সংবাদ

মঙ্গলগ্রহে ‘জৈব অণু’ আর ‘চিতাবাঘের ছোপ’!


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

মঙ্গলগ্রহে ‘জৈব অণু’ আর ‘চিতাবাঘের ছোপ’!
মঙ্গলগ্রহ।

খবরটি হয়তো আপনার চোখ কপালে তুলে দেবে। লাল গ্রহের বুকে নাসার দুই অক্লান্ত সৈনিক- পারসিভারেন্স ও কিউরিওসিটি সম্প্রতি এমন কিছু অবিশ্বাস্য তথ্য পাঠিয়েছে। যা মানবজাতির চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে: আমরা কি মহাবিশ্বে একা?

গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, মঙ্গলের পাথরে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন বছর পুরনো ‘জৈব অণু’ (অর্গানিক কম্পাউন্ড) ও ‘চিতাবাঘের ছোপ’ সদৃশ নমুনা পাওয়া গেছে। পৃথিবীর মাইক্রোবিয়াল লাইফের (অণুজীব) সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে এগুলোর।

গেল সপ্তাহে বিজ্ঞান জার্নাল ‘ন্যাচার’-এ প্রকাশিত ফলাফলে এমন বিস্ময়কর তথ্য জানানো হয়।  পারসিভারেন্স মঙ্গলের জিরো ক্রেটারে (নেরেটভা ভ্যালিস) ‘চিতাবাঘের ছোপ’ যা ভিভিয়ানাইট ও গ্রেগাইট খনিজ ও জৈব কার্বন খুঁজে পেয়েছে। যার সঙ্গে পৃথিবীর প্রাচীন শিলায় পাওয়া অণুজীবের অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে।

জৈব অণুর চিহ্ন

ঠিক একইভাবে কিউরিওসিটি গ্রহটির গেইল ক্রেটারে বা ‘মেরি অ্যানিং ৩’ নমুনায় ২১টি জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে। যার ৭টি কখনও মঙ্গলে দেখা যায়নি। এগুলো আরএনএ ও ডিএনএ-র পূর্বসূরি ‘নাইট্রোজেন হেটারোসাইকেল’ অণু।

কার্নেগি সায়েন্সের ড. অ্যান্ড্রু স্টিল জানান, ‘চিতাবাঘের ছোপ’ আসলে লালচে আভার খনিজ। এতে আয়রন-রিচ ফসফেট ও সালফাইড রয়েছে। পৃথিবীর বুকে যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমেই ঘটে।

কিউরিওসিটি রোভারের গবেষণার প্রধান অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, “এটা প্রমাণ করে যে মঙ্গলের অগভীর তলদেশে জটিল জৈব পদার্থ সংরক্ষিত আছে। এটি যদি সত্যিই প্রাণের নিদর্শন হয়, তাহলে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে”।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ? উত্তর হলো: এখনই না। পৃথিবীতে এই প্রক্রিয়া প্রাণঘটিত হলেও, মঙ্গলে তা আকরিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায়ও হতে পারে।

বর্তমান প্রমাণ নাসার ‘কনফিডেন্স অফ লাইফ ডিটেকশন’ স্কেলের প্রাথমিক ধাপে আছে। চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পেতে হলে শিলার নমুনা বাস্তব ল্যাবে এনে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা জরুরি।

মঙ্গলের মাটিতে বিশেষ চিহ্ন

এসব নমুনা মূলত আগের ‘মার্স সেম্পল রিটার্ন’ মিশনের ভিত্তি ছিল। যদিও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বাজেট সংকটে মিশনটি বাতিল হয়ে যায়। তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ভবিষ্যতের কোনো অভিযান (যেমন ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার, যা ২০২৮ সালে যাত্রা করবে) হয়তো এগুলো সংগ্রহ করে আনতে পারবে ।

যতক্ষণ না পর্যন্ত মানবহাত সেই পাথর স্পর্শ করছে, ততক্ষণ লাল গ্রহ তার রহস্য চাপা রেখে আমাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখবে। তবে আপাতত, বিস্ময়কর আবিষ্কারের গন্ধ তো পাচ্ছেনই বিজ্ঞানীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


মঙ্গলগ্রহে ‘জৈব অণু’ আর ‘চিতাবাঘের ছোপ’!

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

খবরটি হয়তো আপনার চোখ কপালে তুলে দেবে। লাল গ্রহের বুকে নাসার দুই অক্লান্ত সৈনিক- পারসিভারেন্স ও কিউরিওসিটি সম্প্রতি এমন কিছু অবিশ্বাস্য তথ্য পাঠিয়েছে। যা মানবজাতির চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে: আমরা কি মহাবিশ্বে একা?

গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, মঙ্গলের পাথরে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন বছর পুরনো ‘জৈব অণু’ (অর্গানিক কম্পাউন্ড) ও ‘চিতাবাঘের ছোপ’ সদৃশ নমুনা পাওয়া গেছে। পৃথিবীর মাইক্রোবিয়াল লাইফের (অণুজীব) সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে এগুলোর।

গেল সপ্তাহে বিজ্ঞান জার্নাল ‘ন্যাচার’-এ প্রকাশিত ফলাফলে এমন বিস্ময়কর তথ্য জানানো হয়।  পারসিভারেন্স মঙ্গলের জিরো ক্রেটারে (নেরেটভা ভ্যালিস) ‘চিতাবাঘের ছোপ’ যা ভিভিয়ানাইট ও গ্রেগাইট খনিজ ও জৈব কার্বন খুঁজে পেয়েছে। যার সঙ্গে পৃথিবীর প্রাচীন শিলায় পাওয়া অণুজীবের অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে।

জৈব অণুর চিহ্ন

ঠিক একইভাবে কিউরিওসিটি গ্রহটির গেইল ক্রেটারে বা ‘মেরি অ্যানিং ৩’ নমুনায় ২১টি জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে। যার ৭টি কখনও মঙ্গলে দেখা যায়নি। এগুলো আরএনএ ও ডিএনএ-র পূর্বসূরি ‘নাইট্রোজেন হেটারোসাইকেল’ অণু।

কার্নেগি সায়েন্সের ড. অ্যান্ড্রু স্টিল জানান, ‘চিতাবাঘের ছোপ’ আসলে লালচে আভার খনিজ। এতে আয়রন-রিচ ফসফেট ও সালফাইড রয়েছে। পৃথিবীর বুকে যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমেই ঘটে।

কিউরিওসিটি রোভারের গবেষণার প্রধান অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, “এটা প্রমাণ করে যে মঙ্গলের অগভীর তলদেশে জটিল জৈব পদার্থ সংরক্ষিত আছে। এটি যদি সত্যিই প্রাণের নিদর্শন হয়, তাহলে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে”।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ? উত্তর হলো: এখনই না। পৃথিবীতে এই প্রক্রিয়া প্রাণঘটিত হলেও, মঙ্গলে তা আকরিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায়ও হতে পারে।

বর্তমান প্রমাণ নাসার ‘কনফিডেন্স অফ লাইফ ডিটেকশন’ স্কেলের প্রাথমিক ধাপে আছে। চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পেতে হলে শিলার নমুনা বাস্তব ল্যাবে এনে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা জরুরি।

মঙ্গলের মাটিতে বিশেষ চিহ্ন

এসব নমুনা মূলত আগের ‘মার্স সেম্পল রিটার্ন’ মিশনের ভিত্তি ছিল। যদিও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বাজেট সংকটে মিশনটি বাতিল হয়ে যায়। তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ভবিষ্যতের কোনো অভিযান (যেমন ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার, যা ২০২৮ সালে যাত্রা করবে) হয়তো এগুলো সংগ্রহ করে আনতে পারবে ।

যতক্ষণ না পর্যন্ত মানবহাত সেই পাথর স্পর্শ করছে, ততক্ষণ লাল গ্রহ তার রহস্য চাপা রেখে আমাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখবে। তবে আপাতত, বিস্ময়কর আবিষ্কারের গন্ধ তো পাচ্ছেনই বিজ্ঞানীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত