সংবাদ

বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম, সংকটে স্বল্প আয়ের মানুষ


রেজাউল করিম
রেজাউল করিম
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম, সংকটে স্বল্প আয়ের মানুষ

রাজধানি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ইমরুল কায়েস। বেতন পান ৩০ হাজার টাকা। এই টাকার মধ্যেই বাড়িভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ খরচ, সন্তানের লেখাপড়া, গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাছে সামান্য খরচ পাঠানো- সব মিলিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। দিন দিন যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে তাতে এই ঢাকায় কতদিন টিকে থাকতে পারবেন তা নিয়ে সন্দিহান তিনি।

শুক্রবার কথা হয় তার সঙ্গে। হতাশা জানিয়ে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘আর হয়তো বেশিদিন ঢাকায় থাকতে পারবো না। খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে তো আর বেতন বাড়ছে না। ব্যবসায়িরা যেকোনো অজুহাতেই দাম দাম বাড়িয়ে দেয়। এভাবে তো আমার কোম্পানি বেতন বাড়ায় না। এভাবে চলতে থাকলে এই বছরটাও টিকতে পারবো না।

খরচে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বাজার করা কমিয়ে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গরু বা খাসির মাংস অনেক আগেই কেনা বন্ধ করেছিলাম। এখন নতুন করে ব্রয়লার পাঙ্গাস মাছও কিনতে পারছি না। কারণ, এই দুটি খাবার গরিবের খাবার হিসেবে ধরা হতো। এখন এই দুটি পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এই সপ্তাহে দেখলাম ডিমের দামও ডজনে বেড়েছে ৩০ টাকা। খরচে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বাজার করাও কমিয়ে দিয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে জানি না এই বছরটা ঢাকায় থাকতে পারবো কি না।

এই অবস্থা শুধু ইমরুল কায়েশেরই নয়, অনেক পরিবার এখন হিমসিম খাচ্ছে সংসার চালাতে। বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ক্রেতারা বলছেন, দাম আগে থেকেই বাড়ছিল। এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে আরও দ্রুত গতিতে দাম বাড়াবে ব্যবসায়িরা।

আর খুচরা ব্যবসায়িরা বলছেন, তেলের দাম বাড়তির কথা বলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে গেছে। তাই তাদের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। এই অবস্থায় নাভিশ্বাস উঠছে স্বল্প আয়ের মানুষের। অনেকে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আবার অনেকে ধার-দেনায় পড়ে গেছেন।

গতকাল সরেজমিনে মালিবাগ কাঁচাবাজারে দেখা যায়, বিআর-২৮ পাইজাম চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। মোটা চাল (স্বর্ণা চায়না ইরি) সরু চালের (মিনিকেট) দামও কোথাও কোথাও থেকে টাকা বাড়তি বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৫ এবং মানভেদে মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে অর্থাৎ ২৬ মার্চ তারিখে বাজারে মোটা চালের (স্বর্ণা, চায়না ইরি প্রতি কেজি মোটা চাল বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সরু চাল (নাজিরশাইল বা মিনিকেট) মানভেদে মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে চালের দাম প্রতিকেজিতে প্রায় টাকা বেড়েছে।

চাল বিক্রেতা হারুন-অর-রশিদ সংবাদকে বলেন, ‘প্রায় মাস খানেক সময় ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পাইকারি বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছিল। তখন বাড়ছিল টাকা টাকা করে। এখন তো সরকারই তেলের দাম বাড়ালো। এখন সেই দাম হু.. হু.. করে বাড়তে শুরু করেছে।

গতকাল বাজারে চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে যা এক সপ্তাহ আগেও ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ছিল। অন্যদিকে, প্যাকেট চিনির কেজি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত যা এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে চড়া। আগে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। খুচরা দোকানে পাড়া-মহল্লায় কোথাও কোথাও প্রতি হালি ডিমের দাম ৫০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ দাম পড়ছে দেড়শো টাকা ডজন।

তবে সোনালি ব্রয়লার মুরগির দর কমছে। খুচরা বিক্রেতারা ব্রয়লারের কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগেও সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এরআগে দাম ৪৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। গতকাল করলা, পটল বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

মাসখানেক আগে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়, বরবটি ১২০ টাকা, সাজিনা প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৭০ টাকা, গাঁজর প্রতি কেজি ৫০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং লাউ প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

গতকাল অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার পাঙ্গাস মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকায়। কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাবে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।

এর আগে সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত দামের তুলনায় এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলে লিটারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। নতুন সমন্বয়ে ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এখানে লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি দেখা গেছে। আর পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারে ১৯ টাকা বেশি। আর তেলের দাম বাড়তির খবরে বাজারের অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম, সংকটে স্বল্প আয়ের মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ইমরুল কায়েস। বেতন পান ৩০ হাজার টাকা। এই টাকার মধ্যেই বাড়িভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ খরচ, সন্তানের লেখাপড়া, গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাছে সামান্য খরচ পাঠানো- সব মিলিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। দিন দিন যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে তাতে এই ঢাকায় কতদিন টিকে থাকতে পারবেন তা নিয়ে সন্দিহান তিনি।

শুক্রবার কথা হয় তার সঙ্গে। হতাশা জানিয়ে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘আর হয়তো বেশিদিন ঢাকায় থাকতে পারবো না। খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে তো আর বেতন বাড়ছে না। ব্যবসায়িরা যেকোনো অজুহাতেই দাম দাম বাড়িয়ে দেয়। এভাবে তো আমার কোম্পানি বেতন বাড়ায় না। এভাবে চলতে থাকলে এই বছরটাও টিকতে পারবো না।

খরচে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বাজার করা কমিয়ে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গরু বা খাসির মাংস অনেক আগেই কেনা বন্ধ করেছিলাম। এখন নতুন করে ব্রয়লার পাঙ্গাস মাছও কিনতে পারছি না। কারণ, এই দুটি খাবার গরিবের খাবার হিসেবে ধরা হতো। এখন এই দুটি পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এই সপ্তাহে দেখলাম ডিমের দামও ডজনে বেড়েছে ৩০ টাকা। খরচে কুলিয়ে উঠতে না পেরে বাজার করাও কমিয়ে দিয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে জানি না এই বছরটা ঢাকায় থাকতে পারবো কি না।

এই অবস্থা শুধু ইমরুল কায়েশেরই নয়, অনেক পরিবার এখন হিমসিম খাচ্ছে সংসার চালাতে। বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ক্রেতারা বলছেন, দাম আগে থেকেই বাড়ছিল। এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে আরও দ্রুত গতিতে দাম বাড়াবে ব্যবসায়িরা।

আর খুচরা ব্যবসায়িরা বলছেন, তেলের দাম বাড়তির কথা বলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে গেছে। তাই তাদের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। এই অবস্থায় নাভিশ্বাস উঠছে স্বল্প আয়ের মানুষের। অনেকে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আবার অনেকে ধার-দেনায় পড়ে গেছেন।

গতকাল সরেজমিনে মালিবাগ কাঁচাবাজারে দেখা যায়, বিআর-২৮ পাইজাম চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। মোটা চাল (স্বর্ণা চায়না ইরি) সরু চালের (মিনিকেট) দামও কোথাও কোথাও থেকে টাকা বাড়তি বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৫ এবং মানভেদে মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে অর্থাৎ ২৬ মার্চ তারিখে বাজারে মোটা চালের (স্বর্ণা, চায়না ইরি প্রতি কেজি মোটা চাল বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সরু চাল (নাজিরশাইল বা মিনিকেট) মানভেদে মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে চালের দাম প্রতিকেজিতে প্রায় টাকা বেড়েছে।

চাল বিক্রেতা হারুন-অর-রশিদ সংবাদকে বলেন, ‘প্রায় মাস খানেক সময় ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পাইকারি বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছিল। তখন বাড়ছিল টাকা টাকা করে। এখন তো সরকারই তেলের দাম বাড়ালো। এখন সেই দাম হু.. হু.. করে বাড়তে শুরু করেছে।

গতকাল বাজারে চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে যা এক সপ্তাহ আগেও ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ছিল। অন্যদিকে, প্যাকেট চিনির কেজি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত যা এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে চড়া। আগে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। খুচরা দোকানে পাড়া-মহল্লায় কোথাও কোথাও প্রতি হালি ডিমের দাম ৫০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ দাম পড়ছে দেড়শো টাকা ডজন।

তবে সোনালি ব্রয়লার মুরগির দর কমছে। খুচরা বিক্রেতারা ব্রয়লারের কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগেও সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এরআগে দাম ৪৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। গতকাল করলা, পটল বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

মাসখানেক আগে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়, বরবটি ১২০ টাকা, সাজিনা প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৭০ টাকা, গাঁজর প্রতি কেজি ৫০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং লাউ প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

গতকাল অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার পাঙ্গাস মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকায়। কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাবে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।

এর আগে সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত দামের তুলনায় এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলে লিটারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। নতুন সমন্বয়ে ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এখানে লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি দেখা গেছে। আর পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারে ১৯ টাকা বেশি। আর তেলের দাম বাড়তির খবরে বাজারের অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত