আবিষ্কার: এবার ভাইরাসকে গিলে খাবে প্লাস্টিক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ পিএম

যুগান্তকারী আবিষ্কার: এবার ভাইরাসকে গিলে খাবে প্লাস্টিক
যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন মেলবোর্নের গবেষকরা

দরজার হাতল, লিফটের বোতাম অথবা মোবাইলের স্ক্রিন- এসব জায়গায় কোটি কোটি ভাইরাস লেগে থাকে। যা চোখে দেখা যায় না। এসব ভাইরাস ধ্বংস করতে আমরা কখনও জীবাণুনাশক স্প্রে করি অথবা ঘন ঘন হাত ধুই। তবে যদি এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার হয় যা ভাইরাস ধ্বংস করে দেবে, তাহলে কেমন হয়?

সত্যিই এটা কল্পনা বা স্বপ্ন নয়। এমন যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন মেলবোর্নের গবেষকরা। তারা তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম সেই প্লাস্টিক, যার সংস্পর্শে আসামাত্র ভাইরাসকে টুকরো টুকরো করে ফেলে।

কীভাবে কাজ করে এই প্লাস্টিক: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা একটি পাতলা প্লাস্টিক তৈরি করেছেন। যার মধ্যে অতি ক্ষুদ্র ‘মাইক্রোস্কোপিক স্ট্রাকচার’ বা অণুকাঠামো বসানো আছে। এই কাঠামোগুলো এতই ধারালো যে ভাইরাস ওপরে পড়ামাত্রই সেগুলোকে ছিঁড়ে ফেলে।

আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট অধ্যাপক এলেনা ইভানোভা বলেন, “ভাইরাস একবার প্লাস্টিকের ওপর এসে পড়লে সেটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর ধ্বংস হয়ে গেলে সংক্রমণের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।”

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্যামসন মাহ জানান, “এটি সত্যিই একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এটি প্রথম দফার প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে একটি, যা ভাইরাসকে মেরে ফেলতে সক্ষম।”

কতটা কার্যকর: গবেষণাটি এখনো গবেষণাগারের বাইরে যায়নি। তবে ল্যাবে পরীক্ষায় চমকপ্রদ সাফল্য মিলেছে। সাধারণ শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জার ওপর এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। ভাইরাসটি শিশুদের ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগের সৃষ্টি করে। গবেষক স্যামসন মাহ জানান, “মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এটি ৯০ শতাংশ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।”

কোথায় ব্যবহার করা যাবে: গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বৃহৎ আকারে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিশুদের কেন্দ্রগুলোতে এটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। সংক্রামক রোগের ঝুঁকি যেখানে সবচেয়ে বেশি, সেখানে এটি কার্যকর হবে।

এর ব্যবহারের সম্ভাবনা ব্যাপক। যেমন- হাসপাতালের ট্রে ও টেবিল, লিফটের বোতাম, দরজার হাতল ও রেলিং, সেলফ-চেকআউট মেশিন, এমনকি মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল স্ক্রিনেও এর ব্যবহার হবে।  স্যামসন মাহ বলেন, “আশা করছি, একদিন এটি ডিজিটাল স্ক্রিনেও ব্যবহার করা যাবে- যেমন ফোনের স্ক্রিন বা ডিজিটাল কিয়স্ক।”

প্লাস্টিক ধ্বংস করবে ভাইরাস

গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রযুক্তি কেমিক্যাল জীবাণুনাশকের বিকল্প নয়। এটি হবে একটি ‘ব্যাকগ্রাউন্ড সেফটি মেজার’। অর্থাৎ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি এটি কাজ করবে, রোগ প্রতিরোধে আরেকটি নিরাপত্তা স্তর যোগ করবে। স্যামসন মাহ বলেন, “আমরা কেমিক্যাল বা পরিষ্কারের বিকল্প আনছি না। এটি রোগ প্রতিরোধে আরও একটি নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে।”

সীমাহীন সম্ভাবনা: গবেষকরা মনে করছেন, এই আবিষ্কারের সম্ভাবনা প্রায় সীমাহীন। ভবিষ্যতে এটি বিমানের আসন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের হাতল, অফিসের ডেস্ক- যেখানেই ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি আছে, সেখানেই ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে গবেষক দল প্রযুক্তিটি গবেষণাগার থেকে বাজারে আনার পরিকল্পনা করছেন।

করোনা মহামারির পর বিশ্ব ভাইরাস প্রতিরোধে আরও সচেতন হয়েছে। আর ঠিক সেই সময়েই এলো যুগান্তকারী আবিষ্কারের খবর। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি হতে পারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


যুগান্তকারী আবিষ্কার: এবার ভাইরাসকে গিলে খাবে প্লাস্টিক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দরজার হাতল, লিফটের বোতাম অথবা মোবাইলের স্ক্রিন- এসব জায়গায় কোটি কোটি ভাইরাস লেগে থাকে। যা চোখে দেখা যায় না। এসব ভাইরাস ধ্বংস করতে আমরা কখনও জীবাণুনাশক স্প্রে করি অথবা ঘন ঘন হাত ধুই। তবে যদি এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার হয় যা ভাইরাস ধ্বংস করে দেবে, তাহলে কেমন হয়?

সত্যিই এটা কল্পনা বা স্বপ্ন নয়। এমন যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন মেলবোর্নের গবেষকরা। তারা তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম সেই প্লাস্টিক, যার সংস্পর্শে আসামাত্র ভাইরাসকে টুকরো টুকরো করে ফেলে।

কীভাবে কাজ করে এই প্লাস্টিক: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা একটি পাতলা প্লাস্টিক তৈরি করেছেন। যার মধ্যে অতি ক্ষুদ্র ‘মাইক্রোস্কোপিক স্ট্রাকচার’ বা অণুকাঠামো বসানো আছে। এই কাঠামোগুলো এতই ধারালো যে ভাইরাস ওপরে পড়ামাত্রই সেগুলোকে ছিঁড়ে ফেলে।

আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট অধ্যাপক এলেনা ইভানোভা বলেন, “ভাইরাস একবার প্লাস্টিকের ওপর এসে পড়লে সেটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর ধ্বংস হয়ে গেলে সংক্রমণের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।”

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্যামসন মাহ জানান, “এটি সত্যিই একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এটি প্রথম দফার প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে একটি, যা ভাইরাসকে মেরে ফেলতে সক্ষম।”

কতটা কার্যকর: গবেষণাটি এখনো গবেষণাগারের বাইরে যায়নি। তবে ল্যাবে পরীক্ষায় চমকপ্রদ সাফল্য মিলেছে। সাধারণ শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জার ওপর এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। ভাইরাসটি শিশুদের ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগের সৃষ্টি করে। গবেষক স্যামসন মাহ জানান, “মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এটি ৯০ শতাংশ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।”

কোথায় ব্যবহার করা যাবে: গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বৃহৎ আকারে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিশুদের কেন্দ্রগুলোতে এটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। সংক্রামক রোগের ঝুঁকি যেখানে সবচেয়ে বেশি, সেখানে এটি কার্যকর হবে।

এর ব্যবহারের সম্ভাবনা ব্যাপক। যেমন- হাসপাতালের ট্রে ও টেবিল, লিফটের বোতাম, দরজার হাতল ও রেলিং, সেলফ-চেকআউট মেশিন, এমনকি মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল স্ক্রিনেও এর ব্যবহার হবে।  স্যামসন মাহ বলেন, “আশা করছি, একদিন এটি ডিজিটাল স্ক্রিনেও ব্যবহার করা যাবে- যেমন ফোনের স্ক্রিন বা ডিজিটাল কিয়স্ক।”

প্লাস্টিক ধ্বংস করবে ভাইরাস

গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রযুক্তি কেমিক্যাল জীবাণুনাশকের বিকল্প নয়। এটি হবে একটি ‘ব্যাকগ্রাউন্ড সেফটি মেজার’। অর্থাৎ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি এটি কাজ করবে, রোগ প্রতিরোধে আরেকটি নিরাপত্তা স্তর যোগ করবে। স্যামসন মাহ বলেন, “আমরা কেমিক্যাল বা পরিষ্কারের বিকল্প আনছি না। এটি রোগ প্রতিরোধে আরও একটি নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে।”

সীমাহীন সম্ভাবনা: গবেষকরা মনে করছেন, এই আবিষ্কারের সম্ভাবনা প্রায় সীমাহীন। ভবিষ্যতে এটি বিমানের আসন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের হাতল, অফিসের ডেস্ক- যেখানেই ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি আছে, সেখানেই ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে গবেষক দল প্রযুক্তিটি গবেষণাগার থেকে বাজারে আনার পরিকল্পনা করছেন।

করোনা মহামারির পর বিশ্ব ভাইরাস প্রতিরোধে আরও সচেতন হয়েছে। আর ঠিক সেই সময়েই এলো যুগান্তকারী আবিষ্কারের খবর। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি হতে পারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত